ফিরে আসে আর হারায়…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রিচার্ড বার্টন ও এলিজাবেথ টেইলর দম্পতি ১৯৭৩ সালে টেলিভিশনের জন্য তৈরি সিনেমায় অভিনয় করেছিলেন। সিনেমার নাম ছিলো, ‘ডিভোর্স হিজ, ডিভোর্স হার’স’। সিনেমার পর্দা ও পর্দার বাইরে আলোচিত  ও সমালোচিত এই জুটি সেই সিনেমার নামটাকেই যেন সফল করেছিলেন ১৯৭৪ সালে বিবাহ বিচ্ছেদের পর্দা টেনে দিয়ে। কিন্তু ১৯৭৫ সালেই আবার দু‘জনের মিলন, আবার চারহাত জোড়া লাগা।নতুন করে আবার বিয়ে করলেন পর্দার সেই রোমান্টিক জুটি। এলিজাবেথ টেইলার আর রিচার্ড বার্টনের প্রেম ও প্রত্যাখ্যানের মাঝেও কাজ করতো অদ্ভুত এক রসায়ন যা তাদের বারংবার টেনে নিয়ে গেছে একে অপরের কাছে।

এলিজাবেথ টেইলার দ্বিতীয়বার বিচ্ছেদ সম্পর্কে মন্তব্য করতে গিয়ে বলেছিলেন, ‘বিয়ে পর্যন্ত সব ঠিকঠাকই ছিলো। কিন্তু তারপরই কোথাও একটা গোলমাল ঘটে গেলো। তবে আমি আপ্রাণ চেষ্টা করেছিলাম এবার সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে।’ আর রিচার্ড বার্টন কী বলেছিলেন? তার উত্তর ছিলো,‘আমরা দুজনেই আসলে উত্তেজনাকর একটি আগ্নেয়গিরির একেবারে কিনারায় বসবাস করা মানুষ। আমি হয়তো তথাকথিত দাম্পত্য জীবনের জন্য উপযোগী কেউ নই।

দু‘জন মানুষের মাঝে ঘর ভাঙা আর ঘর গড়ার খেলাটা শুরু হয়েছিলো বিগত শতাব্দীর ষাটের দশকের গোড়ায়। ‘ক্লিওপাট্রা’ সিনেমার শ্যুটিং শুরু হয় ১৯৬২ সালে। সেই শ্যুটিংয়ের সেটেই এলিজাবেথ টেইলরের ভালো লেগে যায় পর্দার মার্ক অ্যান্টনিকে। মাতাল রিচার্ড বার্টন সেটে তাঁর কাছে কফি চেয়েছিলেন। প্রশ্ন করেছিলেন, ‘কেউ কি তোমাকে বলেছে তুমি অপূর্ব?’ ভালোবাসার শুরুটা সেখান থেকেই। তারপর থেকে এক সমুদ্রের ঢেউয়ের মতো এই দু’জন মানুষ একে-অপরের চেতনার সৈকতে আছড়ে পড়েছেন, আবার দূরে সরে গেছেন। এলিজাবেথ টেইলার একটি পত্রিকার সঙ্গে সাক্ষাৎকারে বলেছিলেন, তিনি প্রথম দেখাতেই বার্টনের প্রেমে পড়েছিলেন। সেই ভালোবাসার রেশটুকু একেবারে কাটেনি কখনোই।

পৃথিবী ওলটপালট করে ভালোবাসায় নিমজ্জিত হয়েছিলেন রূপালী পর্দার এই দুই চরিত্র। প্রায় ছোটগল্পের মতো খোদ অসমাপ্ত প্রেমের চেতনা দু’জনকেই যেন তাড়া করে ফিরেছে জীবনে। দু’জনই মদ্যপ ছিলেন। বেসামাল জীবনে তাই পায়ে পায়ে ছিলো তাদের শত্রু। অতিরিক্ত মদ্যপান গড়িয়েছে বিরোধে, পৌঁছে গেছে বিচ্ছেদে।আবার দু’জন কাছে এসেছেন, ভালোবেসেছেন। ঘুরে বেড়িয়েছেন পৃথিবীর দেশে দেশে। বিভিন্ন তারকাখচিত হোটেলের ঘরের দেয়াল জেনেছে তাদের প্রণয়কাব্য। কিন্তু তারপর আবার নেমে এসেছে রিচার্ড বার্টনের ভাষায় ‘খুনী বিচ্ছেদ’। দু’জন ছিটকে গেছেন মেরুদূরে।

দু’জনকে আবার একসঙ্গে দেখা যায় ১৯৮৩ সালে নাটকের মঞ্চে। পরিচালক নোয়েল কাওয়ার্ডের ‘প্রাইভেট লাইভস’ নাটকের অভিনেতা-অভিনেত্রী তারা। নাটক সমাদৃত না-হলেও তারা আবার কাছে চলে এসেছিলেন। কিন্তু এবার বাধা দিলো মৃত্যু। একই বছরের আগস্ট মাসে ঘুমের মধ্যেই পৃথিবীকে বিদায় বললেন রিচার্ড বার্টন। ৫৮ বছর বয়সে সেরিব্রাল অ্যাটাকে মৃত্যু।

না, রিচার্ড বার্টনের শেষকৃত্য অনুষ্ঠানে হাজির হননি এলিজাবেথ টেইলার। সাংবাদিকদের জানিয়েছিলেন, মৃত্যুর কয়েক বছর আগে তাকে চিঠি লিখেছিলেন রিচার্ড বার্টন। সেই চিঠিতে ছিলো ফিরে আসার আকুতি।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ বায়োগ্রাফি
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box