বেলজিয়ামের বিতর্কিত জাদুঘর

বেলজিয়ামের বিতর্কিত ‘আফ্রিকা মিউজিয়াম’ ৫ বছর ধরে সংস্কার কাজ চালানোর পর আবার খুলে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে সেখানকার সরকার। কিন্তু ঠিক তখনই এই মিউজিয়ামে রাখা বিভিন্ন মূল্যবান সামগ্রী ফেরত চেয়ে পাঠিয়েছেন ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অফ কঙ্গো‘র প্রেসিডেন্ট। তাঁর দাবি এই জাদুঘরের মূল্যবান সম্পদের বেশিরভাগই কঙ্গো থেকে লুট করে আনা।

কঙ্গোর প্রেসিডেন্ট জোসেফ কাবিলার দাবি, কঙ্গো যখন বেলজিয়ামের উপনিবেশ ছিলো তখনই এসব মূল্যবান নিদর্শন সেখান থেকে নিয়ে এসে বেলিজিয়ামে জাদুঘর সাজানো হয়।১৮৮০ সাল থেকে ১৯৬০ সাল পর্যন্ত বেলজিয়াম কঙ্গোকে পদানত করে রেখেছিলো তাদের উপনিবেশ হিসাবে।কাবিলা বলছেন, এসব নিদর্শন দিয়ে আগামী বছর তারা কঙ্গোতে একটি আলাদা জাদুঘর উদ্বোধন করতে চান।

এই বিতর্ক যখন চলছে তখন প্রায় ৬৬ মিলিয়ন ইউরো খরচ করে বেলজিয়ামে ‘মিউজিয়াম ফর সেন্ট্রাল আফ্রিকা’-এর সংস্কার কাজ শেষ করা হয়েছে। আর এই জাদুঘর আবার খুলে দেয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাচ্ছে কঙ্গোর হাজার হাজার মানুষ। কঙ্গোর জনগণ ১৮৯৭ সালে জাদুঘরে প্রদর্শনের জন্য তাদের দেশ থেকে জ্যান্ত ধরে আনা ৭ জন মানুষের একটা স্মৃতিস্তম্ভ জাদুঘরে স্থাপন করারও দাবি জানিয়েছে। এই ৭ জন মানুষই পরে মারা যায় বেলজিয়ামে।

বেলজিয়ামের শাসকরা ঔপরিবেশিক শাসন চালানোর সময় কঙ্গোতে ব্যাপক নির্যাতন চালিয়েছিলো। রাবার চাষ করার জন্য তারা জোর করে হাজার হাজার মানুষকে বাধ্য করেছিলো জমিতে কাজ করতে। একই ভাবে অবিভক্ত ভারতে ইংরেজ ঔপরিবেশিক শাসকরা হাজার হাজার মানুষকে নীলচাষে বাধ্য করে হত্যা করেছিলো। তখন কঙ্গোতে ২০ বছরে ১০ মিলিয়ন মানুষের মৃত্যু হয়।

এই জাদুঘরের পরিচালনা কমিটি অবশ্য বলছেন, নতুন সংস্কার হওয়া জাদুঘরকে তারা একেবারেই ভিন্ন একটি দৃষ্টিকাণ থেকে উপস্থাপন করতে আগ্রহী। সেখানে নতুন আফ্রিকার অগ্রযাত্রার নিদর্শন এবং ঔপনিবেশিক আমলের ব্যাপারে এখনকার মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীও তুলে ধরা হবে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্র ও ছবিঃ সিএনএন