বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানরা ধৈর্য্যর পরীক্ষায় হেরে গেলেন

আহসান শামীমঃ নিউজিল্যান্ড হেগলির প্রধান পিচ কিউরেটর বৃহস্পতিবার পরিস্কার জানিয়েছিলেন পিচ সম্পূর্ণ ব্যাটসম্যানদের জন্য তৈরী । বোলারা প্রথম ৯০ থেকে ১২০ ওভার পর্যন্ত কিছুটা সুবিধা পেলেও পঞ্চম দিন ছাড়া উইকেটে কোন টার্নিং পাওয়ার সম্ভাবনা কম । এমন পীচে প্রথমে ব্যাটিং করলে দরকার ধৈর্য্য ধরে উইকেটে টিকে থাকা । বাংলাদেশের সিনিয়র ব্যাটসম্যানরা ব্যাট হাতে ধৈর্য্যর পরীক্ষায় হেরে গেলেন । শেষ টেস্টে হেগলির পিচে আক্রমণাত্মক ব্যাটিং করে নিজেদের উইকেট বিসর্জন দিয়ে সাজঘরে বসে টেস্টে অভিষিক্ত সোহান শান্তর কাছ থেকে যেন টেস্ট খেলায় ব্যাটিং করার নিয়ম কানুন গুলো শিখছিলেন ।

শেষ টেষ্টে ইন্জুরীর কারনে নিয়মিত টেষ্ট দলের তিন ব্যাটসম্যান  মুশফিক , ইমরুল, মুমিনুল দলে ছিলেন না । সেখানে নিয়মিত টেষ্ট দলের অন্যান্য সিনিয়র খেলোয়াড়দের যতটা দায়িত্ব নিয়ে খেলার প্রয়োজন ছিল মাঠে সেটা অনুপস্থিত থাকায় খুব বেশি রানের লক্ষ্যে পৌঁছাতে ব্যার্থ হয় বাংলাদেশ দল । চা বিরতির পর ৫৮.১ ওভারের দলীয় ২৩৪  রানের মাথায়  শান্ত ১৮ রানে আউট হন সাউদির বলে স্লিপে ক্যাচ তুলে দিয়ে । সহজ ক্যাচ ধরতে না পারা ও গ্রাউন্ডে ফিল্ডিং এ নিউজিল্যান্ড খেলোয়াড়দের দূর্বলতা বাংলাদেশের খেলোয়াড়দের বাড়তি রানেরNew Zealand v Bangladesh - 2nd Test: Day 1 সুবিধা করে দেয়। দলীয় ২৪৮ রানের মাথায় ৬১.১ ওভারে মেহেদী মিরাজ ১৩ বলে ১০ রান করে ওয়াগনারের বলে বোল্ড হয়ে সাজঘরে ফেরেন। মিরাজের আউটের পর তাসকিন ৬৬.৩ ওভারে ব্যাক্তিগত ২৬ বল ৮ রান আর দলীয় ২৫৭  রানে সাউদির বলে ওয়াগনারের হাতে ক্যাচ আউট হওয়ার পর রাব্বী মাঠে নামেন । এসময় প্রথম বলেই আম্পায়ার রাব্বীকে এলবিডব্লিউর আপীলে আউট দিলে রিভিউর মাধ্যমে সেই সিদ্ধান্তে পরিবর্তন ঘটে। ব্যাক্তিগত ৪৭ রানে অভিষিক্ত সোহান দলীয় ২৭৩ রানে আউট হন । রাব্বীর ৬৩  বলে  ২ রান বাংলাদেশের ইনিংসটা দীর্ঘায়িত করতে সাহায্য করে। রুবেল হোসেনের ব্যাট থেকে ১৬  রান আসে ২১ বলে । ব্যাটিং করার সময় রুবেল কব্জিতে আঘাত প্রাপ্ত হওয়ার পরও ব্যাট হাতে শেষ প্রর্যন্ত খেলা চালিয়ে যান ।

ওপেনার তামিম ইকবাল দিনের প্রথম সেশনের চতুর্থ ওভারে এসেই টিম সাউদিকে বাউন্সার ছেড়ে দিতে গিয়ে দুর্ভাগ্যজনক ভাবে গিয়ে কট বিহাইন্ড হন।৫ রান করে ফিরে যাওয়া তামিমের পর ওপেনার সৌম্য সরকারকে সঙ্গ দিতে ক্রিজে আসেন অভিজ্ঞ ডান হাতি মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। দলের স্কোর তখন মাত্র ৭/১ । সেখান থেকে দলকে টেনে নিতে থাকেন রিয়াদ-সৌম্য জুটি। সৌম্য দেখে শুনে খেলে গেলেও রিয়াদ কিউই পেসারদের উপর শুরু থেকে চড়াও হতে থাকেন।যদিও শেষ রক্ষা হয়নি রিয়াদের। ইনিংসের ১১তম ওভারে দলীয় ৩৮ রানের সময় ট্রেন্ট বোল্টের ইনসুইংয়ে বেপরোয়া ড্রাইভ করতে গিয়ে কিপারের গ্লাবস বন্দি হন ১৯ রান করা রিয়াদ। মাত্র ৩৮/২ উইকেট হারানোর পর সৌম্য-সাকিবের ব্যাটে এগোতে থাকে বাংলাদেশ। ড্রিংস ব্রেকে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ২ উইকেট ৫৮ রান। ইনিংসের ২৩তম ওভারে এসে দ্রুত ৫৫ বলে ফিফটি তুলে নেন ওপেনার সৌম্য। সৌম্য-সাকিবের ব্যাটে ভর করেই দলের স্কোর দ্রুত শত রানের কোটা পার করে। লাঞ্চ ব্রেকে বাংলাদেশের স্কোর দাঁড়ায় ১২৮ রান দুই উইকেটে।৬৭ বল খরচ করে অর্ধশত তুলে নেন সাকিব। আরেকপ্রান্তে থাকা সৌম্য সরকার দারুন খেলে সেঞ্চুরির পথে এগোচ্ছিলেন। কিন্তু ৩৬তম ওভারে এসে বোল্টের বলে ড্রাইভ করতে গিয়ে গ্র্যান্ডহমের ডাইভিং ক্যাচে আউট হন সৌম্য ৮৬ রানে । আর সেই সাথে সাকিব সৌম্য জুটির ১২৭ রানের জুটি ভেঙে যায়

একই ওভারে ট্রেন্ট বোল্টের বাউন্সারে স্লিপে ক্যাচ দিয়ে সাজঘড়ে ফেরেন সাব্বির। সাব্বিরের পতনের পর ক্রিজে আসেন অভিষিক্ত নাজমুল হাসান শান্ত। আবশ্য সাকিবকে বেশিক্ষণ সঙ্গী হিসেবে পাননি শান্ত।ব্যক্তিগত ৫৯ রানের সময় টিম সাউদিকে থার্ড ম্যানে খেলতে গিয়ে কিপারের হাতে ধরা পরেন সাকিব ।  নিউজিল্যান্ডর টিম সাউদি পাঁচটা উইকেট লাভ করেন । এছাড়াও বোল্ট চারটা আর ওয়ারগনার একটা উইকেট পান।

ছবিঃ ইএসপিএন