বাতাসের গল্প…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জয়দীপ রায়

কিভাবে কিভাবে যেন কাজের টাইম চেঞ্জ হয়ে গেছে বাতাসের। বাতাসরা হলো বিশ্বাস। বাতাস, বাতাসের বৌ আর ছেলে নিয়েই ঘর। আর কেউ নেই। জলজ্যান্ত বাবা মা কে নাভারনে ছেড়ে, বাংলাদেশ থেকে পুটখালির বর্ডার পেরিয়ে এই মফ:স্বলে আশ্রয় নেয় বাতাস আর মনা, তা বছর পনেরো হলো। নিজের ধর্মে বিয়ে করলে এই ঝামেলাটা হতো না।
ঝামেলা। ঝামেলাই বলে বাতাস। সে জীবন মরণ সমস্যা হোক বা দেশান্তরের মত দুর্ঘটনা। বাতাসের কাছে সবই কাজের টাইম চেঞ্জের মত ঝামেলা। সত্যিই দীর্ঘদিনের ওয়ার্কিং আওয়ার যদি দু’চার ঘন্টা পিছিয়ে যায়, সেটা সমস্যারই তো। বছর পাঁচেক আগে পর্যন্ত বাতাসরা খেয়েদেয়ে রাত ন’টার মধ্যে শুয়ে পড়তো। ঠিক সাড়ে বারোটায় ডেকে দিতো মনা। বাতাস তৈরী হতে পনেরো মিনিট লাগাতো। তৈরী হওয়া মানে দিনের বেলার পাতানো চুলটা একটু কড়া জেল লাগিয়ে ব্যাকব্রাশ করে নেওয়া আর ড্রয়ার থেকে একটা গোঁফ নিয়ে গোঁফের জায়গায় লাগিয়ে নেওয়া। সব হয়ে গেলে চশমাটা আলমারি থেকে বের করে পরে নেয় বাতাস। এটাও দিনেরবেলা চোখে দেয় না সে। গুছিয়ে গাছিয়ে পকেটে ওডোমসের টিউব। আর ছোট্ট ক্লোরোফর্মের শিশিটা ঢুকিয়ে যখন বৌয়ের কানের কাছে গিয়ে আস্তে করে বলে, আসছি, মনার বুকটা কেঁপে ওঠে।
এভাবেই চলছিল গত দশ বছর। এই টাইম শিডিউলেই বাঁধা ছিলো বাতাসের ওয়ার্কিং আওয়ার। কবে কাজে যাবে সেটা বাতাস আর তার বৌ মিলে অনেক আলোচনা করে ঠিক করতো, কিন্তু সময়ের ব্যাপারে নির্দিষ্ট ছিলো রাত ঠিক বারোটা পঞ্চাশে বাতাস বেরিয়ে গেলে মনা উঠে দরজা বন্ধ করবে। ঘরে অনেক দামী দামী জিনিষপত্র আছে। চুরি যেতে পারে। বাড়ীতে সে একা। কোনও পুরুষ মানুষ নেই। দরজাটা নিজে হাতে বন্ধ করে শুতে যায় বাতাসের বৌ মনা।
এই বারোটা পঞ্চাশের টাইমিংটা বাতাস শিখেছিলো বাবার কাছ থেকে। বাংলাদেশে। বাতাসের বাবাও এই টাইমেই বেরোতেন। বাতাস মা’র কাছে শুয়ে শুয়ে দেখতো, বাবা রেডি হয়ে বেরোনোর সময় মা’র কাছে গিয়ে খুব আস্তে করে, আসছি বলে বেরিয়ে যেতেন। বাতাসের শরীর ছুঁয়ে থাকা মা যেন একবার কেঁপে উঠতেন। দরজা বন্ধ করে ফিরে আসলে বাতাস জিজ্ঞেস করতো, মা, বাবা রোজ এই টাইমেই যায় কেন? মা বলতেন, ঘুমো।

মা কিছু না বললেও বাবা তাকে সব শিখিয়ে দিয়েছিলেন। সব গুপ্তকথা, লোভ সংবরণের কথা, বিপদে পড়লে বাঁচার নিশ্চিত টোটকা, সব বাবা হাতে করে শিখিয়ে দিয়েছিলেন। দেশ ছেড়ে চলে আসার দিন বাবা বাতাসকে বুকে জড়িয়ে ধরেছিলেন। সেই প্রথম ধরলেন। শেষবারের মত। বললেন,
-এই তাবিজটা রাখ। তোর ঠাকুর্দা সুন্দরবনের দিকে এক পীরসাহেবের কাছ থেকে পেয়েছিলেন। এটা উনি সারাজীবন শরীরে ধারণ করে চলেছিলেন। কখনও ব্যর্থ হননি কাজে। খালিহাতে ফেরেননি কখনও। বিপদেও পড়েননি কোনওদিন। আমিও কখনও তাবিজটা কাছছাড়া হই নি। অন্তত কাজের সময়। আমিও মজদুরি না নিয়ে কখনও তোর মা’র সামনে গিয়ে দাঁড়াইনি। আমিও তোর ঠাকুর্দার মতই কোনওদিন রাতদুপুরে বিপদে পড়িনি। কানের পাশ দিয়ে বেরিয়ে গেছে। এই তাবিজই আমাকে টেনে বের করে এনেছে। তুই ইন্ডিয়ায় চলে যাচ্ছিস, এই তাবিজটা এখন তুইই রাখ। আমি কাজ ছেড়ে দেবো। জমিজায়গা যা করেছি আমার আর তোর মা’র চলে যাবে।
বাতাস অনেক করে বলেছিলো বাবাকে, আমি একটু গুছিয়ে নিয়েই তোমাদের নিয়ে চলে যাবো। কিন্তু ও জানতো বাবা কোনওদিন যেতে পারবে না। জিনিস যত পুরনো হয় বাবা ততো আঁকড়ে ধরে। নিজের তৈরী বাড়িঘর ফেলে এই বয়সে বাবা আর দেশ পাল্টানোর ঝুঁকি নেবে না। বাতাস জানতো।

গত পাঁচবছরে বাতাসের এই বারোটা পঞ্চাশের টাইম একটু একটু করে পিছিয়েছে। আগে মানুষ খেয়ে দেয়ে শোবার আগে আধঘন্টা একঘন্টা টিভি দেখতো। এগারোটা বারোটার মধ্যে এই বাংলাদেশ লাগোয়া মফ:স্বলের পাড়াগুলো শুয়ে পড়তো। অন্তত বিছানায় গিয়ে লাইট অফ্ করতো। এখন বিছানায় শুয়েও ক্লান্ত হয় না মানুষ। জেগে থাকে হোয়াটস্ অ্যাপ, ফেসবুকে। আর ঝামেলা হয় বাতাসের মতো লোকদের। ওয়ার্কিং আওয়ার পিছিয়ে যায়। আবার শেষরাত হয়ে গেলে মর্ণিং ওয়াকের লোকজনের যাতায়াত চালু হয়ে যায়।

আজ বাতাস যখন বের হলো, রাত ঠিক দু’টো। আজকে কোন বাড়ি যাবে বাতাস ঠিক করেনি। কোন পাড়ায় যাবে তাও ঠিক করেনি। এরকমই হয়। আগে থেকে ঠিক করা লাগেনা কোন বাড়িতে যাবে। যে বাড়িতে গেলে কিছু না কিছু সোনাদানা পাবে, সে বাড়ি বাতাসকে যেন নিজের দিকে টেনে নেয়। নাকি বাবার দেওয়া তাবিজটা তাকে দেখিয়ে দেয়, যা বাতাস, দেখবি ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ারে একটা মোটা চূড় আছে। বাতাস টের পায়। বাড়িতে ঢোকার আগেই যেন বাড়ির মধ্যের ম্যাপ তার মাথায় ঢুকে যায়। চিলেকোঠার ছাদ দিয়ে হোক বা রেইন পাইপ বেয়ে কার্ণিশ টপকে হোক, যেখান দিয়েই ঢুকুক না কেন বাতাস বিশ্বাস, অন্ধকারেও বসার ঘর শোবার ঘর চিনতে পারে। নি:সাড়ে ঘরে ঢুকে ড্রেসিং টেবিলের ড্রয়ার খুলে ফেলে। সত্যিই চূড়টা বেশ ভারি। অন্ধকারে ঠিক দেখা যায় না কতটা আরাম পেলো বাতাস।
পাড়ার সরু গলি দিয়ে রাতদুপুরে হাঁটতে থাকে বাতাস। বর্ষাকাল। কিন্তু বর্ষা এখনও আসে নি। মাটি একটু নরম হয়েছে কিল্তু ভেজেনি একটুও। আজকে জয়পুরে এসেছে বাতাস। জয়পুর নদী পেরিয়ে যেতে হয়। দুটো ব্রীজ আছে নদী পেরোনোর। একটা থানার সামনে দিয়ে। আর একটায় কোন থানা পুলিশ নেই। বাতাস খুব একটা পছন্দ করে না নদী পেরিয়ে ওপার যেতে। আজ ইচ্ছে করেই থানার সামনে দিয়ে এসেছে। যাবার সময় না হয় নতুন ব্রীজ দিয়ে ফেরা যাবে। জয়পুরের ভিতরে অনেক অলি-গলি। এখনও খানিকটা গ্রাম্য ব্যাপার আছে এই পাড়াটার। নানান রকম পাতাবাহার গাছের বেড়ার বাড়ি দেখা যায়। বাড়িতে বাড়িতে ফলের গাছ। জাম জামরুল। ফুলের গাছ। গন্ধরাজ কামিনী। সন্ধ্যামণির ঝোপ। লাল সাদা ফুল ফুটে থাকে রাতের অন্ধকারে। প্রচুর গন্ধ নিয়ে। মিষ্টি গন্ধ। বাতাস হিসেব করে দেখেছে, যে বাড়িতে যত বেশী ফুলগাছ, যত বেশী বর্ষাকালের বৃষ্টিহীন রাতের সুগন্ধী ফুলগাছ, সেই বাড়িতে ততো সহজে কাজ হয়। বাড়ির সব মানুষ ভুলোমনা হয়। ব্যাঙ্ক থেকে পেনশনের টাকা তুলে আলমারীতে রাখতে ভুলে যান অবসরপ্রাপ্ত মাষ্টারমশাই। ছেলের বউও বিয়েবাড়ি থেকে ফিরে হারটা আয়নার সামনে রেখেই ঘুমিয়ে পড়ে। বাতাস যেদিন থেকে এটা বুঝতে পারলো যে ফুলের গন্ধের সঙ্গে ভুলে যাওয়ার একটা সম্পর্ক আছে, সেদিন থেকে সে, ফুলফোটা বাড়ি খোঁজে। সুগন্ধী ফুল।

একটা বাড়ির সামনে গিয়ে থমকে দাঁড়ালো বাতাস। এতদিন ধরে এই পাড়ায় আসছে কিন্তু এই বাড়িটা খেয়াল করেনি তো। অনেকদিন পরে আসলো যদিও। কিন্তু এটা তো একটু পুরনো একতলা টিনের চালের একটা বাংলো প্যাটার্ণের বাড়ি। ডানদিকের বাড়িটা সমর রায়ের। ট’বাজারে মুদিখানার দোকান। উল্টোদিকের বড় বাড়িটা এক্সপোর্ট ইমপোর্টের ব্যবসা করে রুবেলের বাড়ি। এই শহরের প্রতিটি বাড়ি চেনে বাতাস। প্রতিটি মানুষকে চেনে। কিন্তু এই বাড়িটা তো কখনও খেয়াল করেনি এর আগে। হবে হয়তো। বাতাস বাড়ির উঠোনে একঝলক চোখ বুলিয়ে খুব খুশি হয়। চারিদিকে সাদা সাদা ফুলের গাছ, ঝোপ। মাধবীলতা আর হাস্নুহানা দিয়ে গেটের উপরটা ঢাকা। বাড়ির মধ্যে বেল যুঁই সব ফুটে রয়েছে। বাতাস ফট্ করে গেট টপকে ভিতরে ঢুকে গেলো। কাজের সময় শরীরটা বিড়ালের মত করে ফেলে বাতাস। দরজার সামনে একটা বাল্ব ঝুলছে। হলদে বাল্ব আজকাল আর বড় একটা দেখা যায় না। বাতাস পকেট থেকে রুমালটা বার করে বাল্বের গায়ে পেঁচিয়ে খুলে ফেললো বাল্বটা। ঝপ্ করে যেন অমাবস্যা হয়ে গেলো। দু’চার সেকেন্ড লাগে সইয়ে নিতে। তারপরে দিনের আলোর মত সব দেখতে পায় বাতাস। ঘুরতে ঘুরতে বাড়ির পিছন দিকটায় যায় বাতাস। এদিকে বেশ বড়সড় একটা বাগান। আম কাঁঠাল সবই রয়েছে। বাতাস ঘরের মধ্যে ঢোকার উপায় খুঁজতে থাকে। কাঠের দরজা পেলে ভালো হয়। বাইরে থেকে খিল খোলার এক অদ্ভুত জাদুবিদ্যা বাবা তাকে শিখিয়ে দিয়েছিলো। দুই দরজার ফাঁক দিয়ে একটা সরু তার ঢুকিয়ে দিতে পারলেই কেল্লাফতে। পকেট থেকে ক্লোরোফর্মের শিশিটা বের করে গায়ে পেঁচানো তারটা খুলে সোজা করে নিলো বাতাস।

দরজা খুলেই সামনে একটা ছোট ঘর। পেরিয়ে গেলেই বসার ঘর। একটা ঢাউস পুরনো আমলের টিভি রাখা। সোফাও রয়েছে। শোবার ঘরগুলো কোনদিকে ভাবতে ভাবতেই পায়ে চেয়ারের পায়ার গুঁতো খেলো বাতাস। শব্দ হল একটা ছোটখাটো। এরকম কখনও হয়নি। নি:শব্দে বিড়ালের মতো কাজ করে গেছে বাতাস সারাজীবন। ডানদিকে একটা দরজা। বাতাস দরজা ঠেলে ভিতরে ঢুকলো। একটা বইয়ের ঘর। লাইব্রেরী। দেওয়ালজুড়ে পরপর বইয়ের তাক। প্রচুর বই তাতে। ঠাসা। কিন্তু শোবার ঘরগুলো কোনদিকে? এই ঘর থেকে উত্তরদিকে একটা দরজা চলে গেছে। বাতাস অন্ধকারে দাঁড়িয়েও দিক নির্ণয় করতে পারে। যেন এ বাড়িতে বহুবার আসা তার। উত্তরমুখি দরজা ঠেলে বাতাস ভিতরে ঢোকে। খুব সুন্দর গন্ধ ঘরটায়। এই ঘরটা শো কেসে ভর্তি। নানানরকম পুতুল খেলনা সফ্ট টয় ভর্তি শোকেসগুলো। এবার বাতাস একটু অবাক হয়। সারাজীবন রাতের অন্ধকারে এত বাড়িতে ঢুকেছে, এরকম অদ্ভুত বাড়িতে তো বাতাস আগে আসে নি কখনও। একটু যেন ঘেমে গেলো জীবনে কখনও ব্যর্থ না হওয়া চোর। কি একটা মনে হওয়াতে ডানহাত দিয়ে একবার বাঁ বাজুটা দেখতে গেলো। সব্বোনাশ! তাবিজটা? দরদর করে ঘামতে লাগলো বাতাস। কোনওদিন সে কাছছাড়া করেনি তাবিজটা কাজের সময়। ভয় পেয়ে পুতুলের ঘর থেকে বেরিয়ে গেল সে। বইয়ের ঘরে আবার ঢুকে পড়লো। আরও ভয় পেয়ে গেলো বাতাস। তাকগুলোতে একটাও বই নেই। একটু আগে ঠাসা ছিলো বইয়ে। বাতাসের মাথা কাজ করছেনা আর। তাবিজটা দুপুরে চান করতে যাবার সময় খুলে রেখেছিলো। মনে পড়েছে। বই থাক আর না থাক বাতাস এ বাড়ি থেকে বেরোতে পারলে বাঁচে। বইয়ের ঘর থেকে বসার ঘরে আসলো। টিভিটা চলছে। সাউন্ড মিউট করা। স্ক্রীণে মাছধরা দেখাচ্ছে। একটা লোক হুইলে করে খেলিয়ে খেলিয়ে মাছ ধরছে। বাতাস আর নড়তে পারছে না। বিড়ালের মত পিচ্ছিল শরীর হঠাৎকরে যেন দু’মন ওজনের বাটখারার মত হয়ে গেলো। বাতাসের দম বন্ধ হয়ে আসছে। বাতাস শেষবারের মত শক্তি জোগাড় করে দৌড়তে চেষ্টা করলো। দৌড়নোর চেষ্টা করে সে দেখলো সে হাঁটতে পারছে। বাতাস কোনমতে এই দমবন্ধ বাড়ি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করতে থাকলো। কিন্তু ঘুরেফিরে সেই ঘরের পর ঘর আসে। বইয়ের ঘর। শো কেসের ঘর। বাতাস আর দিকনির্ণয় করতে পারে না। সামনে যে দরজা পায় সেই দরজা খুলে ঢুকে পড়ে। অদ্ভুতরকমভাবে কোনও দরজাই কোনও পাশ থেকে বন্ধ করা থাকে না। বাতাস ঠান্ডা হয়ে যেতে যেতে এ ঘর ও ঘর করতে থাকে। কিন্তু বাইরে আসার দরজাটা খুঁজে পায় না।

এইভাবে কতক্ষণ চলে বাতাস জানে না। সে তখন সব ভুলে গেছে। শুধু মনার মুখটা মনে পড়ছে। বাবার মুখ না, ছেলের মুখও না। শুধু মনার মুখটাই অন্ধকারেও ভেসে উঠছে জিরো পাওয়ারের চশমাপরা বাতাসের চোখে। বাতাস টেরও পায়নি কখন গোঁফটা গোঁফের জায়গা থেকে খুলে পড়ে গেছে। বাতাস শুধু একবার যে দরজাটা তার দিয়ে খুলে এই ভয়ঙ্কর সুগন্ধী বাড়িটার মধ্যে ঢুকেছিলো, সেই দরজাটা খুঁজে পেতে চেষ্টা করে। একসময় খুঁজেও পায়। বাইরে বেরিয়েই ছুটতে শুরু করে বাতাস। এবার ছুটতে পারে। বাড়ির পিছনের বাগানের মধ্যে দিয়ে ছুটে বেরিয়ে যায় বাতাস। একবার ঘাড় ঘুরিয়ে বাংলো বাড়িটা দেখে নেয় শুধু। ভোরের আলো ফুটে উঠেছে। রাতেরবেলা বুঝতে পারেনি, বাড়িটার দেওয়াল শ্যাওলা পড়ে সবুজ হয়ে গেছে। চারিদিকে ঝোপঝাড়ে ভর্তি। টিনের চালের ফাঁক দিয়ে অশ্বথ্থগাছের ঝুরি নেমে এসেছে।

বাতাস এবার দাঁড়িয়ে যায়। বাগান পেরিয়ে মাঠের মধ্যে চলে এসেছে সে। মাঠে দিগন্তবিস্তৃত ধানের চাষ। তারপরে গিয়ে আকাশ লাল হয়ে গেছে। সূর্য উঠবে। বাতাস বাড়িটার দিকে শেষবারের মত তাকায়। এখন অনেকটা দূরে চলে এসেছে সে। আজ তাবিজটা থাকলে এতসব ঝামেলা হতো না। নদীর দিকে এগিয়ে যায় বাতাস। এই প্রথম খালিহাতে বাড়ি ফিরবে আজ বাতাস।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]