বয়স যখন ষোল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

আজমেরী সুলতানা ঊর্মি

ষোল বছর!! আহা!! বয়সটা যে বড্ড টালমাটাল।কৈশোর থেকে তারুণ্যের পথে উঁকিঝুঁকি। ষোল মানেই অনেকগুলো বন্ধ দুয়ার আস্তে আস্তে খুলতে শুরু করা।ষোল মানেই স্বপ্ন দেখার শুরু।মানসিক টানাপোড়েনের  অস্থির সময়। লিখতে হবে নিজের সেই সময়টাকে নিয়ে।

বয়স যখন ষোল

 

বাইরে আকাশ ঘন কালো মেঘে ঢাকা।ঝড়ো হাওয়া বইছে। ক‘দিন যাবতই রোজ সন্ধ্যায় কালবৈশাখী হাওয়া।

শন শন সেই হাওয়ায় কান পেতে চোখ বন্ধ করে চলে যাচ্ছি আমার ষোলতে।

ওই তো দেখতে পাচ্ছি এক মাথা ঢেউ খেলানো চুলের শ্যামলা ছিপছিপে আমাকে। ভেতরে  বড্ড ছটফটে অথচ বাইরে শান্ত আমাকে।

যে আমি রবিন,

বয়স যখন সতেরো

কিশোর,মুসা আর টিনার সঙ্গে রহস্য উন্মোচন করি। বনে জঙ্গলে ঘুরে বেড়াই। থরথর বুকে মাসুদ রানার সঙ্গে থাকি।তার সাহসিকতা আর মারামারিতে মুগ্ধ হই।যে আমি ফেলুদার সঙ্গে গুপ্তধন রহস্যের কিনারা করি। কাউন্ট ড্রাকুলার রক্ত পানি করা ভয়ের গল্পে থরথর করে কাঁপি।  একটু আধটু করে মুহাম্মাদ জাফর ইকবালের সায়েন্স ফিকশনে ঢুকে যাই। পৃথিবী,মহাকাশ,অন্য গ্রহ উপগ্রহ,নক্ষত্রগুলোকে খুব কাছের বলে মনে হয়।

যে আমি জেনে গেছি কেবল বইয়ের পাতায় চোখ ঘুরে বেড়ানো যায় মহাকাশ থেকে পাতাল। বন্ধ ঘরে কেবল বই আমাকে নিয়ে যায় কোথায় কোথায় ….

আস্তে আস্তে শীর্ষেন্দু, সুনীল, সমরেশ মজুমদারের বইয়ে নারী পুরুষের নতুন যে সম্পর্কগুলো সেগুলো জানতে শুরু করলাম। লজ্জায় লাল, নীল, বেগুনী হই। চোখের পাতায় তির তির করে স্বপ্ন কাঁপে।

বইয়ের বর্ণনার সঙ্গে মিলে যাওয়া কোন তরুণের দিকে তাকালে দু‘একটা হার্টবিট মিস হয়।

দরজা জানালা বন্ধ দুপুরে অঞ্জন দত্তের ম্যারি এ্যান নয়তো কাঞ্চনজঙ্ঘা শুনি।

ওদিকে আবার দীপাবলী,গর্ভধারিণী,কালবেলা কালপুরুষ পড়ে বিপ্লবী হওয়ার স্বপ্ন দেখি,দেশকে পাল্টে দিতে ইচ্ছে করে।

মাঝে মাঝে সাজতে খুব ভালো লাগে। ।নিজেকে আয়নায় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে দেখি, বন্ধুরা দল বেঁধে ছবি তুলি। গালে ওঠা ছোট্ট টিলার মতো ব্রণ নিয়ে মন খারাপ হয়। মায়ের শাসনে মন খারাপ হয়। মা চায় না এখনি বড়দের মতো শাড়ি টাড়ি পরে ঘোরাঘুরি করি। ছেলে বন্ধুদের সঙ্গে যেনো কম মিশি। মফস্বলের ছোট্ট পাড়ায় ষোল সতেরো বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে কোন গুঞ্জন না ছড়ায়।

খুব মন খারাপ হয়। ভেউ ভেউ করে কাঁদি।উঠোনে শেফালী ফুলের ঝাড়ের পাশে কুয়োর জলে নিজের ছায়া দেখি। পাশে পূর্ণ চাঁদ । ষোল বছরের বালিকার প্রিয় সঙ্গী। নিশাচর উড়ে যায়। বালিকার মন কেমন করে। অদ্ভুত হাহাকার ….অদ্ভুত ঘোরলাগা মুহূর্ত আসে। বালিকা ফিসফিসিয়ে কুয়োর জলের দিকে তাকিয়ে ডেকে উঠে,’এই মেয়ে…এই’ …

আজ আবার যেনো বাইরের ঝড়ো কালবৈশাখী ঝড়ের বাতাস কেটে কেটে সেই ডাক প্রতিধ্বনি হয়ে ফিরে আসে। টের পাই খুব।

( নীল শাড়িটা মায়ের। দশম শ্রেণীতে পড়ি।স্কুল থেকে  পিকনিকে ভাওয়াল গড়ে এসেছিলাম। পরের ছবিটা সতেরো বছর বয়স।সদ্যই কলেজে ভর্তি হয়েছি। চোখভর্তি নানান স্বপ্ন।আসলে বয়সটাই তো তখন স্বপ্ন দেখার। )

 

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]