বর্ষা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

অদিতি বসুরায় (কবি, সাংবাদিক)

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

 বর্ষাকাল মানে এক ছোট্ট বাড়ি,পুকুর আর এলোমেলো লোডশেডিং। বর্ষাকালে পায়ে সর্ষের তেল মাখিয়ে তবে খেলতে পাঠাতো মা। এমন মরে যাওয়ার মতো গরম কী পড়তো সে সময় ? তখন তো বর্ষাকাল মানে ঝুলনের খেলনা কেনার দিন। জোনাকীর চাহিদা বাড়তো খুব। খেলনা পাহাড়ে ওদের বসানো হতো। কাঠের গুঁড়োর মাঠে খেলতে নামতেন মারাদোনা, পেলে। সন্ধেয় বন্ধুদের বাড়ির ঝুলন দেখে আসতে হতো টুক করে। কারা নাকি সুইমিং পুল করেছে – অজন্তা সার্কাসও নাকি করেছে কেউ। হাওড়া ব্রিজ করতে বারো ইঞ্চি স্কেল লেগেছিলো মনে আছে। খুব ইচ্ছে ছিলো, চাঁদের পাহাড় বানাবো একবার। ওই একটা সাধ মিটেছিলো – বস্তা,পাতাবাহারের ডাল, চুন দিয়ে করা জগঝম্পের গায়ে রীতিমতো লেখা ছিলো, ‘চাঁদের পাহাড়’। ঝুলন দেখতে এসে পয়সা দেওয়ার চল ছিলো না। রথে ছিলো। সাজানো রথ টানতে টানতে বেরুতেই দশ-কুড়ি পয়সা প্রণামী পেতেন জগন্নাথ। কখনো চার আনাও জুটে যেতো। আমার রথ ছিলো না। বন্ধুর রথ টেনে বেড়াতাম। ফুল নিয়ে যেতাম সাজাতে।
বর্ষাকাল মানে ‘রেনি ডে’ নামের এক রামধনুর আনাগোনা ছিলো, আমাদের ছেলেবেলায়। ইস্প্রিং দেওয়া ছাতা মাথায় ইস্কুলে গিয়ে দেখা তিন জন পড়ুয়া আর পাঁচ জন স্যার। নাম ডেকে ছুট-ই-ই-ই! জলভরা আলাবালা দিয়ে ফেরা – আর কি আশ্চর্য ছুটির পর জল থেমে যেতো ঠিক। এখন আর সে সব নেই। সেই ইস্কুল – স্যর- বন্ধু- ছাতা – নাহ!
বর্ষাকাল মানে ক্লান্ত গন্ধরাজ গাছে ফুল কমে আসার দিন এসে গেছে – বোঝা যেতো। আমাদের ঘরে উঁকি দিতো সেই গাছ। যেমন ছিপছিপে তেমন সুন্দরী। তারার মতো ফুল ফোটাতো সে গ্রীষ্মজুড়ে। এখন সে বুড়ি মাই আমার। দেখা হয় না কতকাল! মেহগনি , গন্ধরাজ, শিউলির ট্রায়োর দিনকাল শেষ। মনে হয় …
এখনকার বাড়ির পড়শি গোটা দশেক কদম গাছ। জানলার ক্যানভাসে ওরা আকাশকেও আলাও করে না। ফুল নিয়ে এসে যায় মেঘের আগে আগে। হেমন্তের গোড়ায় ফিরে যায় ফুল। বর্ষার রাজত্বের রানী, হেমন্তের ফ্যানহারা রাজেশ খান্না। একলা বাংলোয় থাকতে যার ভাল লাগে না।
ভাল লাগে কী? এই নগরের ইকিড়মিকিড়ে বর্ষা আসে ভয়ে ভয়ে। লোকে রাগ করে মেঘ জমলে । কাজ পণ্ড হয়। কদম তবু রেডি থাকে ঝাঁপ খেতে… তবু বাইপাস পেরুতে পেরুতে ভুল করে মনে হয় দিকচক্রে পাহাড় বেড়াতে এসেছে
– ইস্কুল ছুটি হয়ে গেছে তাই আর কোথাও ‘ছুটির’ খোঁজ মেলে না ..
শেষরাতে জল নেমে এলে শান্তি পায় শহীদের মা, কাজ হারানো শ্রমিক, একা খেতে বসা মেয়ে, মৃত বন্ধুর প্রেমিক!

বর্ষাকাল অকপট খুব। ভানের বাইরে বুক চিতিয়ে ঘোরে।

চ্যাপলিন মরে গেছে বলে, সাহস বেড়েছে আমারও ।।বর্ষায় আর কোন ** চোখের জল লুকোয়?

ছবি: আনসার উদ্দিন খান পাঠান

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]