বিশ্বকাপ ফ্রান্সের

বিশ্বকাপের শেষ দৃশ্যে মস্কোয় বৃষ্টি নামলো। পরাস্ত ক্রেয়েশিয়ার খেলোয়াড়দের ভেতরের কান্না কি? হয়তো তাই। একটি ম্যাচে কত ঘটনা! আত্নঘাতী গোল, পেনাল্টি, ফরাসী গোলরক্ষকের ভুলে গোল হজম, মাঠের ভেতরে দুজনের অনুপ্রবেশ, ফ্রান্সের খেলোয়াড় এমবাপের মাত্র উনিশ বছর বয়সে বিশ্বকাপ ফাইনালে গোল করা আর শেষদৃশ্যে বৃষ্টির হাত ধরে রাশিয়ার ফুটবল রণক্ষেত্রের ওপর পর্দা নামলো। আলো নিভলো পৃথিবী জুড়ে ফুটবলের সবচাইতে বড় আসরের।

একটা রুদ্ধশ্বাস ম্যাচই বলা যায় ২০১৮ সালের ফাইনালকে। প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠে আসা ক্রেয়েশিয়ার ম্বপ্নযাত্রায় ইতি টেনে দিলো ফ্রান্সের ৪ গোল।রাশিয়ার বিড়ালের ভবিষ্যদ্ববাণী ফলে গেলো শেষে। অবশ্য ফ্রান্সের জালও অক্ষত থাকেনি। ক্রেয়েশিয়া ফ্রান্সের জালে দুবার বল ছোঁয়াতে পেরেছে। খেলার ফলাফল ফ্রান্স-৪, ক্রোয়েশিয়া-২।

এবারের বিশ্বকাপ যেন শুরু থেকেই নানা অঘটনে খচিত ছিলো। এবার ১২টি আত্নঘাতী গোল হয়েছে বিশ্বকাপে। পেনাল্টি হয়েছে ৬৮টি। ছোট দলগুলো শুরু থেকেই বড় দলের জন্য আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছিলো। বিশ্বকাপের মাঠ থেকে বিদায় নিয়েছে ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানী, পর্তুগাল, ইংল্যান্ড আর স্পেনের মতো দল। লড়াই করেও ভাগ্য ফেরাতে পারেনি বেলজিয়াম। এশিয়ার শক্তি হিসেবে অনবদ্য ফুটবল খেলেছে জাপানের ‘ব্লু সামুরাইরা।ছেড়ে কথা বলেনি দক্ষিণ কোরিয়াও। জার্মানীর মতো বাঘা দলকেও বাড়ি ফেরার টিকিট কেটে দিয়েছে তারা। এবারের বিশ্বকাপে খালি হাতে বাড়ি ফিরেছে আফ্রিকান দলগুলো। কোথাও দাঁড়াতে পারেনি ল্যাতিন আমেরিকার অন্য দলগুলোও।

বাংলাদেশে বিশ্বকাপ ফুটবলের এই জ্বর একমাস ভালো ভাবেই রাজত্ব করেছে। চায়র দোকান থেকে রাস্তা, রাস্তা থেকে বাড়িতে টিভি পর্দার সামনে-সব জায়গাতেই চলেছে ধুন্ধুমার ঝগড়ার ঝড়। সংঘাতের ঘটনাও ঘটেছে অনেক জায়গায়। আসলে ফুটবল এমনই এক খেলা। উত্তেজনা, ঘাম, উল্লাস আর পরাজয়ের কান্না-সব মিলে যেন জীবনের গল্প। চার বছরের জন্য ছুটিতে গেলো বিশ্বকাপের আয়োজন। রেখে গেলো অনেক হাসিকান্না আর দীর্ঘশ্বাস। আবারো ফুটবল প্রেমিক দর্শকরা অপেক্ষা করবেন আরেকটি বিশ্বকাপের আসরের জন্য। তবে এবারের বিশ্বকাপের কথা অনেকেই আরো অনেক বছর ভুলতে পারবেন না। ফুটবল তার সব উত্তেজনা নিয়ে তাদের মনে রাজত্ব করবে। জয় হোক ফুটবলের।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

ছবিঃ ওয়াশিংটন পোস্ট