বিদায় সাইদা খানম

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

ফরিদা আক্তার, সভানেত্রী নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা

বাংলাদেশের প্রথম পেশাদার নারী আলোকচিত্র শিল্পী সাইদা খানম আর নেই। ১৮ আগস্ট ভোর ৩টার দিকে ঢাকার বনানীতে নিজের বাসায় তার মৃত্যু হয়। [ইন্না লিল্লাহে ওয়া ইন্না ইলাইহে রাজেউন]। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৩ বছর। তাঁর মৃত্যুতে আমরা, নারীগ্রন্থ প্রবর্তনার পক্ষ থেকে গভীর শোক প্রকাশ করছি।

সাইদা খানম প্রথম পেশাদার নারী আলোকচিত্র শিল্পী বলে আমরা তাঁকে চিনেছি ১৯৯৮ সাল থেকে। সে সময় নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা “শত বছরে শত নারী” গ্রন্থটির জন্যে যাঁরা ওই সময় পর্যন্ত ৬০ বছর বয়স এবং তারো বেশী বয়সের ছিলেন সে রকম বিশিষ্ট নারীদের কথা তুলে ধরেছি। সমাজের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা যে অবদান রেখেছিলেন তাঁদের সেই অবদান এবং তাঁদের সংগ্রামের কথা লেখা হয়েছিলো।সেদিন তিনি হেসেই রাজী হয়েছিলেন। তাঁর জীবনের নানা কথা, বিশেষ করে এই ভিন্ন ধর্মী পেশায় প্রথম নারী হিসেবে যুক্ত হওয়া কেমন ছিলো তার বর্ণনা দিয়েছিলেন।

তাঁর জন্ম ১৯৩৭ সালে, ফরিদপুরে।।মাত্র ১২ বছর বয়স থেকেই তিনি ছবি তুলতেন। ছেলেবেলায় জানালার পাশে বসে বাইরের দৃশ্য দেখে চিরস্থায়ীভাবে ধরে রাখার ইচ্ছা থেকে ছবি তোলার ইচ্ছা জাগে বলে তিনি জানান। তিনি যেমন বাধা বিপত্তির সম্মুখিন হয়েছিলেন তেমনি পেশাদার ফটোগ্রাফার জায়েদী স্টুডিও’র জায়েদী সাহেব এবং সিনেমা পত্রিকা চিত্রালীর সম্পাদক এস এম পারভেজ এমনকি চিত্র পরিচালক সত্যজিৎ রায়ের কাছ থেকে অনুপ্রেরণা পেয়েছিলেন। ১৯৫৬ সালেই তিনি জার্মাণির কোলনে আন্তর্জাতিক ফটো প্রতি্যোগিতায় পুরুষ্কৃত হয়েছিলেন।

তাঁর সবচেয়ে বড় ভূমিকা ছিল তিনি সাপ্তাহিক বেগম পত্রিকার আলোকচিত্রী ছিলেন। নারীদের জন্যে একমাত্র পত্রিকা নুরজাহাণ বেগমের সম্পাদনায় বেগম পত্রিকা বাংলাদেশের সাধারণ নারীদের জীবনের অসাধারণ ভূমিকা রেখেছে। সেই পত্রিকা ছবি ছিলো অনেক বড় আকর্ষণ। এছাড়া তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের লাইব্রেরিয়ান হিশেবে কাজ করেছেন। একই সঙ্গে তিনি একজন লেখিকা হিশেবেও বেশ পরিচিত ছিলেন। ফটো সাংবাদিক হিসাবে দীর্ঘ ক্যারিয়ারে সাইদা খানমের তোলা প্রায় ৩ হাজার ছবি প্রকাশিত হয়েছে। তাঁর লেখা বই ও প্রবন্ধের সংখ্যাও কম নয়।

আমরা তাঁকে সব সময় নারীদের আয়োজিত সভায়, মিছিলে, সমাবেশে ছবি তুলতে দেখেছি। ক্যামেরা হাতে নিয়েই ছবি তুলতে তুলতেই হাসি মুখে আমাদের প্রতি সমর্থন ঘোষণা করতেন। আর আমরা তাঁকে দেখে অনুপ্রাণিত হতাম।

নারীগ্রন্থ প্রবর্তনা আয়োজিত ১৯৯৯ সালে জাতীয় নারী গ্রন্থ মেলা ও সমাবেশে তিনি লেখিকা এবং আলোকচিত্রি হিশেবে যোগ দিয়েছিলেন এবং বক্তব্য রেখেছিলেন।

আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।

ছবি: লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]