বিয়ার ভালোবাসতেন কাফকা

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মদ্যপানে কখনোই খুব একটা আসক্ত ছিলেন না ফ্রাঞ্জ কাফকা। কেউ কেউ অবশ্য তাদের নানান স্মৃতিচারণমূলক লেখায় কাফকাকে ‘আবেগময় মদ্যপায়ী’ বলে উল্লেখ করেছেন। কাফকা যখন পান করতেন ভীষণ আনন্দ আর চেতনার তীব্রতা কাজ করতো তার ভেতর। তবে বিয়ার পান করতে ভালোবাসতেন কাফকা। বাবার সঙ্গে বিয়ার পানের মধুর স্মৃতিকথা তাঁর স্মৃতিচারণমূলক লেখায় উঠে এসেছে। এই স্মৃতিটুকু কাফকার মনে এতটাই গভীর ভাবে প্রথিত ছিলো যে নিজের মৃত্যুর একদিন আগে, ১৯২৪ সালের ২ জুন বাবা-মায়ের কাছে লেখা জীবনের শেষ চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘জানো, আমার খুব মনে পড়ে সেই গ্রীষ্মের দিনগুলোর কথা যখন বাবা আমাদের সুইমিং পুলে নিয়ে যেতেন। তখন আমি, বাব একসঙ্গে বিয়ার পান করতাম। সেই দিনগুলোর কথা মনে পড়ে আমার।’।

কাফকার বাবা হেরমান ছিলেন রাগী মানুষ। ছোটবেলায় এমনকি কিশোর বয়সেও কাফকা খুব ভয় পেতেন বাবাকে। ছেলের নিরালা, নির্জন জীবন, নিরামিষ ভোজন আর ক্ষীণ স্বাস্থ্য ছিলো হেরম্যানের রাগের মূল কারণ। কাফকার প্রতি তাঁর বাবার আরেকটা বড় অভিযোগ ছিলো, ছেলে ঘরে বসে বসে উদ্ভট গল্প লেখে। রাতে খাবার টেবিলে কাফকা আর তার তিন বোনের দেখা হতো বাবা‘র সঙ্গে। ওই সময়টা কাফকার জন্য ছিলো আতংকের। ৩৬ বছর বয়সে কাফকা তার বাবাকে ৪৭ পাতার একটি চিঠি লিখেছিলেন। সেই চিঠিতে তাঁর ভয় পাওয়ার দিনগুলোর কথা বিশদ লিখেছিলেন কাফকা। সেখানেই বিয়ার পানের প্রসঙ্গ পাওয়া যায়। কাফকা লিখেছেন, ‘আমি যখন ভালো ছেলের মতো রাতের খাবার খেতাম এবং বাবা আমাকে বিয়ার পান করতে দিতেন তখনই বাবার সব আচরণ পাল্টে যেতো। বাবা হয়ে উঠতেন কাছের মানুষ’।

গ্রীষ্মের দিনগুলিতে কাফকাকে নিয়ে হেরম্যান সুইমিং পুলে যেতেন। গ্রীষ্মের অবাধ সাঁতারের দিনগুলিতেও কাফকা বাবার সঙ্গে বিয়ার পানের সুযোগ পেতেন। কাফকা বিষয়ে জার্মান গবেষক রাইনার স্ট্যাখ লিখেছেন, ফ্রাঞ্জ কাফকা নিজে কখনোই মদ্যপানের বিষয়ে তেমন উৎসাহী ছিলেন না। তবে যখন পান করতেন একটু বেশি পরিমাণেই করতেন। কাফকার একটা অদ্ভুত স্বাভাব ছিলো, তিনি কোনো অনুষ্ঠানে অন্যদের মদ্যপান খুব উৎসাহ নিয়ে অবলোকন করতেন। স্ট্যাখের অনুমান, মদ পান করে ভারসাম্য হারানোটা কাফকার পছন্দ ছিলো না। তিনি অস্বস্তি বোধ করতেন। স্ট্যাখের লেখা থেকে জানা যায় কাফকা চেক বিয়ার পান করতে পছন্দ করতেন। তবে কোথাও ঘুরতে গেলে তিনি সেখানকার স্থানীয় বিয়ার চেখে দেখতেন।

মৃত্যুর আগের দিন লেখা চিঠিটা কাফকা শেষ করতে পারেননি। তখন তাঁর শরীর ক্লান্ত, আয়ুর দখল নিচ্ছে জীবনের অপরাহ্ন। আরেকটু পরেই আসবে গভীর, শান্ত মৃত্যু। সেই অপেক্ষার ঘোরের ভেতরেই কাফকা চিঠিতে লিখেছিলেন বাবার সঙ্গে তাঁর সেইসব সংক্ষিপ্ত অথচ মধুর দিনগুলোর স্মৃতি।

 

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ এনপিআর
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments Box