বন্ধু তুমি এভাবেই পাশে থেকো

বিশিষ্ট শিল্পী কনকচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখবেন তার জীবনের কথা।কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো। পড়ুন কাটাঘুড়ি বিভাগে।

কনকচাঁপা

চতুর্থ শ্রেণী তে পড়ার সময় কেমন করে অংকে পিছিয়ে গেলাম।হয়তো ইংরেজিতেও।ভালই পিছিয়ে গেলাম।মাঝে মাঝে ক্লাস ও ফাঁকি দিতাম।বাড়ির কাজ মাঝেমধ্যেই করা হচ্ছিল না।এগুলো সামলাতে আমাকে মিথ্যে বলতে হচ্ছিলো।বলছিলাম ও।এবং প্রায়ই ধরা পড়ে আম্মার হাতের ভয়ানক মাইর খাচ্ছিলাম।আব্বা অবাক,এবং বিরক্ত। কারন আমি আসলেই এ ধরনের না।আমি নিজেই নিজের ওপর বিরক্ত হচ্ছিলাম।কিন্তু এর থেকে পরিত্রান! ওইটুকু বয়সের মানুষ এর মাথায় ধরে?

ক্লাস ফাইভে উঠে বন্ধু আফরিনা বেগম বিউটি কে পেলাম।ক্লাসে কোন ভুল হলে আমরা যেখানে মাথা নীচু করে থাকি সেখানে ও নির্দ্বিধায় স্বীকার করতো যে –স্যার, এটা আমি করেছি! সবাই বলতো কিরে বিউটি তুই এইটা রাজী হইলি কেন? কিন্তু বিস্মিত হতাম এই ভেবে যে সত্যি বলার ফল তো দারুন! আমি ধীরে ধীরে এইসব অযাচিত মিথ্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলাম মন থেকে,কারন আম্মার শাসন এর ভয়ে আমি ভীষন জর্জরিত ছিলাম এবং আমার হাতের লেখার অবস্থাও তথৈবচ। সব মিলিয়ে আমার করুণ অবস্থা ছিল।আমি আফরিনকে নতুন বন্ধু হিসেবে পেয়ে ধন্য হলাম এবং ওর আচার আচরণ, হাতের লেখা সব অনুকরণ করা শুরু করলাম এবং একটা সময় দুইটা চেষ্টাতেই সফল হলাম।মিথ্য বলা ছেড়ে দিলাম,সঙ্গে সঙ্গেই অন্য ভুল গুলোও কমে যাচ্ছিলো।অংক না পারলে বাড়ির কাউকে, আব্বা কে, নানাভাইকে দেখিয়ে নিয়ে অংকের ভয় কাটাতে লাগলাম।গ্রামার পড়া শুরু করলাম জোরেশোরে। বই খাতা গুছিয়ে টেবিল পরিপাটি করে রাখা শিখলাম।সোজা কথা সুবোধ বালিকা যাকে বলে,তাই হয়ে উঠলাম।নিজের চুল বাঁধা,নিজের কাপড় ইস্তি করা,চিরুনি স্পঞ্জের স্যান্ডেল ধুয়ে পরিষ্কার রাখা এগুলো আমার কাজের অংশ হয়ে দাঁড়ালো নিজে থেকে সুঁই সুতার কাজ,হ্যারিকেন সাফ করার দায়িত্ব নিলাম।সোজা কথা,নিজের জীবন কে গুছিয়ে ভালোবাসা শিখলাম।শিখেই বুঝলাম জীবনে সত্যান্বেষণ খুব প্রয়োজন, সেই সঙ্গে প্রয়োজন আফরিনের মত সৎ একজন বা দুজন বন্ধু।যারা পরিবারের লোকের মতই উপকারী ভুমিকা পালন করে থাকে।বন্ধু আফরিন সত্যিই আমার জীবনরেখা বদলে দিয়েছে।আলহামদুলিল্লাহ আমি ওর দেখা পেয়ে আমার কৈশোরকে ঠিকমত গুছাতে পেরেছি।বন্ধুগো—- তোমাকে আমি অতটাই ভালবাসি যতটুকু ভালবাসি আমার নিজেকে।

বন্ধু তুমি এভাবেই পাশে থেকো। চতুর্থ শ্রেণী তে পড়ার সময় কেমন করে অংকে পিছিয়ে গেলাম।হয়তো ইংরেজিতেও।ভালই পিছিয়ে গেলাম।মাঝে মাঝে ক্লাস ও ফাঁকি দিতাম।বাড়ির কাজ মাঝেমধ্যে ই করা হচ্ছিলো না।এগুলো সামলাতে আমাকে মিথ্যে বলতে হচ্ছিল।বলছিলাম ও।এবং প্রায়ই ধরা পড়ে আম্মার হাতের ভয়ানক মাইর খাচ্ছিলাম।আব্বা অবাক,এবং বিরক্ত। কারন আমি আসলেই এ ধরনের না।আমি নিজেই নিজের ওপর বিরক্ত হচ্ছিলাম।কিন্তু এর থেকে পরিত্রান! ওইটুকু বয়সের মানুষ এর মাথায় ধরে? ক্লাস ফাইভে উঠে বন্ধু আফরিনা বেগম বিউটি কে পেলাম।ক্লাসে কোন ভুল হলে আমরা যেখানে মাথা নীচু করে থাকি সেখানে ও নির্দিধায় স্বীকার করতো যে –স্যার, এটা আমি করেছি! সবাই বলতো কিরে বিউটি তুই এইটা রাজী হইলি কেন? কিন্তু বিস্মিত হতাম এই ভেবে যে সত্যি বলার ফল তো দারুন! আমি ধীরে ধীরে এইসব অযাচিত মিথ্যা থেকে বেরিয়ে আসতে চাইলাম মিন থেকে,কারন আম্মার শাষন এর ভয়ে আমি ভিষন জর্জরিত ছিলাম এবং আমার হাতের লেখার অবস্থাও তথৈবচ। সব মিলিয়ে আমার করুণ অবস্থা ছিল।আমি আফরিনের নতুন বন্ধু হিসেবে পেয়ে ধন্য হলাম এবং ওর আচার আচরণ, হাতের লেখা সব অনুকরণ করা শুরু করলাম এবং একটা সময় দুইটা চেষ্টাতেই সফল হলাম।মিথ্য বলা ছেড়ে দিলাম,সাথে সাথেই অন্য ভুল গুলোও কমে যাচ্ছিল।অংক না পারলে বাড়ির কাউকে, আব্বা কে, নানাভাইকে দেখিয়ে নিয়ে অংকের ভয় কাটাতে লাগলাম।গ্রামার পড়া শুরু করলাম জোরেশোরে। বই খাতা গুছিয়ে টেবিল পরিপাটি করে রাখা শিখলাম।সোজা কথা সুবোধ বালিকা যাকে বলে,তাই হয়ে উঠলাম।নিজের চুল বাঁধা,নিজের কাপড় ইস্ত্রী করা,চিরুনি স্পঞ্জের স্যান্ডেল ধুয়ে পরিষ্কার রাখা এগুলো আমার কাজের অংশ হয়ে দাঁড়ালো।নিজে থেকে সুঁইসুতার কাজ,হ্যরিকেন সাফ করার দায়িত্ব নিলাম।সোজা কথা,নিজের জীবন কে গুছিয়ে ভালোবাসা শিখলাম।শিখেই বুঝলাম জীবনে সত্যান্বেষণ খুব প্রয়োজন, সেই সাথে প্রয়োজন আফরিনের মত সৎ একজন বা দুজন বন্ধু।যারা পরিবারের লোকের মতই উপকারী ভুমিকা পালন করে থাকে।বন্ধু আফরিন সত্যিই আমার জীবনরেখা বদলে দিয়েছে।আলহামদুলিল্লাহ আমি ওর দেখা পেয়ে আমার কৈশোর কে ঠিকমত গুছাতে পেরেছি।বন্ধুগো—- তোমাকে আমি অতটাই ভালবাসি যতটুকু ভালবাসি আমার নিজেকে।

ছবি: লেখক