বিদায় কমরেড ফিদেল ক্যাস্ট্রো

 চলে গেলেন ফিদেল ক্যাস্ট্রো। নির্বাপিত হলো সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের এক অগ্নিশিখা।যবনিকা নামলো এক মহান বিপ্লবী জীবনের ওপর।

আজ ভোরে ৯০ বছর বয়সে কিউবায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করলেন।কিউবার রাষ্ট্রিয় টেলিভিশনে খবরটি জানান তাঁর ছোট ভাই, কিউবার বর্তমান প্রেসিডেন্ট রাউল ক্যাস্ট্রো।

গত কয়েক বছর ধরে ব্যধি তাঁকে শয্যাশায়ী করে ফেলেছিল। অসুস্থতার কারণেই ২০০৬ সালে সমাজতন্ত্রের এই অবিসম্বাদিত নেতা কিউবার ক্ষমতা থেকে সরে দাঁড়ান।cubanrevolution

গত জুন মানে কিউবার কমিউনিস্ট পার্টির সম্মেলনে সর্বশেষ এই বিপ্লবী নায়ককে জনসমক্ষে দেখা যায়। তিনি তার শেষ বক্তৃতায় বলেছিলেন, “কিউবার সমাজতান্ত্রিক আর্দশ এবং কিউবার জনগণ শেষ পর্যন্ত বিজয়ী হবেই”।

ফিদেল ক্যাস্ট্রো ১৯২৬ সালে কিউবার ওরিয়েন্টি প্রদেশে জন্মগ্রহণ করেন। যৌবনেই তিনি সমাজতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে জড়িত হন। হাভানা বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করার সময়ই কিউবার তৎকালীন কুখ্যাত বাতিস্তা সরকারকে উৎখাত করে ব্যর্থ হন। তখন তাকে রাষ্ট্রদ্রোহীতার অপরাধে কারাগারে পাঠানো হয়। কিন্তু ১৯৫৯ সালে ক্যাস্ট্রো সফল হন তাঁর লক্ষ্য অর্জনে। সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের আরেক নায়ক চে গুয়েভারাকে সঙ্গে নিয়ে গেরিলা বাহিনী গঠন করে সশস্ত্র বিপ্লবের মাধ্যমে তিনি কিউবারি স্বৈরাচারী সরকারকে উৎখাত করেন। জন্ম হয় সমাজতান্ত্রিক কিউবার।

দীর্ঘ সময় ফিদেল ক্যাস্ট্রো কিউবার রাষ্ট্র ক্ষমতা পরিচালনা করেছেন। লড়াই করেছেন আমেরিকার মতো শক্তিধর পরাশক্তির বিরুদ্ধে। আমেরিকা বহু বছর ধরে কিউবার বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক অবরোধও জারি করে রাখে। কিন্তু হার মানেননি ক্যাস্ট্রো আর তাঁর ভাষায় “কিউবার জনগণ”। রাজনৈতিক বুদ্ধি, সমাজতান্ত্রিক আদর্শের প্রতি আনুগত্য আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা এই মানুষটি গোটা বিংশ শতাব্দী জুড়ে ছিলেন সংবাদ শিরোনাম।

তাঁর মৃত্যুতে পৃথিবী জুড়ে সমাজতন্ত্রের আদর্শে বিশ্বাসী মানুষ এক অকৃত্রিম বন্ধুকে হারালো।

 প্রানের বাংলা প্রতিবেদন