বিদায় গিরিশ কারনাড

অভিনেতা, পরিচালক, নাট্য ব্যক্তিত্ব গিরিশ কারনাডের জীবনাবসান ঘটলো। আজ সোমবার ভোরে বেঙ্গালুরুর লাভেলি রোডের বাড়িতে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন এই অসাধারণ মানুষটি চলে যাবার সময় তিনি এসে দাঁড়িয়েছিলেন ৮১ বছর বয়সে।

১৯৩৮ সালের ১৯ মে ভারতের বর্তমান মহারাষ্ট্রের মাথেরানে জন্মগ্রহণ করেন গিরিশ কারনাড। চার ভাইবোনের মধ্যে তিনি ছিলেন তৃতীয়। তাঁর পড়াশোনার শুরুটা হয়েছিল কর্ণাটকে। অঙ্ক ও সংখ্যাতত্ত্বে স্নাতক করেছেন। এরপর অক্সফোর্ডে রাজনীতি ও অর্থনীতি নিয়ে পড়াশোনা করেন। গিরিশ কারনাডের স্ত্রী সরস্বতী গণপতি। তাঁদের দুই সন্তান।

চার দশকের বেশি সময় ধরে তিনি নাট্য চর্চার সঙ্গে যুক্ত থেকেছেন। বহু নাটক লিখেছেন। হিন্দি ছাড়াও আরও বেশ কয়েকটি ভাষার নাটকে অভিনয় করেছেন। নাট্য পরিচালক হিসেবেও কাজ করেছেন।
কন্নড় ভাষায় লেখক হিসেবে তিনি বেশ পরিচিতি। ভারত সরকারের সর্বোচ্চ পুরস্কার পদ্মশ্রী এবং পদ্মভূষণ লাভ করেছেন তিনি। ঝুলিতে রয়েছে চারটি ফিল্মফেয়ার অ্যাওয়ার্ডও।
১৯৭০-এ মুক্তিপ্রাপ্ত ‘সংস্কার’ ছিল তার প্রথম সিনেমা । একে একে ‘নিশান্ত’ (১৯৭৫), ‘মন্থন’ (১৯৭৬), ‘স্বামী’ (১৯৭৭), ‘পুকার’ (২০০০)- ইকবাল( ২০০৫), ‘এক থা টাইগার’ (২০১২) এবং টাইগার জিন্দা হ্যায়’তেও অভিনয় করে মুগ্ধ করেন দর্শকদের। ১৯৮৬-৮৭ সালে ভারতীয় টেলিভিশনে ‘জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক  ‘মালগুড়ি ডেজ’-এ তিনি অভিনয় করেন।

শুধু নিজের কাজ নয়, বিভিন্ন সময়ে রাজনৈতিক, সামাজিক নানা ঘটনায় বারবার সাহসী ভূমিকা রেখেছেন গিরিশ কারনাড। সমাজের অনেক সমস্যা তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়। তাঁর নাটকে মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে বিতর্ক।  মৃত্যুর হুমকিও দেওয়া হয় তাঁকে। সাংবাদিক গৌরী লঙ্কেশ হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদ করেন। ওই সময় নিজেকে ‘আরবান নকশাল’ বলে ঘোষণা দেন তিনি। নকশালদের উৎসাহ দিচ্ছেন, এই অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। বাংলাদেশেও তাঁর কয়েকটি নাটক মঞ্চস্থ হয়েছে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ গুগল