বসন্ত আসার আগেই সুখী হতে চেয়েছিলেন

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আলী আজগর স্বপন

হুমায়ূন ফরিদী বসন্ত আসার আগেই সব অযত্ন এড়িয়ে নাকি সুখী হতে চেয়েছিলেন। কিন্তুৃ মৃত্যু তাঁকে ফিরিয়ে নিয়ে গেলো অজানায়। আট বছর সময় কাটলো তার অনুপস্থিতি নিয়ে আমাদের। ১৯১২সালের ১৩ফেব্রুয়ারী পৃথিবীর হাত ছেড়ে দিয়েছিলেন বাংলাদেশের এই অসাধারণ অভিনেতা।

জীবন সুন্দর,আকাশ বাতাস পাহাড় সমুদ্র সবুজ বনানী ঘেরা প্রকৃতি সুন্দর আর সবচেয়ে সুন্দর, এই বেঁচে থাকা। তবুও কি আজীবন বেঁচে থাকা যায়? বিদায়ের শেহনাই বাজে নিয়ে যাবার পালকি এসে দাঁড়ায় দুয়ারে। সুন্দর এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকার পোশাক খুলে ফেলে চলে যেতে হয় তখন অজানা গন্তব্যে। হঠাৎ ডেকে ওঠে নাম না জানা পাখি অজান্তেই চমকে উঠি,জীবন ফুরালো নাকি?
বড় অন্যায় করলেন আপনি, এভাবে না গেলেই কি হতো না ? ফাগুনের প্রথম দিনটিকেই বেছে নিতে হলো মহাপ্রয়ানের জন্য ?
আমাদের অভিনয় জগতের সবচে বর্নাঢ্য মানুষ ছিলেন তিনি। মঞ্চ, টিভি আর চলচ্চিত্রে এরকম  একজন অভিনেতার দেখা হয়ংতো আমরা আর পাবও না। কী অসাধারণ ক্ষমতা নিয়ে এসেছিলেন ফরীদি। বিটিভির শাদাকালো যুগের সবচেয়ে অসাধারন, সবচেয়ে শক্তিমান এই  অভিনেতা। বিটিভির ৮০’র দশকের দর্শক যারা, তারা সবচে বেশী সৌভাগ্যবান।  এই অসামান্য গুনী অভিনেতার অভিনয় তারা দেখতে পেয়েছিলেন টেলিভিশনে এবং মঞ্চে।
ফরিদীর জীবনকে সাধারনভাবেই যাপন করেছেন। প্রবলভাবে বেঁচে ছিলেন আমৃত্যু৷ আপনার বেঁচে থাকা ছিলো গোপনে, গহিনে আশাবাদী মানুষের মতো৷
প্রতিনিয়ত যন্ত্রণাক্লিষ্ট মানুষ অন্য মানুষকে ভুলে যেতে পারে, পাখিরা পারে না, গাছরা পারে না। তাই তো বন উজাড়ে বাসা বানাতে না-পারা পাখিরা এখনও মানুষকে গান শোনায়, ধ্বংসের শেষ প্রান্তে এসেও গাছ ফুল ফোটায়-ভালোবাসায়, নিঃস্বার্থে, আনন্দ বারতায়! ফরীদি আপনি যেখানেই থাকুন, ভালো থাকুন-শান্তিতে থাকুন ৷ বড়ো ভালো মানুষ ছিলেন ফরিদী।

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]