বই বিক্রিতে অদ্ভুত যত ছবি

রাশিয়ার সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের এক বইয়ের দোকান এখন বইপোকা পাঠক আর পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে উঠেছে।পিটার্সবুর্গ শহরের এই বইয়ের দোকানের শাটার খোলা হয়েছিলো ১৯২৬ সালে। বহু বছর ধরে চলা এই দোকানটি হঠাৎ করেই পর্যটকদেরও আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠার একটি বড় কারণ ইনস্টাগ্রামে তাদের অ্যাকাউন্টে বইয়ের বিজ্ঞাপনের ভিন্নধর্মী উপস্থাপনা। এ-সব ছবির কম্পোজিশন আর উপস্থাপন এখন এই শহরে পাঠক আর বেড়াতে আসা মানুষদের টেনে আনছে দোকানটিতে। বইয়ের দোকান জানাচ্ছে, ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টে তাদের অনুসারী সংখ্যা এখন ২,০০০০০।

বইঘরের নামটা রুশ ভাষায় বেশ খটমটে-পডপিসনি ইজদানিয়া। কিন্তু খটমটে নাম আটকাতে পারেনি নতুন যুগের পাঠক আর পর্যটকদের। ২০১৩ সাল থেকে দোকানের কর্তৃপক্ষ ইনস্টাগ্রামে তাদের সংগ্রহের নানা ধরণের বইয়ের ছবি পোস্ট করতে শুরু করে।কিন্তু তখনও দোকানের কাউন্টারে হুমড়ি খেয়ে পড়েনি পাঠক। কিন্তু যখনই তারা ভিন্ন কম্পোজিশনে সাজিয়ে ছবি তুলে পোস্ট করতে শুরু করলো, তখনই ঘটে গেলো ম্যাজিক। এই ছবিরর টানে জমজমাট হয়ে উঠলো দোকান।

ছবি তোলার জন্য কিন্তু দোকান মালিকরা আলাদা মডেল আর ফটোগ্রাফার নিয়োগ করেননি। তাদের ক্রেতারাই হয়ে যাচ্ছেন তাদের মডেল। কখনো কখনো দোকানের কর্মীরাও ছবির সাবজেক্ট।

৬০ বছরের পুরনো এই বইয়ের দোকানে বইয়ের পাশাপাশি আছে ছোটখাট একটি কফিখানা আর গিফট শপ। বই কেনার পাশাপাশি পাঠকরা এখানে গলাও ভিজিয়ে নেন। ইনস্টাগ্রামে পোস্ট করার জন্য ছবিগুলো তোলেন দোকানেরই এক নারী কর্মী লিনা লিবো। এই দোকানের জনসংযোগ কর্মকর্তা আরিনা গ্রমিকো জানান, লিনার মাথাতেই প্রথম আলাদা কিছু দিয়ে সাজিয়ে ছবি তোলার বুদ্ধিটা আসে। ছবিগুলো ইনস্টাগ্রামে জনপ্রিয়তা পেতে শুরু করে দ্রুত। ধীরে ধীরে দোকান কর্তৃপক্ষ ছবি তোলার জন্য নিজেদের কর্মচারীদের ৪ জনের একটি দলও গড়ে তোলে। আরিনার ভাষায়, দোকানে বই কিনতে আসা পাঠকরাও এরকম ছবি তুলতে বেশ আগ্রহী। প্রথম দিকে দোকানের ভেতরেই তারা ফটো সেশনের ব্যবস্থা করলেও এখন ছবি তোলার জন্য বাইরেও যেতে হচ্ছে। সম্প্রতি তারা ছবির জন্য একটি সুইমিং পুলও ভাড়া নিয়েছিলেন। শহরের বিভিন্ন এলাকায় পাঠক অথবা দোকানের কর্মীদের নিয়ে গিয়ে তারা নিয়মিত ছবি তুলছেন এখন। তাদের এই প্রচার প্রসার ঘটাচ্ছে বই বিক্রিতেও।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ রাশিয়া বিয়ন্ড
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box