বাচ্চাকে যা শেখাবেন, সে তাই শিখবে

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শারমিন শামস্

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

আমার মেয়ের জন্মের আগে, মানে সে যখন আমার পেটে, তখন একটা ছবি দেখলাম। একটা পাহাড়ি বাচ্চা, বয়স সম্ভবত দেড় বা দুই, সে পিঠে একটা টুকরি ঝুলিয়ে হাতে একটা ছোট লাঠি নিয়ে খাঁড়া মই বেয়ে উঁচু মাচায় উঠছে।
আমি হা করে সেই ছবি দেখলাম। এরপর মুগ্ধ হয়ে সারাদিন সেই ছবি দেখি।

তারপর মনে মনে ঠিক করলাম, আমার বাচ্চারে ঠিক এই জিনিস বানাবো।
মেয়ে হওয়ার পর এইটা মাথা থেকে দূর হয় নাই। আমার বাচ্চা মানুষ করার পদ্ধতি তাই চিরকালই বেশ কঠিন কঠোর।

আমার মেয়ে দেড় বছর বয়সে ঘরে বাইরে ডায়াপার পরা ছেড়েছে। আর দুই বছর বয়সে ছেড়েছে রাতে ঘুমের মধ্য হিসু করা। চার বছর বয়সে নিজে বাথরুমে ঢুকে হিসু করে পানি ইউজ করে টয়লেট পেপার নিতে শিখেছে। একা দাঁত ব্রাশ শিখছে সাড়ে চারে। বাথরুম থেকে বের হয়ে জামা প্যান্ট একাই পরে এই বয়স থেকেই। একা খায় সাড়ে তিন থেকে। নিজের খেলনা গুছিয়ে রাখে আড়াই বছর বয়স থেকে। নিজের কাপড় ভাজ করে চার বছর থেকে। নিজের প্লেট গ্লাস মেজে ধুয়ে রাখে পাঁচ বছর বয়স থেকে।
আমি এখন তাকে শিখাচ্ছি কীভাবে সে নানা নানুর যত্ন করতে পারে। নানুর চুল আঁচড়ে দেয়া, নানুর জামা কাপড় এনে দেয়া। যত্ন করার জন্য সে এখন নানুকে জোর করে আমাদের বাসায় এসে ঘুমাতে বলে যাতে সে নানুর বালিশ কাঁথা এনে বিছানা ঠিক করে দিতে পারে, এসি ছেড়ে দিতে পারে।

আমি যখনই আমার কোন কিছু খুঁজে পাই না, তখনই তাকে সেটা খুঁজে দিতে বলি। যেকোন ময়লা কাগজ বিনে ফেলার দায়িত্ব তার। সে এখন গাছে পানি দিতেও পারে। ফ্রিজ খুলে নিজের চকলেট বিস্কুটের বাটি বের করে নিয়ে আবার তুলে রাখাও শিখেছে। মেয়ে এখন শুধু নিজের কাজই করে না, মায়ের কাজেও হেল্প করে।
আমি তাকে তৈরি করছি। আমার ইচ্ছে তাকে আমি বাসার সমস্ত কাজ শেখাবো।
এটি কোন আত্মপ্রচার না। যে বাবা মায়েরা বাচ্চাকে তুলোয় মুড়ে মানুষ করেন, তাদের জন্য বলি, এটি একটি ক্ষতিকর প্রক্রিয়া। এতে ক্ষতি হয় আপনার, আপনার বাচ্চার এবং সর্বোপরি সমাজের। আমি অনেক পরিবারে দশ এগারো বারো বছরের বাচ্চাকে দেখেছি গৃহকর্মী তাকে জামা পরিয়ে দিচ্ছে আর সেই গৃহকর্মীর বয়স ওই বাচ্চারই সমান! এটি কোন সুস্থ পরিবারে ঘটে না।

বাচ্চাকে সুস্থ সুন্দর কর্মঠ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলুন। বাচ্চাকে যা শেখাবেন, সে তাই শিখবে। আর হ্যাঁ, নিজেরাও একটু কাজ টাজ করুন।

ছবি: লেখকের ফেইসবুক থেকে

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]