বিষয় পরীমনি…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বাংলাদেশের চলচ্চিত্র অভিনেত্রী পরীমনির আটক এবং তাকে ঘিরে পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এখন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে চলছে বিতর্কের ঝড়। কেউ প্রশ্ন তুলছেন তার অপরাধের মাত্রা নিয়ে, কেউ তাকে চরিত্রহীন আখ্যা দিচ্ছেন আবার কেউ এই ঘটনায় কটাক্ষ করছেন আমাদের সমাজব্যবস্থাকেই। গণমাধ্যমে ব্রেকিং নিউজ পরীমনি। সংবাদের শিরোনাম পরীমনি। পুলিশের তল্লাশীতে তার বাড়িতে বিপুল পরিমাণ মদ, মাদক আইস, LSD ও মাদক সেবনের সরঞ্জাম পাওয়া যায়। পরে তাকে আটক করে র‌্যাব। গত বুধবার বিকেলে র‌্যাব-এর একটি দল পরীমনির বাড়িতে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করেছে।

বাংলাদেশের নির্বাসিত নারীবাদী লেখক তসলিমা নাসরিন সরাসরি পরীমণির নাম উল্লেখ না করে একটি টুইট বার্তায় কটাক্ষ করে বলেছেন, ‘আজকাল তো বাংলাদেশে ঘরে বসে মদ খেলেও মেয়েদের গ্রেফতার করা হয়।’

পুরুষশাসিত সমাজকে একচোট সমালোচনা করে তসলিমা নাসরিন নিজের ফেইসবুক অ্যাকাউন্টে লিখেছেন, ‘বাংলাদেশের সুশীল সমাজ প্রায়ই এক একটি মেয়ের বিরুদ্ধে উন্মাদ হয়ে ওঠে। মেয়েগুলো সাধারণত ধনী এবং দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের শিকার। চতুর ব্যবসায়ীরা এই মেয়েদের ব্যবহার করে তাদের অবৈধ ব্যবসার কাজে, এই মেয়েদের হোটেলের বারে গিয়ে মদ খেতে শেখায়, ক্লাবে গিয়ে নাচতে শেখায়। এই মেয়েদের তারা তাদের হাতের পুতুল বানায়।বাংলাদেশের সংজ্ঞা। পুরুষেরা লোভ করলে? –অ্যামবিশাস। মেয়েরা লোভ করলে?–বেশ্যা। পুরুষেরা মদ খেলে? –স্মার্ট। মেয়েরা মদ খেলে? –বেশ্যা।’

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পরীমনি বিষয়ে আবেদন জানিয়েছেন ৮৬ বছর বয়সী লেখক-সাংবাদিক আবদুল গাফফার চৌধুরী। বাংলাদেশের গণমাধ্যমে পাঠানো আবেদনে তিনি লিখেছেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এই আবেদন আমার একার নয়। দেশে প্রশাসন, একটি বিত্তশালী গোষ্ঠী এবং একটি মিডিয়া গোষ্ঠী মিলে একটি ২৮ বছরের তরুণীকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করার যে ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে, সে সম্পর্কে সচেতন নাগরিক সমাজের আবেদন। পরীমনিকে গ্রেফতার করার জন্য দু’-চার জন র‍্যাব কিংবা পুলিশের সদস্য গেলেই হত, সেখানে যে যুদ্ধযাত্রা করা হয়েছিল, তাতে মনে হয়েছিল কোন‌ও ভয়ঙ্কর ডাকাতকে গ্রেফতারের জন্য এই যুদ্ধযাত্রা। গ্রেফতারের পর থেকেই পরীমনির বিরুদ্ধে একটার পর একটা স্ক্যান্ডাল ছড়ানো হচ্ছে। বোঝাই যায়, কোন‌ও একটি মহল থেকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে এই স্ক্যান্ডাল ছড়ানো হচ্ছে। অর্থাৎ বিচারের আগেই বিচার।’

গাফফার চৌধুরী তার আবেদনের শেষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আবেদন জানিয়ে লিখেছেন, বাংলাদেশে শেখ হাসিনার শাসনামলেই নারীদের ক্ষমতায়ন শুরু হয়েছে। সেই জন্যই তাঁর কাছে আমার সবিনয় আবেদন, পরীমনির ব্যাপারে তিনি হস্তক্ষেপ করুন। তাঁকে বিচার থেকে রক্ষা করতে বলি না। তাঁকে হায়নার গোষ্ঠীর হাত থেকে বাঁচানোর জন্য অনুরোধ জানাচ্ছি। পরীমনির সঙ্গে যে আচরণ করা হচ্ছে, তা যে দেশের আর এক জন নাগরিকের উপর করা হবে না, তার নিশ্চয়তা কী? আমি দেশের সচেতন বুদ্ধিজীবী শ্রেণির কাছে আবেদন করি, তাঁরা পরীমনির উপর এই হেনস্থার তীব্র প্রতিবাদ করুন। দয়া করে চুপ করে থাকবেন না। পরীমনির উপর অত্যাচারের প্রতিবাদ করুন। সংবাদমাধ্যমের কাছে অনুরোধ, তারা যেন অত্যাচারিতের পক্ষে দাঁড়ায়। অত্যাচারী গোষ্ঠীর পক্ষে না যায়।’

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ এই সময় পত্রিকা
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box