বিদায় নিলেন সেই চুম্বন দৃশ্যের পাত্রী

সেই বিখ্যাত চুম্বন দৃশ্যের পাত্রী পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন। ১৯৪৫ সালের ১৪ আগস্ট দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি ঘোষণার আনন্দে নিউইয়র্ক শহরের টাইমস্কোয়ারের জনারণ্যে যুদ্ধফেরত এক নাবিককে জড়িয়ে ধরে প্রকাশ্যে চুমু খেয়েছিলেন সেবিকার পোশাক পরিহিত সেই নারী। আর সেখানে উপস্থিত এক ফটোগ্রাফারের ব্যস্ত ক্যামেরার একটি ক্লিক তাকে পরি

গ্রেটা ফ্র্যায়েডম্যান ও জর্জ মেনডোনসা

চিত করে দিয়েছিলো গোটা পৃথিবীর কাছে। সেই তরুণী গ্রেটা ফ্র্যায়েডম্যান ৯২ বছর বয়সে পৃথিবী থেকে বিদায় নিয়েছেন।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষলগ্নে পরপর দুটি পারমাণবিক বোমার আঘাতে তছনছ হয়ে যাওয়া জাপান মাথা নোয়াতে বাধ্য হয় মার্কিন সেনাবাহিনীর কাছে।

বিশ্ব জুড়ে যুদ্ধ সমাপ্তির হাত ধরে সেদিন তৈরি হয়েছিলো নতুন ইতিহাস ৷ যুদ্ধ শেষের আনন্দে যখন বিভিন্ন প্রান্তে শান্তির স্বাদ নিতে পথে নেমে এসেছিলো বিশ্ববাসী তখন টাইমস্কোয়ারের ব্যস্ত রাস্তার মাঝে দাঁড়িয়ে সেই সেবিকা আর একজন মার্কিন নৌ-সেনা প্রাণভরে চুমু খেয়েছিলেন।

বয়সজনিত কারণেই মৃত্যু হয়েছে গ্রেটার। আমেরিকার ভার্জিনিয়ার রিচমন্ড এলাকাতে বসবাস করতেন তিনি৷ তবে প্রায় ৭১ বছর আগে তিনি যে কাণ্ডটি ঘটিয়েছিলেন তাঁর জন্য গোটা বিশ্ব তাঁকে আজও মনে রেখেছে৷ তবে সেদিন কাকে চুমু খেয়েছিলেন গ্রেটা? সেই নৌ-সেনা কি ছিলো তার প্রেমিককে ?

নিজের বিখ্যাত সেই ছবির পাশে

জানা যায়, সেদিন টাইমস্কোয়ারের রাস্তায় থিক থিক করছে লোক৷ যুদ্ধ শেষে বাড়ি ফিরছিলেন জর্জ মেনডোনসা নামে এক সৈন্য। সেই সময় রাস্তার ধারেই দাঁড়িয়েছিলেন নার্স গ্রেটা ফ্রায়েডম্যান ৷ যুদ্ধ জয়ের আনন্দে নিজেকে সামলাতে পারেননি তখন ২১ এর গ্রেটা ৷ জাপটে ধরে সকলের সামনে মেনডোনসাকে চুমু খায় সে৷ সেই ছবি লাইফ নামে একটি ম্যাগাজিনে প্রকাশিত হয়৷ ছবিটির নাম দেওয়া হয় ‘দ্য কিস’ ৷ পরে সেই ঐতিহাসিক চুম্বন ছড়িয়ে পরে বিশ্বের নানা প্রান্তে৷ যদিও এরপরে ওই যোদ্ধার সঙ্গে আর কখনও গ্রেটার দেখা হয়েছে কিনা তা জানা যায়নি৷ কিন্তু তাদের দুজনের সেই দলিল আজও প্রাসঙ্গিক৷ পৃথিবীজুড়ে যুদ্ধ থামার পক্ষে সেই চুম্বন আজো বার্তা ছড়ায় মানুষের মনে।

জন্মসূত্রে অষ্ট্রিয়ান গ্রেটা আসলে নার্স ছিলেন না। পেশায় তিনি ছিলেন এক দাঁতের চিকিৎসকের সহকারী। সেদিন ওই মুহূর্তে গ্রেটার পরনে ছিলো নার্সের পোশাক। ২০১২ সালে সিবিএস নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে গ্রেটা জানান, সেই নৌ-সেনাটিই তাকে সেদিন আনন্দে জড়িয়ে ধরে আবেগে চুমু খেয়েছিলো।

গ্রেটা ফ্র্যায়েডম্যান ১৯৫৬ সালে বিয়ে করেন এক আমেরিকান চিকিৎসককে।

ছবি: গুগল