বিশ্বাসের ভার

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মোর্জিনা মতিন কবিতা

এম সি কলেজ মানে বদরুল, ৩০৭, এম সি কলেজ ছাত্রাবাস, সিলেট। কিংবা সালাম ফারুক, শাহজালাল উপশহর, সিলেট। অথবা উম্মে রেহানা কাজল, লাক্কাতুরা সি এন্ড বি কোয়ার্টার, সিলেট।  দৈনিক ভোরের কাগজ পাঠক ফোরাম, সিলেটের এম সি কলেজ পরিবার। এই কলেজের ছাত্র-ছাত্রীদের গড়া পাঠক সংগঠন। আমাদের পাঠক ফোরাম পরিবার রয়েছে দেশের সবগুলো জেলায়-উপজেলায়, আনাচে-কানাচে। ভোরের কাগজের সিলেট অফিস মানে রাজা ম্যানশন, জিন্দাবাজার, সিলেট। সিলেট প্রেসক্লাব মানে সুবিদবাজার, সিলেট। এম সি কলেজের মানে বদরুল, সালাম ফারুক, উম্মে রেহানা কাজল, তিলোত্তমা পাল, সজল ঘোষ, সি এম মারুফ, বিনয় ভূষণ তালুকদার, বিনায়ক শুভ, সাথী দে, অদিতি ধর তপা, বাপ্পা ঘোষ চৌধুরী, চয়ন চৌধুরী, উজ্জ্বল ধর নামের কিছু তরুণ-তরুণীর কলেজ- যারা মনের গোপন চেনে, হৃদয়ের রঙ জানে। হৃদয় থেকে হৃদয়ে বার্তা পৌঁছাতে জানে, মন থেকে মনে অনুভব আনতে জানে। সেই চেনা-জানা মানুষদের শহরে, সিলেটের টিলাগড়ে, ঢাকা থেকে আমি যাই একবার। ২০০০ সালে। পাঠক ফোরামের সে সময়ের বিভাগীয় সম্পাদক শবনম আপু(শবনম ফেরদৌসি) আর পাঠক ফোরামের প্রতিষ্ঠাতা সঞ্জীব’দা(সঞ্জীব চৌধুরী)র সঙ্গে। সিলেট পরিবার, পাঠক ফোরামের বনভোজনে। আগের দিন বিকেলে মিটিং হয়, এম সি কলেজ ক্যাম্পাসের প্লে গ্রাউন্ডে। কলেজের গেটে বিশাল সাইনবোর্ড। মুরারি চাঁদ কলেজ। সঙ্গে স্থাপিত হওয়ার সাল আর মনোগ্রাম। মনে মনে ভাবি, আরে কেউ তো কখনো বলে নাই, মুরারি চাঁদ এর এপ্রিসিয়েশন হলো এম সি। আর আমি কী মূর্খ, নিজের কাছ থেকেও জানি নাই!

ক্যাম্পাস গাঢ় সবুজ রঙের সব বৃক্ষ-বীরুৎ-গুল্মে ভরা আর হালকা মেটে রঙের মাটিতে জড়ানো। আরে, টিলা আছে দেখি অনেক, কেউ কেন আমাকে বলে নাই! টিলাগুলো ঘাস-মাটি মাখানো। পাখ-পাখালির ডাকে, গাছ-গাছালিতে। আমি কেন আগের জীবনে আসি নাই এম সি কলেজে! এম সি কলেজ ছাত্রাবাস, এল আকৃতির লম্বা, একতলা(এটা পুড়িয়ে দেয়া হয়েছে কয়েক বছর আগে, জানি না এখনকার ছাত্রাবাস কেমন)। ছাদ কি টিনের? মনে হয়। সব ভুলে গেছি। ঘন ঘাসের অমন সবুজের ওপরে কী সাদামাটা ছাত্রাবাস, বৃষ্টি নামলে টিনের চালে নিশ্চয়ই বাজে বৃষ্টিদানাগুলো, তারপর গড়িয়ে পড়ে এই সবুজছাওয়া মাঠে!

মিটিং শেষে সন্ধ্যায়, প্রিন্সিপাল স্যারের বাংলোতে, উঁচু টিলার ওপরে। আমরা দলবেঁধে, হাতে হাত ধরে, অনভ্যস্ত পায়ে, টিলায় আরোহণ করি। জমজমাট আড্ডা, খাওয়া-দাওয়া, গান-বাজনা হয়। কে যেন গায় নচিকেতার ‘সে প্রথম প্রেম আমার নীলাঞ্জনা’।

আমি বিশ্বাস করি, এম সি কলেজ মানে প্রেম।  প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় প্রেম হোক, তবু তা প্রেম। প্রেমের মতো পরিশীলিত বিষয় আর কিছু নাই। প্রেম প্রতিবার নতুন। প্রেম প্রতিবার পবিত্র। এম সি কলেজে একবার যে যায়, পড়তে বা বেড়াতে- সে প্রেমিক বা প্রেমিকা না হয়ে পারে না। প্রকৃতি তাকে প্রেম প্রীতি আশা ভরসা ভালোবাসা অনুভব করিয়ে নেয়। এম সি কলেজে ধর্ষণ হতে পারে না। আমার বিশ্বাস হয় না। এম সি কলেজ কেবল সিলেটের নয়, আমাদের সবার, আমাদের দেশের সব অঞ্চলের। কেবল আমার নয়- বদরুল, সালাম, কাজল, তিলোত্তমা কারো বিশ্বাস হয় না এম সি কলেজে ধর্ষণ হয়। আমরা কেউ বিশ্বাস করতে সাহস পাই না। আমাদের দেশ, এত সুন্দর একটা দেশ, এই সুন্দরতা অনুভব করলে, এই সুন্দরতায় কোন নারী  অংশীদার হলে, তাকে ধর্ষণ কেন করা হবে! তাকে পূজা বা প্রার্থনা করার ঘটনা ঘটতে পারে, ধর্ষণ কেন! নষ্ট মানুষেরা, তোদের বিচারের ভার রাষ্ট্রের, কিন্তু বিশ্বাসের ভার তো আমাদের, আমাদের এম সি কলেজের, আমাদের প্রিয় ক্যাম্পাসের, কী করে বিশ্বাস করি…

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]