বাদ পড়ছেন সাম্পাওলি

আহসান শামীমঃ খবরটা এখন আর গুজব বা গুঞ্জন নয়। বিদ্রোহ করে বসেছেন আর্জেন্টাইন খেলোয়াড়রা খোদ কোচ জর্জ সাম্পাওলির বিরুদ্ধে। তারা সামনে নাইজেরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচের আগেই কোচ বদলের দাবি তুলেছেন। আর সেখানকার গণমাধ্যম আভাস দিয়েছে সাম্পাওলির জায়গায় খেলোয়াড়রা কোচ হিসেবে দেখতে চাইছে প্রাক্তন জাতীয় দলের খেলোয়াড় হোর্হে বুরুচাগাকে।

আমেরিকা টিভি চ্যানেলের আর্জেন্টাইন সাংবাদিক সিবাস্টিয়ান তেম্পনি গতকাল রাত তার এক টুইটবার্তায় এই খবর জানিয়েছেন।বুরুচাগা ১৯৮৬ সালে বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হয়ে জয় সূচক গোল করেছিলেন।

শোনা যাচ্ছে, আর্জেনন্টিনা  দলের প্রধান খেলোয়াড়দের মতকে প্রাধান্য দিতে সাম্পাওলিকে ছাঁটাই করতে পারে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)। তাঁর স্থলাভিষিক্ত হচ্ছেন হোর্হে বুরুচাগা।কোচ সাম্পাওলির সঙ্গে খেলোয়াড়দের দ্বন্দ্বটা মূলত কৌশল নিয়ে। মেসিদের অভিযোগ, কোচের উদ্ভট ট্যাক্টিকসের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে ব্যর্থ হওয়াতেই ক্রোয়েশিয়ার বিপক্ষে তাদের এমন করুণ পারফরম্যান্স। কোচকে কৌশল বদলাতে বললেও অনড় থেকেছেন সাম্পাওলি। টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই নাকি তাদের মধ্যে এ নিয়ে দ্বন্দ্ব চলে আসছে।ম্যাচের পর সাম্পাওলি বলেছেন মেসিকে কোন পজিশনে খেলানো উচিত বুঝে উঠতে পারেননি তিনি৷ প্রশ্ন উঠছে, ম্যাচের আগে তাহলে তা তিনি কী স্ট্র্যাটেজি তৈরী করলেন?

বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেলেই মেসি, আগুয়েরোর মতো বর্ষীয়ান খেলোয়াড়রা অবসর নিতে পারেন বলেও শোনা যাচ্ছে৷ তবে অবসরের প্রসঙ্গ তুলে সাম্পাওলির উপরই চাপ বাড়ানোর কৌশল হিসেবে খেলোয়াড়রা এই হুমকী দিচ্ছেন বলে জানা গেছে।

দলের এই হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কোনও সদুত্তর দিতে পারেননি সাম্পাওলি৷ প্রথম ম্যাচে ড্রয়ের পর বলেছিলেন, লিওকে তিনি দোষ দিচ্ছেন না৷ পরের ম্যাচে হারার পর জানিয়েছেন, লিওর মেধা কাজে লাগাতে পারেনি আর্জেন্টিনা৷ ভিড়ের মধ্যে তা চাপা পড়ে গিয়েছে৷ এমনকী লিওকে কোথায় খেলানো হবে তা নিয়েও নিশ্চিত ছিলেন না এই কোচ৷ প্রশ্ন উঠছে, তাহলে তিনি কোচ হিসেবে কী দায়িত্ব পালন করলেন? নাকি তিনি পরোক্ষে মেসির ঘাড়েই দোষ চাপাচ্ছেন? মেসিই সাম্পাওলির দলের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারছেন না বলে ঘুরিয়ে আঙুল তুলছেন৷ কিন্তু অভিযোগ, পালটা-অভিযোগ যাই থাক না কেন, ফলাফল জানান দিচ্ছে, ভয়ানক চাপে আছে আর্জেন্টিনা দল৷ এই পরিস্থিতিতে খেলোয়াড়দের কথাই চূড়ান্ত হবে৷

ফুটবল বোদ্ধারা মনে করছেন, আইসল্যান্ডের বিরুদ্ধে ৪-২-৩-১ পদ্ধতি থেকে সরে  ক্রোয়েশিয়ার বিরুদ্ধে ৪-৩-৪ পদ্ধতিতে দলকে খেলানোই ছিলো সাম্পাওলির সবচাইতে বড় ভুল। এই পদ্ধতিকে আর্জেন্টিনা দল রক্ষণ ও মধ্যভাগে বেশ অরক্ষিত হয়ে পড়ে। আর এই সুযোগ কাজে লাগায় ক্রোয়েশিয়া। বোদ্ধারা মনে করছেন, এ ধরণের কৌশল পরিবর্তনের আগে যতোটা অনুশীলন প্রয়োজন কোচ সেই সময়টা নেননি।

ছবিঃ দ্য ইন্ডিপেন্ডেন্ট