বুচ ক্যাসেডি অ্যান্ড সানড্যান্স কিড আজও অম্লান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

‘বুচ ক্যাসেডি অ্যান্ড সানড্যান্স কিড’ সিনেমাটি ১৯৬৯ সালে প্রথম মুক্তি পায়। হলিউডের ওয়েস্টার্ন ছবির ছাঁচে নির্মিত হলেও এই সিনেমার গল্প আজও আলাদা করে রেখেছে নিজের অবস্থান।নিরর্থক গোলাগুলি, প্রতিশোধ নেয়া আর হর্স চেজিং ফর্মূলায় ফেলে এই সিনেমাটি তৈরি করেননি পরিচালক জর্জ রয় হিল। সিনেমা বোদ্ধারা বলেন, বুচ ক্যাসেডি অ্যান্ড সানড্যান্স কিড ‘সংস্কারবাদী’ সিনেমা। আমেরিকার পশ্চিমের অস্ত্রবাজ, ঘোড়ায় চড়ে আসা ব্যাংক ডাকাত আর পাহাড়, ক্যারিনয়নে অস্থির সময়ের পট পরিবর্তনের গল্প বলেছে এই সিনেমা। সেই উদ্দাম সময়ের প্রধান বাহন ঘোড়ার ভূমিকা কীভাবে সাইকেলের কাছে পরাস্ত হলো, শক্তিশালী ট্রেনের ইঞ্জিন গতির দেবতা হয়ে অপরাধীদের খোলা বাতাসের দিনগুলোকে হাতকড়া পড়ালো বুচ ক্যাসেডি অ্যান্ড সানড্যান্স কিড সেই গল্পই বলেছে। ওয়েস্টার্ন ছবির গৎবাঁধা ফর্মূলার মাঝে ঢুকে পড়েছে ভিন্ন এক দর্শন। আর তাই হয়তো মুক্তির ৫২ বছর পরেও এই সিনেমা দর্শকদের কাছে আজও অম্লান।

বুচ ক্যাসেডি অ্যান্ড সানড্যান্স কিড-এর কাহিনি লিখেছিলেন আমেরিকান কথাসাহিত্যিক উইলিয়াম গোল্ডম্যান। তাকে বলা হয়ে হলিউডের সিনেমায় নতুন যুগের চিত্রনাট্যকার। রবার্ট রেডফোর্ট ও পল নিউম্যানের অনবদ্য অভিনয়ে সমৃদ্ধ সিনেমাটি একই সময়ে মুক্তি পাওয়া আলোচিত ‘মিডনাইট কাউবয়’ অথবা ‘ইজি রাইডার’-এর ব্যবসাকেও পেছনে ফেলেছিলো বক্স অফিসে। প্রথমবার ওয়েস্টার্ন ছবিতে দু’জন নায়ক আমদানী করেও গোল্ডম্যান চমকে দিয়েছিলেন দর্শকদের। তার আরও চমক ছিলো বুচ চরিত্রটিকে তথাকথিত জায়গা থেকে বের করে আনায়ও। বুচ ক্যাসেডি চরিত্রটি পশ্চিমের বন্দুকবাজ এবং রক্তপিপাসু ধরণের চরিত্র হয়ে ওঠেনি কখনোই। বরং এই সিনেমা দুই বন্ধুর গল্প হয়ে উঠেছিলো।সিনেমার প্রধান দুই চরিত্র ব্যাংক ডাকাত হলেও এই জুটির জন্যই দর্শকদের একধরণের মমতা তৈরি হয় সবসময়। শেষ দৃশ্যে এই দুই ডাকাত চরিত্রের করুণ মৃত্যু দর্শকে আরও বেদনার্ত করে তোলে। অপরাধী বলে এই দুই চরিত্রকে সিনে

মার অন্তিমে মারা যেতে হয়েছে। কিন্তু তারা রয়ে গেছে দর্শেকের স্মৃতিতে গভীর ভাবে।
পর্দায় অনবদ্য অভিনয় করেছিলেন তখনকার হলিউডের দুই তারকা অভিনেতা পল নিউম্যান ও রবার্ট রেডফোর্ট। এই সিনেমা তৈরির পরের বছর জর্জ রয় হিল তৈরি করেন ‘স্টিং’ নামে আরেকটি সিনেমা। এই সিনেমার জন্য তিনি অস্কার পুরস্কার পেয়েছিলেন।

ঢাকা শহরের সিনেমা হলে বুচ ক্যাসেডি অ্যান্ড সানড্যান্স কিড হলে মুক্তি পায় আশির দশকে। এখানেও বিপুল দর্শক প্রিয়তা লাভ

করে সিনেমাটি। তখন মধুমিতা সিনেমা হলের সামনে বহুদিন রেডফোর্ট আর নিউম্যানের গুলি ছুঁতে থাকা ভঙ্গি বিশাল ব্যানারে শোভা পেতো।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box