বাড়ি বদলের আগুনে মিথিলা…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আমাদের বাড়ি বদলে যায় খুব দ্রুত। এ বাড়ি কোনো রাস্তা অথবা পাড়ার ভাড়াটে বাড়ি নয়, বাড়িটা মনের। সেই মনের বাড়ির বাসিন্দা বদল হলে ঘটে নানান বিপত্তি। এখনকার সমাজে এমন ঘটনাগুলো আমাদের প্রায়শই নাড়া দিয়ে যাচ্ছে। গেলো ক‘দিন ধরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ফাহমি-মিথিলার কিছু ছবি ঘুরে ফিরছে।সে ছবি দেখে তাদের ফ্যান- ফলোয়াররা কেউ কেউ মজা পাচ্ছে।কেউ কেউ আবার ইনিয়ে বিনিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়াও প্রকাশ করছে।ফাহমি বলছে তার ফেইসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছে।এই যুক্তি এখনও প্রমানিত নয়।

ক‘বছর আগে কাগজে-কলমে ডিভোর্স হয়ে যায় তাহসান-মিথিলার।তারপর থেকে বিভিন্নজনকে জড়িয়ে মিথিলাকে নিয়ে গুজব সব সময়ই ভেসে ছিলো হাওয়ায়,এবং এখনও সেসব গুঞ্জন আছে।কিন্তু প্রশ্ন হচ্ছে একবিংশ শতাব্দীতে এসেও আমরা চিন্তাভাবনায় এতটা পশ্চাৎমুখী কেন? এ সমাজে একজন ডিভোর্সি বা বিধবা মহিলা কি তার জীবনটা নিজের ইচ্ছেয় চালিত করতে পারেন না? তিনি কি তার ইচ্ছেমতো কারো সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করতে পারে না? আর যদি পারেন তাহলে সে সম্পর্কের পরিণতি বিয়েতে গিয়েই চুড়ান্ত হতেই হবে এমনও তো কোনো কথা হতে পারে না।মানুষ যখন একটা সম্পর্কে ভেতর দিয়ে হাঁটে তখন তারা অনেক কাছাকাছি চলে আসে।রোজকার জীবনের চেয়েও এতে থাকে ভিন্নসুর। আবার সে সম্পর্কেও একসময় বেজে উঠতে পারে ভাঙনের সুর। আর তখনই কি কাউকে না কাউকে অসুর হয়ে উঠতে হবে? নিজেদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তগুলোকে তখনই বারোয়ারি করে তুলতে হবে? এমন মানুষ আর যা-ই হোক, প্রশ্ন ওঠে তার সততা নিয়ে।ভাবতে হয়, তার বুকের ভেতর ভালোবাসা নামক উষ্ণপ্রস্রবনটা ছিলো মৃত।ভালোবাসা নামক শব্দটি কোনো গুরুত্বই বহন করে না তার কাছে।

মিথিলা তার ফেইসবুক পেইজে ফাহমির সঙ্গে তার সম্পর্কের কথা স্বীকার করেছেন। বলেছেন,‘এ ছবিগুলো ২০১৭-১৮ সালে তোলা।আরও বলেছেন,নিজের গোপনীয়তা রক্ষা করতে না পারার সকল দায় তার-ই। তিনি বলেছেন, ‘আমি এই ছবিগুলোর জন্য লজ্জিত নই।আমাদের দেশের কিছু সংকীর্ণ মনের মানুষ ছবিগুলো তাদের টাইমলাইনে দিয়েছে বলে আমি লজ্জিত।কিছু নিউজ পোর্টাল আমার সঙ্গে কথা না বলে এই বিষয়ক সংবাদ এবং ছবি প্রকাশ করেছে বলে আমি পীড়িত।’

অন্য অনেকের মতো মুষড়ে না পড়ে মিথিলার এই সাহসী উচ্চারণ আসলেই সবার জন্য দৃষ্টান্ত হয়ে থাকা উচিৎ।আপনার আমার সবার বেলাতেই কন্ঠ এরকমই দৃঢ় থাকা চাই।

ফাহমি-মিথিলার ছবির নিচে যেমন কেউ প্রতিবাদ করেছে তেমনি বিরূপ মন্তব্যের জোয়ারও বইছে।কেউ কেউ এর প্রেক্ষিতে মিথিলার মাতৃত্বের ভালো-মন্দ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।ক’টা ছবি যদি একজন মাকে ভালো মা অথবা মন্দ মায়ের তকমা দিতে পারে আজকের সমাজে তাহলে বলতে হবে পৃথিবী এগিয়ে গেলেও আমরা পেছনেই হাঁটছি।আমরা সাজগোজে, চলনে-বলনে অনেক এগিয়ে গেছি ভাবলেও মানসিক ভাবে এখনও সভ্য হইনি।সাদাকে সাদা, কালোকে কালো বলতে এখনও আমরা সংকুচিত।ভাবতে হচ্ছে আসলেই আমরা কবে সভ্য হবো???

এবার ফাহমির কথায় আসি।তার ভাষ্যমতে আমরা যদি বিশ্বাস করি তার আইডি হ্যাক হয়েছে তাহলে সব দেখেশুনে ধরেই নিতে হয় মিথিলার বিরাগভাজন কেউ এটা হ্যাক করেছে।নাহলে আর কিছু নয় শুধুমাত্র মিথিলাকেই হেয় করা কেনো, ফাহমির ফেইসবুকে কি আর কিছুই ছিলোনা?

জানা গেছে মিথিলা এ বিষয় নিয়ে সাইবার ক্রাইম মামলা করেছেন।এখন সংশ্লিষ্ট আইনপ্রয়োগকারী সংস্থার উচিত এ অপরাধী অথবা অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা।

বহু মানুষ মিথিলার ফেইসবুকে অথবা অন্যত্র নোংরা ও কুশ্রী ভাষায় আক্রমণ করছে। তাদের অনেকেই এই অভিনেত্রী, মডেল ও গায়িকার ফেইসবুক বন্ধুও। আমার জানতে ইচ্ছে করে মিথিলা যদি এতোই খারাপ তাহলে এই ফেইসবুক বন্ধুরা তাকেএখনও কেনো আনফ্রেন্ড করেনি ? জানতে ইচ্ছে করে তারা আরও কী দেখার অপেক্ষায় আছে?

আবিদা নাসরীন কলি

ছবিঃ গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]