বিজয়িনী নাই তব ভয়

নন্দলাল বসুর আঁকা

কয়েকজন শিক্ষিত মহিলা ঢাকা শহরে বসে মহিলাদের একটি মাসিক পত্রিকা প্রকাশে উদ্যোগী হন। সে বহু বছর আগের কথা। নেতৃত্বে ছিলেন লীলাবতী নাগ। পত্রিকার নাম বেছে দেয়ার কাজটি করলেন রবীন্দ্রনাথ। ১৯৩১-এর মে মাসে সেই পত্রিকা ‘জয়শ্রী’ প্রকাশ পেল। প্রথম সংখ্যার প্রচ্ছদ এঁকেছিলেন বিশিষ্ট শিল্পী নন্দলাল বসু।

  মহিলাদের কথা উল্লেখ করা হলেও পত্রিকা প্রকাশের আসল উদ্দেশ্য ছিল অন্য। চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুণ্ঠনের পর বাংলার বিপ্লবী আন্দোলনের উপর রাজরোষ বেড়েই চলেছিল। সেই সময় বিপ্লবী সংগঠনকে আদর্শের পথে একনিষ্ঠ রাখতে, তার চারপাশে সহানুভূতি ও সহমর্মিতার পরিমণ্ডল সৃষ্টি করতেই ‘জয়শ্রী’র জন্ম। পত্রিকাটিকে আশীর্বাদ জানিয়ে রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন, ‘বিজয়িনী নাই তব ভয়’।

আট দশক পেরিয়ে চলা এই পত্রিকা অবশ্য ব্রিটিশ শাসকের রোষ এড়িয়ে যেতে পারেনি। তিন-তিন বার পত্রিকার প্রকাশ বন্ধ করা হয়। একই আদর্শ নিয়ে প্রকাশিত ‘যুগান্তর’ বহু কাল আগে বন্ধ হয়ে গেলেও ‘জয়শ্রী’ আজও  প্রকাশিত হচ্ছে। হেমচন্দ্র ঘোষ, ভূপেন্দ্রকিশোর রক্ষিতরায়, ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত, বীণা ভৌমিক, কমলা দাশগুপ্ত, নলিনীকান্ত গুপ্ত, শান্তিসুধা ঘোষ-সহ বহু বিশিষ্ট বিপ্লবী এই পত্রিকায় স্মৃতিকাহিনী লিখেছেন। রমেশচন্দ্র মজুমদার, সুনীতিকুমার চট্টোপাধ্যায়, বিনয় সরকার, প্রেমেন্দ্র মিত্র, জীবনানন্দ দাশের মতো অনেকেই এই পত্রিকার জন্য কলম ধরেছেন। রবীন্দ্রনাথের বেশ কয়েকটি কবিতা ‘জয়শ্রী’তে প্রকাশিত হয়। দীনেন্দ্রনাথ ঠাকুরের স্বরলিপি-সহ ‘সঙ্কোচের বিহ্বলতায়’ গানটিও এখানে ছাপা হয়। ‘জয়শ্রী’র সুবর্ণ জয়ন্তী সংখ্যাটি আজ সংগ্রাহকের সম্পদ। এ ছাড়া বহু বিশেষ সংখ্যা প্রকাশ করেছে ‘জয়শ্রী’। প্রতিষ্ঠাতা-সম্পাদক লীলা নাগ  প্রয়াত হওয়ার পর ১৯৭০ থেকে আমৃত্যু পত্রিকা সম্পাদনা করেন বিপ্লবী সুনীল দাস। ২০০২ থেকে এই দায়িত্বে আছেন বিজয়কুমার নাগ।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ আনন্দবাজার পত্রিকা, কলকাতা