বিশ্বকাপের সেই ভাস্কর

বিশ্ব ফুটবলের এক পরাশক্তি ব্রাজিল যখন ১৯৭১ সালে চারবার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়ে জুলে রিমে কাপটি নিয়ে বাড়ি চলে গেলো তখনই ফিফা তাদের নিজস্ব একটি কাপের প্রয়োজনীয়তা অনুভব করলো। সোনার পাতে মোড়ানো সেই জুলে রিমে কাপের উচ্চতা ছিলো ১৪ ইঞ্চি। গায়ে খোদাই করা ছিলো গ্রীকদের বিজয়ের দেবী ‘নাইকে’-এর মূর্তি।

নতুন কাপের জন্য ফিফা কর্তৃপক্ষ পৃথিবীজুড়েই নকশা পাঠানোর জন্য আহ্বান জানালেন স্থপতি আর শিল্পীদের কাছে।সাতটি দেশ থেকে ৫৩টি নকশা জমা পড়লো তাদের কাছে। কাপের সেইসব নকশার মধ্যেই ছিলো ইতালীর মিলান শহরের সিলভিও গাজানিগার নকশাটি। ৫০ বছর বয়সী গাজানিগা ছিলেন নিভৃতচারী এক ভাস্কর। মিলান শহরে নানা ধরণের লোগো আর সিম্বলের নকশা তৈরী করেই তাঁর দিন কাটতো। কাজ করতেন মিলানেই ‘বার্তোনি’ নামে একটি ডিজাইন বিষয়ক ফার্মে। সেখানেই তিনি প্রথম শুনেছিলেন বিশ্বকাপের নতুন নকশা আহ্বান করার কথা। আর খবরটা শুনে একটা নকশা করে পাঠিয়ে দিয়েছিলেন ফিফার সদর দফতরে। আর তাতেই বাজিমাৎ করলেন গাজানিগা। ৫৩ জনকে টপকে তার নকশাটিই পছন্দ করলেন ফুটবল কর্তারা। যথারীতি ডাকযোগে গাজানিগাকে নকশা চূড়ান্ত করার নির্দেশও দেয়া হলো।

গাজানিগার নকশার ট্রফিটি সাড়ে ১৪ ইঞ্চি লম্বা আর ১৮ ক্যারেটের সোনা দিয়ে মোড়ানো।

গাজানি চেয়েছিলেন এমন একটা নকশা তৈরী করতে যার মধ্যে শক্তি, প্রাণশক্তি, বিজয়ের আনন্দ, অর্জন আর পৌরুষ মিলেমিশে থাকে। ভাবনা চিন্তা করে ঘরে বসে তেমনই একটা নকশা তৈরী করেছিলেন তিনি। আর সেই নকশায় গড়া বিশ্বকাপটি আজো অপ্রতিদ্বন্দী।

ইতালীর সেই মানুষটি এসে দাঁড়িয়েছেন ৯৩ বছর বয়সে। আজো তার কাছে বিপুল আনন্দের অভিজ্ঞতা হচ্ছে তারই করা নকশায় বিশ্বকাপটি তার দেশ ইতালী ১৯৮২ ও ২০০৬ সালে জিতে নিয়েছিলো। তিনি সাক্ষাৎকারে বলেছেন, বিষয়টা তার নিজের কাছে খুব সম্মানেরও।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ ন্যারেটিভলি ম্যাগাজিন