বিটিভি’র জন্য ভালোবাসা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফেইসবুক।সবার কাছেই জনপ্রিয় এই শব্দটি। তাই প্রাণের বাংলায় আমরা সংযুক্ত করলাম ফেইসবুক কথা বিভাগটি।এখানে ফেইসবুকের আলোচিত এবং জনপ্রিয় লেখাগুলোই  আমরা পোস্ট করবো।আপনার ফেইসবুকে তেমনি কোন লেখা আপনার চোখে পড়লে আপনিও পাঠিয়ে দিতে পারেন আমাদের ই-মেইলে।

সালাহ্ উদ্দিন শৈবাল

বিটিভির খবর নিয়ে গর্ব করার কিছু আগেও ছিলো না। এখনো নেই। সরকারী চ্যানেল..সব সরকারী খবর। আপনারা মজা করে বলবেন ‘বাতাবী লেবু’ চাষের খবর।

এখন কতোগুলো চ্যানেল? দিনরাত চব্বিশ ঘন্টা। সারা দিন খবর…সারা দিন খবর…রাজনীতির খবর..খিস্তি-খেউর। কারা কথা বলেন? কি বলেন? ভালো লাগে? আমার লাগে না। এতে দেশের উপকার হয় বলেও আমি মনে করি না।

এইসব দিনরাত্রি

বিটিভি আমাদের ছোটবেলাতে চলতো মাত্র ঘন্টা ছয়-সাত। বেলা পাঁচটায় শুরু হতো। রাত এগারটার পরে…রাতের শেষ খবর..তারপর বাংলাদেশের পতাকা। বিটিভির প্রচার শেষ হয়ে যেতো। খবর বাদে বাকী সময় বিটিভি কি করতো?

এখনকার মতো রাত-দিন চচ্চিশ ঘন্টা তার চলার প্রয়োজন ছিলো না। সামর্থও ছিলো না। শুক্রবারে সকালের অধিবেশন হতো…সেটাও মাত্র ঘণ্টা চারেক।

পৃথিবীর সেরা সব মুভি দেখানো হতো ‘মুভি অব দ্য উইক’এ। একের পর এক জনপ্রিয় সব সিরিয়াল দেখিয়েছে। টারজান…সিক্স মিলিয়ন ডলার ম্যান..ডাল্লাস…ম্যাকগাইভার।

পৃথিবী সেরা সব কার্টুন!

শুধু মাত্র আইন নিয়ে একটা অসম্ভব জনপ্রিয় অনুষ্ঠান দাঁড় করিয়ে ফেললেন রেজাউর রহমান। লক্ষ লক্ষ মানুষ সেই অনুষ্ঠান দেখার জন্য সারা সপ্তাহ বসে থাকতো। মাটি ও মানুষ নিয়ে সাইখ সিরাজ দেশে বিপ্লব করে ফেললেন। ফজলে লোহানীর পাশে দাঁড়াতে পারে এমন আর কোন উপস্থাপক কি আপনি এখন দেখেন? দেখেছেন?

আমি নিজে বিটিভিতে কয়েকবার বির্তক করেছি। বির্তকের মতো বোরিং অনুষ্ঠান মানুষ আগ্রহ নিয়ে দেখতো! কোথাও গেলে ঠিক ঠিক কেউ না কেউ এসে বলতো..`ভাই আপনাকে চিনেছি। আপনি বিতর্ক করেন‘। ভাবাই যায় না এখন!

সারা সপ্তাহ বসে থাকতাম একটা ভালো নাটক দেখবো বলে…`এ সপ্তাহের নাটক’। কত সব নাটক দেখেছি! এখন ভাবলে অবাক হতে হয়। বিটিভি নাটক বেশির ভাগই ভালো হতো। গল্প…অভিনয়…পরিচালনা…। সাকসেস রেট এখনকার যে কোনো প্রোডাকশ্‌ন হাউজের জন্য অকল্পনীয়! আর কোন অপশন ছিলো না বলে…ভালো লেগেছে…এমন না কিন্তু ব্যাপারটা। জহুরা…ইডিয়ট…পারলে না রুমকি…কতো নাম…। এখনো ইউটিউবে হঠাৎ সেই সময়ের নাটক পেয়ে গেলে…আমি বসে যাই। এখনো ভালো লাগে! এইসব দিনরাত্রী…মাটির কোলে…ভাঙ্গনের শব্দ শুনি। নাটকের নামগুলো ভাবুন শুধু। গল্প..অভিনয়…না হয় ভুলেই গেলেন।

কি দূর্দান্ত সব সময় বিটিভি আমাদের উপহার দিয়েছে। আমাদের সময় ছিলো বিটিভির সময়!

যদি কিছু মনে না করেন

‘কোথায় কেউ নেই’ নাটকের শেষ দৃশ্য..যেখানে বাকের ভাইয়ের মৃত দেহ মুনা গ্রহন করবে সেন্ট্রাল জেলের দরজায়..ভোর বেলায়..ফজরের আযানের পর পর।

ঠিক সেই ভোরের আলো…সেই ভোরের আবছায়া বেদনার সময় ধরতে পরিচালক বরকত উল্লাহ ঠিক ঠিক রাত তিনটায় সুর্বনাকে নিয়ে হাজির হয়েছিলেন সেন্ট্রাল জেলের দরজায়।

জেলার মুনাকে জিজ্ঞেস করলেন, `আপনি বাকেরের কে হন?‘

মুনা প্রশ্ন শুনে একটু থমকালো। `আমি…আমি কেউ না..।‘

…আজকে বিটিভিকে বলতে ইচ্ছে হলো….`তুমি আমার কাছে অনেক কিছু।‘

মফস্বলের ছোট্ট শহরে বসে আমি পৃথিবী চিনেছি বিটিভির ভালোবাসায়।

পৃথিবীতেই এমন ইতিবাচক প্রভাব বিস্তারী মিডিয়ার ইতিহাস কিন্তু খুব বেশি নেই। বিশৃঙ্খল মিডিয়ার যুগে এখনতো আরো নেই।

জাতীয় জীবনে এমনি আমাদের সফলতা কম। বিটিভির সংগে থাকা অজস্র সৃষ্টিশীল মানুষেরা তাবৎ সীমাবদ্ধতাকে মাথায় নিয়ে বারবার করে দেখিয়েছেন একটি গণমাধ্যম চেষ্টা করলে কিভাবে মানুষের এতো কাছাকাছি যেতে পারে। তাকে শেখাতে পারে। ভাবাতে পারে। আনন্দ দিতে পারে।

কোন কিছু নিয়ে মজা করা..ফালতু বলা সবচেয়ে সহজ। সোশ্যাল মিডিয়া তা আরো সহজ করে দিয়েছে। বেশির ভাগ মানুষ সহজ কাজটা করবেন এটাই স্বাভাবিক। তবু আমি জানি, একদিন যোগ্য কেউ কঠিন কাজটিও করবেন। বিটিভির গৌরবের সেই ইতিহাস বিশ্ববাসীর জন্য লিখবেন। আমি সেই অপেক্ষায় রইলাম।

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]