বাটার স্কচ আইসক্রীম

চন্দ্রবলী বিশ্বাস

পাঠক’দের প্রীতি ও শুভেচ্ছা জানিয়ে একটি রেসেপি প্রণালী জানাচ্ছি আমি চন্দ্রাবলী বিশ্বাস। সরাসরি মিষ্টি মুখ করাতে পারছিনা তাই ভার্চুয়াল পদ্ধতি’র সাহায্য নিচ্ছি।পূজোতে রসগোল্লা, সন্দেশ, গজা, নারকোল নাড়ু’ তো অনেক হলো ! এবার মিষ্টি মুখের আয়োজন আইসক্রীম দিয়ে এবং আমার একেবারে নিজস্ব পদ্ধতিতে।

উপকরণ:

ফুলক্রীম কাঁচা দুধ… দু’কাপ

হেভি হুইপিং ক্রীম… এক কাপ

চিনি… এক কাপ+ কোয়ার্টার কাপ ( একটি কাপেই সবগুলোকে মাপতে হবে )

কাজুবাদাম… আট দশটি

কর্ন ফ্লাওয়ার… তিন টেবিল চামচ

জিএমএস… তিন টেবিল চামচ

সিএমসি… কোয়ার্টার চা চামচ

বাটার স্কচ ফ্লেভার… এক চা চামচ

বাটার স্কচ কালার… দশ ফোঁটা

প্রণালী :

ক্রীম যদি জমা অবস্থায় থাকে তাহলে নর্মাল ফ্রিজে রেখে দিতে হবে সারারাত। যাতে লিকুইড পর্যায়ে এসে যায়। এবার যে পাত্রে ক্রীম ফেঁটিয়েছি সেটিকে এক ঘণ্টা ডিপ ফ্রিজে রেখে দিয়েছি তার সঙ্গে ইলেকট্রিক হ্যান্ড বিটারের ব্লেড দুটিও। প্রথমে একটি পাত্রে দুধ নিয়ে তার সঙ্গে এক কাপ চিনি, কর্ন ফ্লাওয়ার, জিএমএস, সিমসি, বাটার স্কচ ফ্লেভার কালার সব মিশিয়ে খুব ভালো করে নেড়ে আগুনে বসিয়েছি। মিডিয়াম আঁচে ক্রমাগত নেড়ে একেবারে ঘন থকথকে করে ফেলেছি। ঠান্ডা হলে ব্লেন্ড করে নর্মাল ফ্রিজে রেখে দিয়েছি। আর একটি পাত্রে কোয়ার্টার কাপ চিনিতে এক টেবিল চামচ জল দিয়ে ক্যারামেল করেছি। নামানোর আগে কাজুবাদাম দিয়ে এক মিনিট ক্যারামেলের সঙ্গে নেড়ে নিয়ে একটি বাটার পেপারে ছড়িয়ে দিয়েছি। ঠাণ্ডা হয়ে জমে গেলে একটি জিপ লক ব্যাগে ভরে রুটি বেলার বেলনার সাহায্যে খানিকটা গুঁড়ো করে নিয়েছি। একদম পাউডার করা যাবেনা। ছোট ছোট টুকরো,পাউডার সবরকম থাকতে হবে। দুধের মিশ্রণ একদম কনকনে ঠাণ্ডা হয়ে গেলে এবার ক্রীম ফেঁটাতে হবে। দুধ কিন্তু  ফ্রিজেই থাকবে।

এবার ডিপ ফ্রিজ থেকে ক্রীম ফেঁটানোর পাত্র ও ব্লেড বার করে নিতে হবে। ব্লেড ফিট্ করতে হবে মেশিনে। ঠাণ্ডা পাত্রে ক্রীম ঢেলে প্রথমে লো স্পিডে কিছুক্ষণ চালিয়ে তারপর ধাপে ধাপে স্পিড বাড়াতে হবে। হাই স্পিডে কিছুক্ষণ চালিয় মেশিন বন্ধ করে ক্রীমের ঘনত্ব দেখতে হবে। যদি দেখা যায় মেশিনের ব্লেড থেকে ক্রীম টপকাচ্ছে তাহলে আবার মেশিন চালিয়ে ফেঁটাতে হবে। আর যদি ব্লেড থেকে ক্রীম না পড়ে তবে বুঝতে হবে আর ফেঁটানোর দরকার নেই। বেশি ফেঁটালে কিন্তু  ক্রীম থেকে জল বেরিয়ে মাখন ভেসে উঠবে। এবার ঠাণ্ডা দুধের মিশ্রণ একটু একটু করে ক্রীমের মধ্যে ঢালতে হবে আর মেশিন চালাতে হবে।পুরো মিশ্রণ ঢালা হয়ে গেলে আরো তিরিশ সেকেন্ড মত মেশিন চালিয়ে বন্ধ করে দিয়ে একটি স্প্যাচুলার সাহায্যে পুরো মিশ্রণটিকে ভালো করে নেড়ে নিতে হবে। এবার জমতে দেওয়ার পালা। আমি ছোট কয়েকটি প্লাস্টিক গ্লাসে প্রথমে আধা চা চামচ করে কাজুবাদাম ক্যারামেলের টুকরো দিয়েছি। তার ওপর দু টেবিল চামচ ক্রীমের মিশ্রণ আবার কাজুবাদামের টুকরো এইরকম করে তিনটি স্তর করে সবার উপর কাজুবাদাম ছড়িয়ে ক্লিঙ্গ র‍্যাপ দিয়ে ঢেকে দিয়েছে। র‍্যাপটা যেন মিশ্রণ ও কাজুবাদামের সঙ্গে লেগে থাকে। একটি কাঁচের পাত্রেও ওইভাবে স্তরে স্তরে সাজিয়ে জমতে দিয়েছি। কমপক্ষে বারো ঘণ্টা ডিপ ফ্রিজে জমতে দিতে হবে।তবে ডাবল্ ডোর ফ্রিজ না হলে কিন্তু  সেইভাবে জমাট বাঁধবেনা।


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box