বিয়ে সমাচার…

istiak

ইশতিয়াক নাসির, স্ট্যান্ডআপ কমেডিয়ান

আমি এমনিতে খুব অলস। এত অলস যে বিয়েও করতে ইচ্ছা করে না, কিন্তু বিয়ের পরে যা হয় তা করতে ইচ্ছা করে। বউ নিয়ে রিকশায় ঘুরতে ইচ্ছা করে। বউ নিয়ে রিকশায় ঘোরার ইচ্ছাটা ফেসবুকে স্ট্যাটাস হিসেবে লিখছিলাম।তারপর থেকে সুন্দরী আর খুব সুন্দরী; এই দুই প্রকার মেয়েরা আমার মেসেজের রিপ্লাই দেয়া বন্ধ করে দিয়েছে।শুধু মোটামুটি সুন্দরী কয়েকজন জিজ্ঞেস করেছে, আপনি না সেলেব্রেটি? আপনার গাড়ি নাই? রিকশায় চলাফেরা করেন? এসব দেখে মন ৯৮% খারাপ হয়ে গিয়েছিল, বাকী ২% হয়নি, কারন প্রিন্সেস নীল পরী নামের আইডি থেকে একটা মেয়ে আমাকে মেসেজ করেছে, রিকশায় ঘুরতে তার খুব ভালো লাগে। প্রিন্সেস নীল পরীর প্রোফাইলে যেয়ে দেখি প্রোফাইল পিকচারে ক্যাটরিনা কাইফের ছবি দেয়া। আর রিপ্লাই দিলামনা, ছেলেদের সঙ্গে রিকশায় ঘুরতে আমার ভালো লাগেনা! যাই হোক, আমার বিয়ে নিয়ে আমার চেয়ে আশেপাশের আন্টিদের চিন্তা বেশি।এই আন্টিদের নিয়ে আবার আমার দুশ্চিন্তা বেশি। কারন তাদের ঘরে যেসব বিয়ের বয়সি মেয়েরা আছে একটাও সুবিধার নাহ। আঙ্কেলরা আবার চিন্তা করে না, প্রশ্ন করে,তোমার কোন সমস্যা নাই তো? বাসে করে আসছিলাম, হঠাৎ একজন এসে বাসের জানালা দিয়ে লিফলেট ছুঁড়ে মারল। লেখা আছে অবিবাহিত ভাইদের জন্য সুখবর! আপনি কি বিয়ে করতে ভয় পাচ্ছেন?আজই চলে আসুন কলিকাতা হারবালে। চিন্তায় পড়ে গেলাম, এরা জানলো কিভাবে আমি বিয়ে করি নাই? এইসব হার্বাল ঔষধের দোকানে ওই আঙ্কেলদের যাতায়াত আছে নাকি? বিয়ে না করার কারনে কোন বিয়ের দাওয়াতও খেতে যেতে পারিনা। কাপলরা সবাই একসঙ্গে বসে আর আমার জায়গা হয় বুড়া আঙ্কেল-আন্টিদের সাথে। ও, তুমি তো একা তাই না, তাহলে এই টেবিলে বসে খেয়ে নাও! একবার প্রতিবাদ করেছিলাম এই সব বুড়া লোকজনের সাথে বসবো না, আমাকে ড্রাইভারদের সাথে বসিয়েছিল। কোথাও ঘুরতে যেতে পারিনা। ভাল হোটেলে উঠতে গেলে বলে, ‘স্যার, আপনি কি সিঙ্গেল থাকবেন? হ্যা। কেন? ‘না মানে, আমাদের হোটেলে কিন্তু স্যার বাইরে থেকে গেস্ট আনা এলাও করেনা’ খারাপ হোটেলে থাকতে গেলে মাঝরাতে দরজায় নক্‌ করে ঘুমাতে দেয় না।‘স্যার, কিছু লাগবে? লাগলে বইলেন, একদম কচি মাল আছে!’ অতি আগ্রহে দরজা খুলে দেখি ডাবওয়ালা। বিকেলে ডাবের দাম জিজ্ঞেস করেছিলাম, তখন কচি ডাব নেই দেখে খাইনি। এখন রাতের বেলা সরাসরি ডাব হাতে রুমের সামনে। বিবাহিত ছেলেদের সবসময় দুটো জিনিষ খুব পছন্দ। নিজের বাচ্চা আর অন্যের বউ। আমার এই দুটোর কোনটাই পছন্দ না। এককালে যাদের বিয়ে করার স্বপ্ন দেখতাম তারা এখন অন্যের বউ আর সাথে বাচ্চা নিয়ে ঘোরে। সামনাসামনি দেখা হলেই ঐ বাচ্চার ‘মামা’ হয়ে যাওয়ার চান্স আছে। কোন মেয়ের কাছ থেকে ‘রিফিউজ’ হওয়া কোন ব্যাপার না কিন্তু ‘ভাই’ হয়ে যাওয়াটা কোনভাবেই মানা যায়না। ‘বেবি, কোন ফ্লেভারটা তোমার পছন্দ? স্ট্রবেরী না চকোলেট?’ এই কথাটা যাকে বলার কথা ছিল, তার বেবিকে এখন যদি স্ট্রবেরী ফ্লেবারের চকোলেট কিনে দিতে হয়, তাহলে আর কি লাভ? আমার ইউনিভার্সিটিতে সবচেয়ে সুন্দর যে মেয়েটা ছিল, তার সাথে একদিন দেখা।কথায় কথায় জানালো সে এখন সিঙ্গেল এবং আমার ফ্যান। চাইলে আমরা এক সাথে ‘হ্যাং আউট’ করতে পারি। আমি মাল আউটের কথা জানতাম। মানে একরাতে বন্ধুর বাড়ি থেকে পার্টি করে ফেরার সময় এক ছিনতাইকারী ছুরি দেখিয়ে বলেছিল, মাল পানি যা আছে জলদি বাইর কর। কিন্তু হ্যাং আউটটা কি জিনিষ ঠিক বুঝে উঠার আগেই সে আমাকে জিজ্ঞেস করে, কেন তুমি বিয়ে করতে চাও না? বললাম, আসলে আমি তো কোন রেগুলার ডে জব করিনা। – তাতে কি ? আমি তো করি – না না, মানে আমার কোন ব্যাংক ব্যালেন্স নাই – তাতে কি? আমার তো আছে – না না, মানে সংসার করা খুব জটিল মনে হয়…কোন অভিজ্ঞতা নাই – তাতে কি? আমার তো আছে, এর আগে তিন বছর একজনের সাথে সংসার করেছি – না, আসলে আমি খুব অলস।ঐসব বাচ্চা কাচ্চা মানুষ করা খুব ঝামেলা মনে হয় – আরে ঐসব নিয়ে তুমি কোন টেনশনই করবনা। আমার ২ বছরের একটা বাচ্চাও আছে! আগে হাঁটতে পারতো,মাশাল্লাহ্‌ এখন সারা ঘরে দৌড়াইয়া বেড়ায়! কে জানি বলেছিল, বিয়ে হচ্ছে দিল্লীকা লাড্ডু। খেলেও পস্তাতে হয়, না খেলেও পস্তাতে হয়। কিন্তু দিল্লীর লাড্ডু খেলে পস্তাতে কেন হবে জানিনা।ভাবছি লাড্ডু খেতে একবার দিল্লী গেলে কেমন হয়?

ছবি: গুগল