বইটা বেড়ালের

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

রুদ্রাক্ষ রহমান

একটা বই কখন খুব মনোযোগ দিয়ে পড়া হয়? সোজা জবাব, বইটা পড়তে গিয়ে যখন ভালো লাগে। মজা পাওয়া যায়। আর তার ভেতর নতুন শব্দ, বাক্য আর কথার ঝলক যদি থাকে। আর যদি থাকে গল্প। ২০২০ সালে, রিটন ভাই মানে, এখন স্বীয় কর্মে খ্যাতিমান বাঙালিদের একজন লুৎফর রহমান রিটন, অনেক সমুদ্র, অনেক নদীর ওপার আমেরিকা-কানাডা থেকে অনেকগুলো গল্প নিয়ে এসেছেন। সেই গল্প একটা বিড়াল বা অনেক বেড়ালকে নিয়ে। গল্পগুলো ভালোবাসার ছোঁয়ায় ছোঁয়ায় তিনি লিখেছেন তার পাঠকের জন্য। এবং তা বই হয়েছে প্রকাশিত অমর একুশের এবারের গ্রন্থমেলায়। বইয়ের নাম-‘বেড়ালের গল্প’। ২১শে ফেব্রুয়ারির দুপুরবেলা বইটি মেলা থেকে কেনার পর এখনো সঙ্গ ছাড়তে পারিনি। বইয়ের প্রচ্ছদে রিটনকন্যা নদীর বেড়াল ‘কিটক্যাট ’কে বুকে জড়িয়ে রিটন ভাইয়ের হাসিমুখ ছবিটি ভীষণ আলো ছড়ানো। অনেক কথা বলে ছবিটি। যখন তখন ছবিটা দেখতে ইচ্ছে করে। আমাদের ঘরে আমি ছাড়া আর চারজন থাকি আমরা। কন্যা রাদো, পুত্র রারা, স্ত্রী রাশু আর আমাদের বেড়াল মিকিতা বা মিকু। মিকুকে কোলে নিয়ে কিটক্যাটের ছবি দেখায় রাদো। গল্প শোনায়। রারা কিটক্যাটের গল্প শোনায় আমাকে, আমি শোনাই তাকে। মাঝে মাঝে বিকেলে আমাদের ঘরে যখন অন্য বাড়ির ছোটরা আসে তখন তারাও ‘বেড়ালের গল্প’ বইটা হাতে নেয়। পাতা উল্টায়। কিটক্যাটের ছবি দেখে, গল্প পড়ে খুশি হয়।

ক’দিন আগে হাতে পেয়েছি জগতমাতানো মানুষ চার্লি চ্যাপলিনের ‘আমার জীবন’। সুশোভন মুখোপাধ্যায়ের অনুবাদে বইটির পাতায় পাতায় সময় আর জীবনের গল্প। এই বইয়ের সঙ্গে ঘুরে ফিরে আমি পড়ছি ‘বেড়ালের গল্প’। ‘এই পৃথিবীটা একজন মানুষের যেমন, তেমনি একটা গুবরে পোকারও। একটা ঘাস ফড়িং-এরও। এবং একটা পিঁপড়েও।’ কী দারুণ করে ভেবেছেন রিটন ভাই। কী সহজ করে বলেছেন ভাবনাটা। লিখেছেন তা। সত্যি তো। আমরা নিজেরাই নিজেদের সৃষ্টির সেরা বলে এক ধরনের আধিপত্য নিয়ে নিলাম। কত কত প্রাণ, কত কত প্রাণি তারা কেমন আছে, কোথায় আছে, তারা বাঁচে কী করে, কথা বলে, খায় কী করে, ভালোবাসে কী করে; আমরা জানতেও চাইলাম না! হয়তো বেঁচে থাকার প্রয়োজনে প্রথমকালের মানুষ বনের পশুদের ‘শত্রুপক্ষ’ জ্ঞান করেছে। তাই বলে এখনো? এখনো বলতে হবে- ‘কুকুরের মতো পেটাতে হবে, পাখির মতো গুলি করে মানুষ মারছে’- এসব? রিটন ভাই, একটা বেড়ালের গল্প, একটা কিটক্যাটের গল্প দিয়ে দুনিয়ার সব বেড়ালের গল্প বলবার চেষ্টা করেছেন। এবং আমি এবার বই মেলায় দেখেছি ছোটোরা, বড়োরা লাইন দিয়ে বেড়ালের গল্প সংগ্রহ করেছেন। এটাতো ঠিক, রিটন ভাইয়ের অনেক অনেক পাঠক আজ অনেক অনেক বড়। তাদের ছেলেপিলেও হয়েছে। তাই দুই প্রজন্ম কিনেছেন বেড়ালের গল্প। রিটন ভাই তার নিজস্ব স্টাইলে ছড়া নিয়ে নিজের মতো করে সাম্রাজ্য সৃষ্টি করেছেন।

গল্প-উপন্যাস-মানুষকথা- অনেক, অনেক অনেক বই লিখেছেন। বেড়াল নিয়ে আলাদা করে এটা তার প্রথম বই। এবং আমি হলফ করে বলছি, এই বইটা তাকে অন্যভাবে চিনিয়ে দেবে। তিনি ঘরে ঘরে ভিন্ন ভালোবাসা পাবেন। বইয়ের পাতায় পাতায় থাকা গল্প, ছবি ছোটোদের, বড়োদের বার বার নিয়ে যাবে ভালোবাসার নিজের ঘরে। অনেক কিছুতো আছেই, রিটন ভাইয়ের পেছনে ফেলা যাওয়া মায়া মেখে থাকা পুরান ঢাকায় কুকুর নিধনের নিষ্ঠুর দৃশ্য। আছে টোকিও-তে ঘরহারা বা ছাড়া বুড়োর বেড়ালপ্রেম। আছে ‘অপটিমাস প্রাইম’ নামে ছোট্ট এক বেড়াল ছানার চির বিচ্ছেদকাহিনি! আর আছে কিটক্যাট নামে এক জাদুকর বেড়ালের গল্প যে প্রেমে-মায়ায়-ভালোবাসায় মানুষকে বেঁধে ফেলতে জানে। লেখক লুৎফর রহমান রিটন সেই মায়ার জালে আটকে থেকে আমাদের বলেছেন ‘বেড়ালের গল্প’ যা হাতে পেয়ে, পাঠে আনন্দ পাচ্ছি। এমন আনন্দ দেয়ার জন্য লেখককে ধন্যবাদ এবং আমি চাইছি তিনি কানাডার শীত ও ঝরাপাতা নিয়ে একটা বই লিখবেন। ঝরাপাতার এতো রূপ, এতো বর্ণ হয়!

ছবি: বই থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]