ফ্যাশন ও ডিজাইনের রাজধানী মিলান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আবু তাহের মুহাম্মদ জাবের

ফ্যাশন ও ডিজাইনের রাজধানী হিসেবে খ্যাত উত্তর ইতালীর লোম্বার্দিয়া অঞ্চলের রাজধানী এবং ইতালির বানিজ্যিক রাজধানী খ্যাত মিলানকে ফ্যাশন ও ডিজাইনে স্বর্গ বলা হয়। উৎসব আর মেলার শহর মিলানে সারা বছর মেলা আর উৎসব লেগেই থাকে। নক্ষত্রমন্ডলের উজ্জ্বলতম তারার মতো মিলানকে বিবেচনা করা হয় বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় শহর হিসেবে যেখানে চিত্রকলা, বাণিজ্য, ডিজাইন, ফ্যাশন, শিক্ষা, বিনোদন, অর্থ, স্বাস্থ্যসেবা, মিডিয়া, গবেষণা এবং পর্যটন সবকিছুই অত্যন্ত মজবুত ভিত্তির উপর দাঁড়িয়ে আছে।

খৃষ্টপূর্ব ৬০০ অব্দে গোড়া পত্তন হওয়া মিলান একটি বিজনেস ডিস্ট্রিক ও ইতালীর স্টক একচেঞ্জের কেন্দ্র এবং জাতীয় ও আন্তজার্তিক অনেক কোম্পানীর প্রধান অফিস। জিডিপি বিবেচনায় মিলান হচ্ছে ইউরোপীয় ইউনিয়নের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতির কেন্দ্র, প্যারিসের পরই এর অবস্থান। রাজধানী নয় ইউরোপের এমন শহরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সম্পদশালী শহর মিলান পৃথিবীর চারটি ফ্যাশন রাজধানীর অন্যতম। এ শহরে অনেক আন্তর্জাতিক অনুষ্ঠান ও মেলা আয়োজন হয়। মিলানে মেলার জন্য নির্ধারিত একটি স্থানই রয়েছে, যা “মিলান রোফেয়েরা” নামে পরিচিত। একটি আন্তর্জাতিক পর্যটন মেলা ‘বি আই টি মিলানো’তে বাংলাদেশ দলের প্রধান হয়ে মিলান গিয়েছিলেন ৮ ফেব্রুয়ারি ২০১৯ শে। আমার সঙ্গে ছিলেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মো: জাহিদ হোসেন, বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ডের সহকারী পরিচালক মহিবুল ইসলাম এবং বাংলাদেশ পর্যটন কর্পোরেশনের ব্যবস্থাপক মো: সরওয়ার উদ্দিন। এ মেলায় এশিয়া, আফ্রিকা, উত্তর আমেরিকা, ল্যাটিন আমেরিকা, ইউরোপ এবং অষ্ট্রেলিয়া থেকে তিন শতাধিক টিম অংশগ্রহণ করে। খুবই আকর্ষণীয় ছিলো বিভিন্ন দেশের প্যাভেলিয়ন। বাংলাদেশ থেকে ট্যুর অপারেটররা এসেছিলেন মেলায় অন্যান্য দেশের ট্যুর অপারেটরদের সঙ্গে যোগাযোগ ও সংযোগ স্থাাপনের লক্ষ্যে।

মিলান ক্যাথেড্রাল

আমাদের দেশের যে ৪ জন ট্যুর অপারেটর অংশগ্রহণ করেন তারা হলেন রিভারাইন ট্যুরস এর সৈয়দ মাহবুবুল ইসলাম, ট্রাভেল কাইটস এর মো: আবদুল্লাহ আল কাফি, টাচ ক্রিয়েশন লি: এর মুহাম্মদ মাহবুব হোসেন, ট্যুরিজম উইন্ডো’র মো: মনিরুজ্জামান মাসুম। অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী মেলায় এসেছিলেন। তারা বাংলাদেশের প্যাভেলিয়নে এসে আনন্দ প্রকাশ করেন। আমাদের প্যাভেলিয়নে বাংলাদেশের পর্যটন উপকরণ ব্রশিউর, ডকুমেন্টারী এবং ভিডিও চিত্র ছাড়াও ছিলো মেয়েদের কপালে পরার টিপ। ইতালিয়ান এবং অন্যান্য দেশের বিভিন্ন বয়সের রমনীদের দীর্ঘ লাইন পড়ে গিয়েছিলো কপালে টিপ ধারণ করার জন্য। খুবই সাধারণ একটি উপহারের এমন অসাধারণ কদর দেখে আমি সত্যিই অবাক হই। অনেকে আগ্রহ ভরে হাতে মেহেদীও দিয়েছেন। কনস্যুলেট জেনারেল বাংলাদেশ মিলান এর একজন নারী সহকর্মী মেহেদীর কারুকাজ করেছেন আগ্রহী ও উৎসাহী বিদেশীনিদের হাতে।

কনস্যুলেট জেনারেল বাংলাদেশ, মিলানের তিনজন কর্মকর্তা কনসাল জেনারেল ইকবাল আহমেদ, কনসাল ও হেড অব চ্যাঞ্চেরী এ.কে.এম. সামছুল আহসান এবং শ্রম কল্যাণ উইং এর কনসাল মোহাম্মদ রফিকুল করিম এর আন্তরিক সহযোগিতা, আতিথেয়তা ভুলবার নয়। এই তিন কর্মকর্তার সুদৃঢ় বন্ধন, উদ্যোগ ও সহায়তা শেখার মতো, মনে রাখার মতো। বাংলাদেশ টিমের সরকারী বেসরকারী ৮ জন প্রতিনিধির সকলেই তাদের আতিথেয়তায় মুগ্ধ।

মিলানে প্রতিবছর গড়ে ৮০ লক্ষ বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটে। তারা মিলানে দেখতে আসেন লিউনার্দো দ্যা ভিঞ্চির উল্লেখযোগ্য সব সৃষ্টিসহ পৃথিবীর বিখ্যাত সব চিত্রকর্মের সংগ্রহ। এখানে রয়েছে আর্ট গ্যালারী, মিউজিয়াম, কালচারাল ইন্সটিটিউট, একাডেমী ও বিশ্ববিদ্যালয়। বহু বিদেশী ছাত্র-ছাত্রী পড়াশুনা করে এ সকল বিশ্ববিদ্যালয়ে। এটি ইউরোপের বিখ্যাত ফুটবল টিম এ.সি মিলানের শহর।

একনায়ক মুসোলিনির শহর মিলান। এ শহরেই তার রাজনৈতিক ও সাংবাদিকতা জীবনের সুচনা। এখানেই তিনি তার প্রথম ফ্যাসিবাদী সমাবেশ করেন এবং এই ফ্যাসিবাদী একনায়ক ২৮ অক্টোবর ১৯২২ সালে রোম অভিমূখে লং মার্চ করার ঘোষণা প্রদান করেন। মুসোলিনির কারণে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় মিত্র বাহিনীর বোমার আঘাতে মিলানের পরিবহন ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ১৯৪৩ সালে যখন ইতালী আত্মসমর্পণ করে তখন জার্মান সৈন্যরা ইতালী দখল করে মিলানে ব্যাপক লুন্ঠন চালায়। এর ফলে মিলানের অর্থনীতি মারাত্মক বিপর্যয়ের মধ্যে পতিত হয়।

মিলানের আবহাওয়া উত্তর ইতালীয় অভ্যন্তরীণ সমভূমির আবহাওয়ার মতই। এখানে গ্রীষ্মকাল গরম ও আদ্র, শীতকাল ঠান্ডা ও কুয়াশায় আবৃত্ত। আল্পস এবং অ্যাপেনাইন পর্বতমালা একটি প্রাকৃতিক বৃত্ত তৈরী করে রেখেছে, যা মিলান শহরকে উত্তর ইউরোপ ও সমুদ্র থেকে আসা প্রাকৃতিক দুর্যোগ থেকে রক্ষা করে চলেছে। শীতে তাপমাত্রা শূন্য ডিগ্রি সেলসিয়াসের নীচে নেমে যায় এবং তুষারপাত হয়। ১৯৬১ থেকে ১৯৯০ সাল পর্যন্ত গড়ে ১০ ইঞ্চি বরফ পড়েছে।

গ্যালারিয়া ভিক্টোরিয়া দ্বিতীয় ইমানুয়েলj

মিলান শহরে প্রতি বছর গড়ে সাতদিন তুষারপাত হয়ে থাকে। একসময় শহরটি প্রায়ই কূয়াশায় ডুবে থাকতো। তবে দক্ষিণাঞ্চল থেকে ধান ক্ষেত অপসারণ এবং নগর জীবনের উত্তাপের কারণে এই প্রবণতা খানিকটা হ্রাস পেয়েছে। গ্রীষ্মকালে মিলানের আবহাওয়া খুবই আর্দ্র থাকে এবং তাপমাত্রা গড়পরতা ৩৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের উপরেই থাকে। সাধারণভাবে এ সময় মিলানের আকাশ খুবই পরিষ্কার থাকে এবং গড়ে ১৩ ঘন্টা দিনের আলো বিদ্যমান থাকে। এ সময়ে, মাঝে মাঝে বিদ্যুৎ চমকায় এবং শিলাবৃষ্টি হয়। শরৎ এবং বসন্ত খুবই আরামদায়ক ও স্বস্তির সময়। এসময় তাপমাত্রা ১০ থেকে ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকে। প্রচন্ড বৃষ্টিপাত হয় এপ্রিল মে মাসে। এসময় মৃদুমন্দ বায়ূ থেকে ঝড়ও হয়ে থাকে। তবে বেড়ানোর জন্য শরৎ, বসন্ত এমনকি শীতও আনন্দদায়ক সময়। এই শহরটি ইতালির অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ। সারা বছর ব্যবসায়ী আর পর্যটকদের আনাগোনা লেগেই থাকে মিলানে। অনেক আকর্ষণীয় বিষয় আছে মিলানে যা পর্যটকদের মিলানে আসতে আগ্রহী করে তুলে তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি জায়গা হলো:

মিলান ক্যাথেড্রাল

মিলান ক্যাথেড্রাল ডুমো ডেল মিলানো নামে পরিচিত। এটি মিলানের অত্যন্ত গুরুত্বপুর্ণ ও আকর্ষনীয় ক্যাথেড্রাল গীর্জা মিলানের আর্চবিশপের আসন। ক্যাথেড্রালটি নির্মাণ সম্পূর্ণ হতে প্রায় ছয়শ’ বছর লেগেছে। ১৩৮৬ সালে এর কাজ শুরু হয়ে সম্পন্ন হয়েছে ১৯৬৫ সালে। ইতালির বৃহত্তম এই গীর্জা ১৩৮৬ সালে আর্চবিশপ আন্তোনিও দা সালুজ্জো নির্মাণ শুরু করেন। তার পরিকল্পনাটি চার পাশের পায়ে চলার পথসহ চার্চের একটি কেন্দ্রীয় অংশ নিয়ে গঠিত। চার্চের একটি কেন্দ্রীয় অংশের উচ্চতা প্রায় ৪৫ মিটার (১৪৮ ফুট), সম্পূর্ণ গির্জার ধনুক আকৃতির ছাঁদ সর্বোচ্চ ৪৮ মিটার। ছাদটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত, যা অনেকগুলি দর্শনীয় ভাস্কর্যের অনাবিল দৃশ্য দেখার সুযোগ করে দেয়। ক্যাথেড্রালটি বেশ কয়েকটি ভিন্ন ভিন্ন স্টাইলে কয়েক‘শো বছর ধরে নির্মিত হয়েছিলো। ক্যাথেড্রাল ডুমো মিলানের পর্যটন আকর্ষণের শীর্ষে রয়েছে। ক্যাথেড্রাল চুড়ায় রয়েছে একটি স্বর্ণের মুল্যবান মুর্তি যা একনজর দেখতে দেশ বিদেশের লাখ লাখ দর্শনার্থীরা ভীড় জমায়। মিলান এসে ক্যাথেড্রাল ডুমো না দেখে কোন পর্যটক সাধারণত ইটালি ত্যাগ করে না।

গ্যালারিয়া ভিট্টোরিয়া দ্বিতীয় ইমানুয়েল

লা স্কেলা

এটি ইটালির প্রধান ল্যান্ডমার্ক হিসেবে বিবেচিত, চারতলা ভবন বিশিষ্ট গ্যালারিয়া ভিট্টোরিয়া দ্বিতীয় ইমানুয়েল ইটালির সবচেয়ে পুরোনো শপিং মল, যা এখনও চালু রয়েছে। ইটালি প্রজাতন্ত্রের প্রথম রাজা ভিক্টর ইমানুয়েল দ্বিতীয় এর নামানুসারে গ্যালারিটির নামকরণ করা হয়েছে। ১৮৬১ সালে এর ডিজাইন করা হয় এবং গুসেফ মেংগনি নামক একজন আর্কিটেক্ট ১৮৬৫-১৮৭৭ সালে এটি নির্মাণ করেন। মিলান গ্যালারি এবং এর ছাদ গ্লাস ও লোহা দ্বারা নির্মিত উনিশ শতকের স্থাপনাসমূহের কথা মনে করিয়ে দেয়। অসংখ্য দোকান এবং মিটিং ও ডাইনিং প্লেসের জন্য গ্যালারিটি মিলানের ড্রয়িং রুম হিসেবে পরিচিত।

লা স্কেলা

লা স্কেলা ১৭৭৮ সালে নির্মিত মিলানের একটি অপেরা হাউজ। প্রাথমিকভাবে এটি নতুন রয়েল ডুকাল থিয়েটার নামে পরিচিত ছিলো। ইটালির বেশিরভাগ বিখ্যাত অপেরা সংগীত শিল্পী এবং বিশ্বের বিখ্যাত সব সংগীত শিল্পীরা এই অপেরা হাউজে সংগীত পরিবেশন করেছেন। থিয়েটারটি বিশ্বের শীর্ষস্থানীয় অপেরা ও ব্যালেট থিয়েটারগুলির একটি । লা স্কেলা থিয়েটার কোরাসের জন্মস্থল হিসেবে পরিচিত। থিয়েটারটির সঙ্গে একটি স্কুল রয়েছে যা লা স্কেলা থিয়েটার একাডেমী নামে পরিচিত। যেখানে পেশাদার গান, নাচ, স্টেজ পারফরমেন্স এবং ম্যানেজমেন্ট বিষয়ক প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। লা স্কেলা সিজন প্রতি বছর ৭ ডিসেম্বর তারিখে চালু করা হয় যা মধ্যরাত পর্যন্ত চলতে থাকে।

ক্যাসেলো ফোরযেস্কো

ক্যাসেলো ফোরযেস্কো উত্তর ইটালির মিলানে অবস্থিত। ডিউক অব মিলান ফ্রান্সিসকো ফোরযা কর্তৃক ১৫ শতকে ক্যাসেলো ফোরযেস্কো নির্মাণ করা হয়েছিল। ১৬ এবং ১৭ শতকে এর সংস্কার সম্পন্ন করে বৃহৎ আকার দেয়ার ফলে তা ইউরোপের সর্ববৃহৎ নগর দূর্গে পরিণত হয়েছে। ক্যাসেলো ফোরযেস্কো বর্তমানে মিউজিয়াম এবং কৃষ্টি কলার সংগ্রহশালা হিসেবে পরিচিত।

পল্ডি পেজ্জলি মিউজিয়াম

পল্ডি পেজ্জলি মিউজিয়াম মিলানের একটি আর্ট মিউজিয়াম। মিউজিয়ামটি ১৯ শতকে যাত্রা শুরু করলেও প্রাথমিকভাবে এটি পল্ডি পেজ্জলির ব্যক্তিগত সংগ্রহশালা হিসেবে ব্যবহৃত হতো। ১৮৪৬ সালের শুরুর দিকে মিউজিয়ামটির অনেকগুলো কক্ষ সংস্কার করা হয়। দেয়ালো ঝোলানো শিল্পকর্মের রঙের উপর ভিত্তি করে প্রত্যেকটি কক্ষ সজ্জিত করা হয়েছে। আর্কিটেক্ট সিমনি ক্যান্থনি নিওক্লাসিকাল স্টাইলে মিউজিয়ামটি পুনঃনির্মাণ করেন যেখানে ইংলিশ স্টাইলে অভ্যন্তরীণ বাগানটি সজ্জিত করা হয়। মিউজিয়ামটি ইটালিয়ান ও নেদারল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ দ্রব্যাদির সংগ্রহশালা হিসেবে বিখ্যাত। এর প্রদর্শনীতে বিভিন্ন অস্ত্র, গ্লাস, সিরামিক, জুয়েলারি ও আসবাবপত্র রয়েছে।

পিজ্জা ডেল ডোমো

সান্তা মারিয়া ডেল গ্রাজি

সান্তা মারিয়া ডেল গ্রাজি মিলানের একটি চার্চ যা ইউনেস্কো কর্তৃক স্বীকৃত বিশ্ব ঐতিহ্য। চার্চটিতে লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চি কর্তৃক সৃষ্ট দি লাস্ট সাপারের মুরাল রয়েছে। ডিউক অব মিলান ফ্রান্সিসকো ডোমিনিকান কনভেন্ট চার্চটি নির্মাণের নির্দেশনা প্রদান করেছিলেন। গুইনফোর্টে সোলারি নামক একজন আর্কিটেক্ট এর ডিজাইন করেন যা ১৪৬৯ সালে সমাপ্ত হয়। এর নির্মাণ সম্পন্ন হতে শত বছর সময় লাগে। ডিউক লোভিডিকো স্ফোরযা একে স্ফোরযা পরিবারের সমাধিস্থল হিসেবে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধের সময়ে মিত্রবাহিনীর বোমার আঘাতে চার্চটির অধিকাংশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হয়। পরবর্তীতে বেশ কয়েকবার সংস্কারের মাধ্যমে বর্তমান অবস্থায় নিয়ে আসা হয়েছে।

রয়েল প্যালেস অব মিলান

বহু শতাব্দী ধরে ইতালির নগর মিলান সরকারের আসন রয়েল প্যালেস অব মিলান বর্তমানে একটি সাংস্কৃতিক কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহৃত হয়, যা আন্তর্জাতিক শিল্প প্রদর্শনীর আবাসস্থল। ৭০০০ বর্গ মিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত রয়েল প্যালেস অব মিলান একটি আধুনিক ও সমসাময়িক শিল্পকর্মের উল্লেখযোগ্য সংগ্রহশালা। প্রতিবছর দেড় হাজরেরও বেশি অসাধারণ শিল্পকর্ম প্রদর্শন করা হয়। মূলত দুটি উঠোন একীভূত করার জন্য তৈরি করা হয়েছিলো। পরে ক্যাথেড্রাল তৈরি করার জন্য এটি ভেঙে ফেলা হয়েছিল। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিমান হামলার ফলে সাংঘাতিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ এই বিল্ডিংয়ের মূল তলায় স্তম্ভরূপে ব্যবহৃত নারীমূর্তির বিখ্যাত হলটি পাওয়া যাবে।

এছাড়াও মিলানের আকর্ষনীয় এবং পর্যটকদের জন্য নান্দনিক এলাকা পর্তা জেনেভা। যেখানে দুইধারে রাস্তা আর মধ্যে বয়ে চলা অপরুপ সৌন্দর্য্যময় ছোট খালের স্বচ্ছ জলের স্রোতধারা এবং অসাধারণ রুচিকর ইতালিয় খাবারের রেষ্টুরেন্ট। অন্যদিকে মিলান সেন্ট্রাল স্টেশনের অদূরে রয়েছে পিয়াসসা লিমা ভিয়া করসোবনোসাইরেজ। এটি একটি রাস্তার নাম যেখানে গাবানা, আরমানি, এডিডাস, নাইক, জিওক্স, জারা সহ বিশ্বের নামিদামি ব্রান্ডের বিভিন্ন পোশাক ও প্রসাধনীর শপিংমলগুলো রয়েছে। অসাধারণ সৌন্দর্যময় শহর মিলান পর্যটকগণকে ভীষণভাবে আকৃষ্ট করে।

ছবি: গুগল

লেখক: পরিচালক (যুগ্ম সচিব),বাংলাদেশ ট্যুরিজম বোর্ড


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments