বিপজ্জনক ইংরেজদের মুখোমুখি বাংলাদেশ

আহসান শামীম

কোথায় যেন সুরের ছন্দপতন। সবকিছু ঠিকঠাক চলছে না, তা  দিনের আলোর মতো স্পষ্ট ।অনুশীলনে-মাঠে এমন কী সংবাদ সম্মেলন কক্ষেও চেনা মুখগুলো কেমন যেন অচেনা।কোন কথা-সমালোচনা কিছুই হজম করতে পারছেন না ক্রিকেটাররা। হাসিমুখের জায়গায় কথাবার্তায় কেমন যেন আক্রমণাত্মক সুর। এই তালিকায় মাহমুদউল্লাহ থেকে মুশফিক প্রায় সবাই। এমন চাপ আর কথার ফুলঝুড়ির মাঝেই আজ বুধবার ইংল্যান্ড এর বিপক্ষে জয়ের প্রত্যাশা নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ জাতীয় ক্রিকেট দল। কিন্তু মাঠে নামার আগে বাংলাদেশকে তাড়া করবে পিঠের চোটের কারণে বাদ পড়া সাইফুদ্দিনের অনুপস্থিতি। এই আসরে তাকে আর দেখা যাবে না। ্ি্ে িপেস অলরাউন্ডারের বদলে দলে এসেছেন রুবেল হোসেন।

 

টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ দলের পথচলার ১৭ বছর অতিক্রান্ত। খেলেছে ১১৬টা  ম্যাচে, মুখোমুখি হয়েছে ১৭ ভিন্ন প্রতিপক্ষের। টেস্ট খেলুড়ে দেশ হলেও ইংল্যান্ডকে কখনো এই সংস্করণে সামনে পায়নি লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। আজ প্রথম দেখা হচ্ছে দু’দলের।

বুধবার বাংলাদেশ সময় বিকেল ৪টায় আবুধাবিতে শুরু হবে বাংলাদেশ-ইংল্যান্ড ম্যাচ। দিনের ম্যাচ হওয়ায় শিশিরের কোন সমস্যা নেই।নিজেদের সামর্থ্যের সেরাটা দিয়ে লড়াই জমানোর সুযোগ দুই দলের জন্যই সমান।ওয়েস্ট ইন্ডিজকে গুঁড়িয়ে বিশ্বকাপ শুরু করেছে ওয়েন মরগ্যানের দল। উড়তে থাকা ইংলিশদের সামনে চাপে থাকা বাংলাদেশ। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে নামার পর সব টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে অন্তত একটি টি-টোয়েন্টি খেলার চক্র পূরণ হবে বাংলাদেশের। প্রথম দেখায় ইংল্যান্ডকে হারিয়ে দিতে পারলে সেটা হবে নিশ্চিতভাবে বড় কিছু।

বাংলাদেশ এর জন্য ইংল্যান্ড দলে যেসব খেলোয়ার ভয়ংকর হতে পারে তাদের মধ্যে যে নামটা সামনে আসে তিনি আদিল রশিদ।আদিল রশিদকে প্রথমেই রাখার কারণ তার ধরণ ও সাম্প্রতিক ফর্ম।বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচে নেমেই এই লেগ স্পিনার ওয়েস্ট ইন্ডিজকে ধসিয়ে মাত্র ২ রানে নিয়েছেন ৪ উইকেট।আদিল রশিদের প্রথাগত লেগ স্পিনের সঙ্গে তার গুগলিটাও বেশ ভয়ংকর।লেগ স্পিনারদের বিপক্ষে বাংলাদেশ বরাবরই দুর্বলতা।

জেসন রয়, বিপিএল খেলেছেন। বাংলাদেশর অতি চেনা মুখ।মন্থর  পীচে খেলা হলে জেসন রয় খুব একটা সুবিধা নাও করতে পারেন।স্বভাবগত নিজের দিনে এই ওপেনার হতে পারেন বিস্ফোরক।ছয় মারাটা তাঁর মুল অস্ত্র।টি-টোয়েন্টিতে তাঁর স্ট্রাইকরেট ১৪৫.২৩।

টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ওপেনার বলা যায় ইংল্যান্ড দলের জস বাটলারকে।নিজেকে মানিয়ে নিতে পারেন যেকোনো পরিস্থিতিতে, অনায়াসে খেলতে পারেন বড় শট।উইকেটকিপার এই ব্যাটার বাটলার বিশ্বের যেকোনো দলের জন্যই বিপদজনক। ১৩৯.৩৩ স্ট্রাইকরেটে আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টিতে ১ হাজার ৮৯৫ রান তাঁর।

অফ স্পিন বোলিং আর ঝড়ো ব্যাটিং মিলিয়ে মঈনও ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপ দলের অন্যতম সেরা অস্ত্র। ১৩৫.৩৮ স্ট্রাইকরেট দেয় তার ব্যাটিং সামর্থ্যের প্রমাণ।বাংলাদেশের ক্রিকেটারদের নাড়ি নক্ষত্র তাঁর অতি পরিচিত।

টাইমাল মিলস, বিশ্বের সেরা পাঁচ ডেথ ওভার স্পেশালিষ্টদের একজন এই বাঁহাতি পেসার। টি-টোয়েন্টিতে ডেথ ওভারে তার ইকোমনি রেট মাত্র ৭.৫২। সঙ্গে আছেন  আফগানিস্তানের রশিদ খান আর নিউজিল্যান্ডের অ্যাডাম মিলনে।

মাহমুদউল্লাহ’র  শেষের ঝড় থামাতে টাইমাল মিলস রাখতে পারেন বড় ভূমিকা।যে কারনে টাইমাল মিলস  বাংলাদেশের আরেক চ্যালেঞ্জ।

অবশ্য টি-টুয়েন্টি ম্যাচ ইংল্যান্ড এর বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম ম্যাচ হলেও, আদিল রশিদ,জস বাটলার,মঈন আলী,জনসন রয়দের সাথে খেলার অভিজ্ঞতা আছে।প্রথম ম্যাচের দুঃস্মৃতি ভুলে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচে ঘুরে দাঁড়াতে চায় দল এমন কথা জানিয়েছেন অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। কৌশলেও আসতে পারে পারিবর্তন। একাধিক ক্রিকেটারকে একাদশের বাইরে রেখেই মূল একাদশ সাজাতে পারে টিম ম্যানেজমেন্ট।

স্পীনে ইংল্যান্ড দল বরাবরই অন্য দলের তুলনায় বেশী দূর্বল।বিশ্বকাপ খেলার আগে ইংল্যান্ড দলের বালতিতে বল ভিজিয়ে অনুশীলন করার কথা অনেকই জানেন।সাকিব, মাহেদীর মত স্পীন আর মোস্তাফিজের মত বোলারদের বল সামলাতে হবে ইংল্যান্ড কে। মোস্তাফিজ যদিও কিছুটা অফফর্মে তবে মোস্তাফিজের দিন ফিরলে ইংল্যান্ড এর জন্য কিছুটা কঠিনই হবে বড় রান করা।

ম্যাচটা যেহেতু আবুধাবিতে, তাই বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচটাকে চ্যালেঞ্জিংই মনে করে ইংল্যান্ড। আজ সংবাদ সম্মেলনে ইংলিশ উইকেটকিপার–ব্যাটসম্যান জস বাটলার সে কথাই জানিয়ে বলেন , “বাংলাদেশ ঘরের মাঠে খুবই ভালো দল। আবুধাবির কন্ডিশন অনেকটা তাদের ঘরের মাঠের মতোই। দলটা শক্তিশালী। গত কয়েক বছর ওরা অনেক সাফল্য পেয়েছে, বিশেষ করে ঘরের মাঠে। এখন যে ধরনের কন্ডিশন থাকবে, সেটার সঙ্গে ওদের পরিচয় থাকার কথা। আমরা কঠিন চ্যালেঞ্জই প্রত্যাশা করছি।”

অন্যদিকে, ভীষণ চাপে থাকা বাংলাদেশের কি ইংল্যন্ডের মতো শক্তিশালী দলকে কঠিন সময় দেওয়া সম্ভব? প্রশ্ন শুনেই অবাক হয়ে গেলেন বাংলাদেশের পেস বোলিং কোচ ওটিস গিবসন। তার মতে, নিজেদের দিনে যে কাউকেই হারাতে সক্ষম মাহমুদউল্লাহর দল।তিনি আরও বলেন “ওরা আমাদের চেপে ধরতে চাইব। আবার আগ্রাসী খেলতে গিয়ে সুযোগও দেবে। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ৫৫ রান তাড়া করতে গিয়েই ৪ উইকেট পড়েছিল ওদের। আমরা এসব জিনিস ইতিবাচকভাবে নিতে চাই।”

ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box