বিষ্ফোরক ম্যাডোনাঃ গোয়েন্দা তদন্ত শুরু হতে পারে

কিংবদন্তী পপ গায়িকা ম্যাডোনার হুংকার আর উত্তেজক কথাবার্তা মার্কিন মুল্লুকে উত্তেজনার বাষ্প বেশ ভালোরকমই ছড়িয়েছে।ম্যাডোনা এই বিশাল সমাবেশে বলেছেন, মাঝে মাঝে তার ‘হোয়াইট হাউজ’ বোমা মেরে উড়িয়ে দিতে ইচ্ছে করে।তিনি অবশ্য এসব উত্তপ্ত কথার শেষে এসে বলেন, তিনি জানেন, ‘হোয়াইট হাউজ’ উড়িয়ে দিলেও সমস্যার সমাধান আসবে না।’

ম্যাডোনার এই কথার সূত্র ধরে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধি গেটাওয়ে পন্ডিত জানিয়েছেন, গোয়েন্দা সংস্থা ওয়াশিংটনে গত শনিবারের নারী মিছিলে ম্যাডোনার বক্তব্য আমলে নিয়েই তদন্ত শুরু করার কথা চিন্তা করছে। তবে বিষয়টি নিয়ে তারা অগ্রসর হবে মার্কিন অ্যাটর্নি জেনারেলের অফিস থেকে সিদ্ধান্ত পাবার পর।

গাইছেন ম্যাডোনা,জুড অ্যাশলে

গাইছেন ম্যাডোনা,জুড অ্যাশলে

গেল শনিবার আমেরিকার নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম কার্য দিবসে লক্ষ লক্ষ নারী জমা হয়েছিলেন রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে। ট্রাম্পের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছেন তারা। আর এই অনুষ্ঠানে দুপুরে এসে হাজির হন ৫৮ বছর বয়সী এই গায়িকা। মঞ্চে উঠে তিনি তীব্র ভাষায় আক্রমণ করেন নতুন মার্কিন প্রেসিডেন্টকে। তিনি সমাবেশে আসা মহিলাদের উদ্দেশ্যে প্রখ্যাত লেখক ডাব্লিউ.এইচ অডেনের উদ্ধিৃতি উল্লেখ করে বলেন, অডেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় বলেছিলেন,‘আমাদের একে অপরকে ভালোবাসতে হবে অথবা মৃত্যুকে আলিঙ্গন করতে হবে আর আমি নির্বাচন করেছি ভালোবাসাকে, আপনারা আমার সঙ্গে আছেন?’

ম্যাডোনা তার কয়েক মিনিটের বক্তৃতা শুরুতেই বলেন,‘আমি ক্ষিপ্ত, আমি রাগান্বিত।’

এমা ওয়াটসন

এমা ওয়াটসন

এক পর্যায়ে অনুষ্ঠানে উপস্থিত বিভিন্ন টেলিভিশন চ্যানেল সরাসরি সম্প্রচারের মধ্যেই ম্যাডোনার বক্তব্যের ওপর কাঁচি চালায়। কারণ এই প্রখ্যাত গায়িকার সব কথা টেলিভিশনে প্রচার করা সম্ভব হচ্ছিলো না। বক্তৃতা শেষ করেই ম্যাডোনা মাইক্রোফোনের সামনে গান গাইতে শুরু করেন।

গত শনিবার ওয়াশিংটনের এই প্রতিবাদ মঞ্চে এসেছিলেন আরও অনেক তরকা। তাদের মধ্যে ছিলেন অভিনেত্রী ও গায়িকা অ্যাশলে জুড, অভিনেত্রী রোজি পেরেজে, জুলিয়া রবার্ট, এমা ওয়াটসন, বেলা থেরন, চার্লিজ থেরন, গায়িকা স্কারলেট জোহানসন, অভিনেতা জ্যাক গ্যালিনহ্যাল, সেনেটর এলিজাবেথ ওয়ারেনসহ আরও অনেকে। অ্যাশলে জুডও কঠিন বাক্যবাণ ছোঁড়েন ট্রাম্পের দিকে। তিনি বলেন, ‘আমিও একজন বাজে মহিলা। কিন্তু সেই পুরুষের চাইতে বাজে নই যে আপন কন্যার মধ্যেও সেক্স সিম্বল খুঁজে বেড়ায়।’

জুড সমাবেশের আগুনে আরেকটু ঘি ঢেলে বলেন, ‘আজ থেকে মুক্তির আন্দোলন শুরু হয়ে গেল।’

জুলিয়া রবার্টস

জুলিয়া রবার্টস

অনুষ্ঠানের শেষে ম্যাডোনা তার হিট গান ‘এক্সপ্রেস ইওরসেল্ফ’ আর ‘হিউম্যান নেচার’ গানদুটো পরিবেশন করেন।

এই উত্তপ্ত বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আমেরিকায় আলোচনা-সমালোচনার ঝড় উঠেছে। গতকাল ম্যাডোনা তার ফেসবুকে বলেছেন, তিনি কখনোই একজন হিংস্র মানুষ নন এবং কখনোই হিংসাকে উস্কে দিই না। তিনি ফেসবুকে লিখেছেন, তার কথার একটা অংশ প্রচার করে এখন অপব্যাখ্যা তৈরী করা হচ্ছে।

সমাবেশ

সমাবেশ

অন্যদিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সহযোগীরা ম্যাডোনার এহেন মন্তব্যে ভীষণভাবে ক্ষুব্ধ। হোয়াইট হাইজ কাউন্সিলার কেলিন কনওয়ে তো ম্যাডোনার এই বক্তব্যকে ‘ধ্বংসাত্নক’ আখ্যা দিয়ে ফেলেছেন। কনওয়ে গণমাধ্যমকে জানিয়েও দিয়েছেন বিষয়টি নিয়ে গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করতে পারে।

কিছুদিন আগে গোল্ডেন গ্লোব পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানের মঞ্চে প্রখ্যাত অভিনেত্রী মেরিল স্ট্রিপও কঠোর ভাষায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনা করেন।ট্রাম্প অবশ্য তাঁর টুইটবার্তায় পাল্টা আক্রমণ করেন মেরিল স্ট্রিপকে।দুজনের মধ্যে জমে ওঠে বাকযুদ্ধ।

বিনোদন প্রতিবেদক

তথ্যসূত্রঃ দ্য ডেইলি মেইল,ওয়াশিংটন টাইমস

ছবিঃ দ্য ডেইলি মেইল