বঙ্গবন্ধু লিখে চলেছেন এক কবিতা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফুলের জলসায় নীরব হয়ে থাকা এক কবি যেনো তিনি। কবিতাই তো লিখতে চেয়েছিলেন। একটা দেশ, দেশের স্বাধীনতা আর মানুষের মুক্তির কথা ভেবে গেছেন অবিরাম। কবিতা লিখেছেন এক ভিন্ন ছন্দে। সেই ছন্দের নাম রাজনীতি, সেই ছন্দের নাম স্বপ্ন। এমন ছন্দে গোটা দুনিয়ায় কেউ কি লিখেছে কবিতা? হয়তো নয়। কিন্তু তিনি লিখেছিলেন। মানুষটা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। অনেক রক্ত, অনেক কান্না আর ত্যাগের বিনিময়ে তিনি-ই লিখেছিলেন বাংলাদেশের জন্য এক অনন্য কবিতা। আজ তাঁর ৯৯তম জন্মদিনে প্রাণের বাংলার পক্ষ থেকে তাঁকে জানাই গভীর শ্রদ্ধা।

পৃষ্ঠা উল্টাই বঙ্গবন্ধু’র অসমাপ্ত আত্নজীবনী গ্রন্থের । তিনি লিখছেন,‘বন্ধুবান্ধবরা বলে, ‘‘তোমার জীবনী লেখ। সহকর্মীরা বলে, ‘‘রাজনৈতিক জীবনের ঘটনাগুলি লিখে রাখ, ভবিষ্যতে কাজে লাগবে।’’ আমার সহধর্মিণী একদিন জেলগেটে বসে বলল, ‘‘বসেই তো আছ, লেখ তোমার জীবন কাহিনী।’’ বললাম, ‘‘লিখতে যে পারি না; আর এমন কি করেছি যা লেখা যায়!’’

বাবা-মায়ের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু

ফরিদপুর জেলার গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া গ্রামে জন্ম নেয়া সেই আকাশ ছুঁয়ে ফেলা মানুষটি যখন বলেন ‘‘এমন কি করেছি যা লেখা যায়!’’ তখন চমকে উঠতে হয়। যিনি একটি দেশকে বেঁচে থাকার স্বপ্ন তৈরি করে দিয়েছিলেন, যিনি একটি দেশের স্বাধীনতার লড়াইকে মূর্ত করেছিলেন তিনি লিখেছেন এমন কথা?

জেল-জুলুম-নিগ্রহ-নিপীড়ন তাকে নিয়ত তাড়া করে ফিরেছে। কিন্তু একজন রাজনীতিকের জীবন এমন আঘাতে কখনো পিছিয়ে পড়েনি। শোষণ আর পরাধীনতার প্রেক্ষাপটের ভেতর দিয়ে যাত্রা তাঁর। স্বপ্ন দেখেছেন, মানুষকে স্বপ্ন দেখিয়েছেন। সে স্বপ্ন স্বাধীনতার স্বপ্ন, সে স্বপ্ন শোষণের নিগড় ভেঙ্গে মুক্তির স্বপ্ন।

একদিনে তৈরি হননি এই দীর্ঘাকায় মানুষটি। একটু একটু করে এই বাংলার মানুষের মধ্যে, তাদের দুঃখ, বেদনা আর সংগ্রামের ভেতরে নিজেকে গ্রোথিত করেছেন। পাকিস্তানী শাসকরা কি তখন ভেবেছিলো এই মানুষটির এমন উত্থানের কথা? কিন্তু তিনি যখন ১৯৭১ সালের ৭ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে দাঁড়িয়ে ডাক দিলেন দেশ স্বাধীন করার তখন সে আহ্বান তৈরি করে এক মহাকাব্যের সূচনা।

মহাকাব্যিক সেই ভাষণ এই জাতিকে অন্ধকারে পথ দেখিয়েছিলো, তাঁর চিন্তা মানুষের মনে আশা জাগিয়েছিলো, ভয় আর বিভ্রান্তির সময়ে দেখিয়েছিলো পথের ঠিকানা। শেখ মুজিবুর রহমান হয়ে উঠেছিলেন বঙ্গবন্ধু, একটি জাতির ভরসাস্থল।

এক নিদারুণ পরিণতি লাভ করেছিলেন এই ভালোবাসার মানুষটি। কিন্তু অন্ধকারের কিছু জীব কি সত্যিই মুছে দিতে পেরেছে তাঁর উপস্থিতি, তার প্রত্যয়? না, পারেনি। তিনি আজো আমাদের পথ দেখান । তাঁর আবেগ, তাঁর দেশপ্রেম, তাঁর প্রজ্ঞা আজো ঝড়ের ভেতরে বাঙালী জাতির জন্য আলোকবর্তিকা।

পরিবারের সঙ্গে বঙ্গবন্ধু

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন আজ। আজ এই পৃথিবীতে জন্ম নিয়েছিলেন সেই বাঙালী যিনি নিজের জীবন, রাজরীতি, আর ভালোবাসায় একটি জাতিকে পথ দেখান, বিপদের দিনে কানের কাছে এসে ভালোবাসায় আদ্র কন্ঠে বলে দেন পথের ঠিকানা।

তিনি ভালোবেসেছিলেন এই দেশকে, দেশের মানুষকে। নিজের জন্মের ঋণও তিনি শোধ করে গেছেন বুকের রক্ত দিয়ে। তিনি না-থাকলে এই জাতি কোনোদির স্বাধীনতার স্বপ্নকে ফলবান করে তুলতে পারতো না। আজ তাঁর জন্মদিনে সেই কথাটাই বারবার মনে ভেসে ওঠে। মনে হয় বঙ্গবন্ধু মৃত্যুর আড়াল থেকেও আজো এই বাংলাদেশের জন্য নিরন্তর লিখে চলেছেন এক আশ্চর্য্ কবিতা।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল   

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]