বিয়ের রাতে স্ত্রী‘র গান শুনতে চেয়েছিলেন জীবনানন্দ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

বরিশালের দাশগুপ্ত বাড়ির বড় ছেলের বিয়ে, কনের নাম লাবণ্য। বিয়েতে সেই বড় ছেলের জন্য উপহার ছিলো শুধু একটি আংটি। ঘড়ি, আসবাব তো নয়-ই সেই আংটিটা নিয়েও ছেলেটির ছিলো প্রবল কুন্ঠাবোধ।বিয়ের রাতে স্ত্রীকে বলেছিলেন, আংটি দেয়া হবে জানলে তিনি নিজেই কিনে আনতে পারতেন। বিয়েতে এরকম দেয়া নেয়ার বিষয়টা তার পছন্দ নয়। লাবণ্য অবাক হয়ে গিয়েছিলেন নববিবাহিত স্বামী জীবনানন্দ দাশের কথা শুনে।

তাঁর বিয়ের ফুলশয্যার একটি ঘটনা বেশ কিছু লেখায়, স্মৃতিচারণায় উঠে এসেছে। জীবনানন্দ ও লাবণ্য— কেউই সেভাবে আগে কথা বলেননি। ফুলশয্যার রাতে জীবনানন্দই প্রথম মুখ খুলেছিলেন। অবশ্য কথা না বলে অনুরোধ বলা ভালো। স্ত্রী‘র কাছে একটি রবীন্দ্রসঙ্গীত শুনতে চেয়েছিলেন কবি। কোন গান? লাবণ্য‘র প্রশ্নের উত্তরে জীবনানন্দ দাশ বলেছিলেন, “জীবন মরণের সীমানা ছাড়ায়ে”। তারপর তিনি আরেকটি গান শোনানোর জন্য অনুরোধ করেন। গানটি ছিলো, ‘‘আজি এ কোন গান নিখিল প্লাবিয়া…’’।

এই অনুরোধের সঙ্গে জুড়ে দিয়েছিলেন নিজের কথা,‘জীবনের শুভ আরম্ভেই তো এমন গান গাওয়া উচিত।’

অন্যের ব্যক্তিগত ইচ্ছা-অনিচ্ছায় কখনও মাথা গলাতেন না জীবনানন্দ দাশ। তাঁর সামনে কেউ সেটা করুক, তেমনটাও চাইতেন না। তাঁর ভাবনায় মানুষের ব্যক্তি স্বাধীনতাটাই বড় হয়ে ছিলো। তিনি মনে করতেন, সবারই স্বাধীন ইচ্ছায় কাজ করা উচিত।

লাবণ্য দাশ একসময় জড়িয়ে পড়েছিলেন ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনে। সময়টাও ছিলো তখন উত্তাল। যথারীতি তার ওপর পুলিশের নজর পড়ে। সেই সূত্রেই সার্চ ওয়ারেন্ট নিয়ে বাড়িতে হাজির হয় পুলিশ। সেই ‘সার্চ’-এর নামে সেদিন গোটা ঘর একেবারে লণ্ডভণ্ড করেছিলো তারা। জীবনানন্দের প্রিয় কবিতার খাতাগুলোও পুলিশের আক্রমণ থেকে রেহাই পায়নি। শেষে তাদের শোবার ঘর থেকে পাওয়া যায় আয়ারল্যান্ড বিপ্লবের ইতিহাস বিষয়ে একটি বই। যে কবিকে মুখচোরা বলেই জানতো সবাই, তিনিই পুলিশের মুখোমুখি হয়ে তাদের একরাশ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছিলেন।  বইটি যে বি এ ক্লাসের ইতিহাসের রেফারেন্স বই, সেই কথাটাই বারবার বলছিলেন তিনি। এরকম একটি ঘটনায় লাবণ্য‘র প্রতি আত্নীয়স্বজনেরা বিরক্ত হলেও জীবনানন্দ দাশ স্ত্রীকে সমালোচনা করেননি কখনো।

সেদিনের সেই পুলিশ বাহিনীর এক অফিসার অবশ্য ঠিক চিনেছিলেন কবি জীবনানন্দকে। যখন গোটা ঘরে তল্লাশি চলছিল, তখন তাঁর হাতে উঠে এসেছিল ‘ঝরাপালক’।

বুদ্ধদেব বসু জীবনানন্দ দাশ সম্পর্কে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলেছেন, কলকাতায় কোন এক সাহিত্য সভায় তারা দু’জনেই আমন্ত্রিত হয়ে গিয়েছিলেন। মঞ্চ থেকে কবিতা পাঠ করে নেমে সেদিন জীবনানন্দ দাশ তার পাশে বসে খুব মৃদু কন্ঠে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘এই যে কবিতা লিখছি এর মধ্যে দু‘একটি বাংলা সাহিত্যে থাকবে তো?’

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ ফিচার
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


Facebook Comments