বাঁশ-হাঁস

সাব্বিরুল হক

জাফলংয়ের বল্লাঘাটের খাবারের দোকান ‘ক্ষুধা’I জাফলং ঘুরতে গিয়ে সেখানে খাওয়ার সময় পরিচয় হয়েছিলো ‘ক্ষুধা’ রেস্তোরাঁর অন্যতম মজার পদ হাঁস-বাঁশ রান্নার সঙ্গেI খেয়ে হয়ে গেলাম মুগ্ধ আর তারপর বাঁশের ভক্ত!

বাঙ্গালী বিনে পয়সায় দুটো জিনিস দিতে ওস্তাদ জানি, এক-উপদেশ আর দুই-বাঁশ। তবে বাঁশ যে খেতে উপাদেয় এটা জেনেছি অনেক পরেI খেয়ে দেখার সুযোগটা তো পেয়েছিলাম মাত্র সেদিন জাফলংয়ে গিয়ে।

বাঁশের কোড়ল তরকারি হিসেবে সিলেটে খুব প্রচলিত না হলেও অনেক এলাকায় ভালোই চলে।অতি-আগ্রহী হয়ে কিছুটা জেনে এসেছিলাম হাঁস দিয়ে বাঁশ রান্নার প্রণালী।আপনাদের জন্য নিচে দিয়ে দিলাম রেসিপিটা।

উপকরণ:

আড়াই কেজি ওজনের হাঁসIবাঁশ কোড়ল কুচি ২৫০ গ্রাম।টমেটো বড় তিনটা। পেঁয়াজ কুচানো তিনটা। আদাবাটা তিন টেবিল-চামচ। রসুনবাটা ২ টেবিল-চামচ।জিরাগুঁড়া পরিমাণ মতো।গরম মসলা পরিমাণ মতো।হলুদ মরিচ পরিমাণ।কাঁচামরিচ ১০টি। পাঁচফোড়ন ও লবণ পরিমাণ মতো।অল্প সরিষা ও বাদামবাটা।তেল ২৫০ গ্রাম।

প্রণালী:

কড়াইতে তেল গরম করুন। এবার গরম তেলে কুচানো পেঁয়াজ ছেড়ে দিন। পেঁয়াজ একটু নরম হলে আদা, রসুন, বাদাম এবং সরিষা ঢেলে দিয়ে আবার নাড়তে থাকুন। তারপর একটু ভাজা-ভাজা হলে হলুদ, মরিচ, জিরা, গরম মসলা দিয়ে কষিয়ে নিতে হবে।

এবার কড়াইতে অল্প পরিমাণে পানি দিয়ে চামড়া ছড়ানো হাঁসের মাংস ছোট-ছোট টুকরো করে কড়াইতে ঢেলে দিন। মাংস সেদ্ধ হলে কাঁচামরিচ ও বাঁশকুচি ঢেলে কড়াই ঢেকে চুলার আঁচ কমিয়ে কিছুক্ষণ রাখুন।

তারপর পাঁচফোড়ন ও ১ টেবিল-চামচ গুঁড়োদুধ পানিতে মিশিয়ে কড়াইতে ছড়িয়ে দিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে ফেলুনI হয়ে গেল বাঁশ-হাঁস রান্নাI

এবার ভাতের সঙ্গে গরম-গরম পরিবেশনাIমনেই হবে না, যা খাচ্ছেন তা কিন্তু আস্ত একখানা ‘বাঁশ’!


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box