ব্যস্ততা আমায় দেয়না অবসর

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শিল্পী কনকনকচাঁপা কচাঁপা এবার গানের পাশাপাশি প্রাণের বাংলার পাতায় নিয়মিত লিখছেন তার জীবনের কথা। কাটাঘুড়ির মতো কিছুটা আনমনা সেসব কথা, হয়তো কিছুটা অভিমানিও। কিছুটা রৌদ্রের মতো, খানিকটা উজ্জ্বল হাসির মতো।

যে প্রযোজক আমাকে গান গাওয়ার পর পেমেন্টই দিতে চাচ্ছিলেন না উনিই আমাকে আবার ডাকলেন। আমি অবশ্য জানতামই না যদি বুলবুল ভাই না বলতেন।গানের জন্য ডেকে নিয়েই বললেন দেখলেন ভাবি আজ আপনি কার গান গাইছেন? নিরুত্তর আমাকে নিজেই জানালেন, ‘পয়লা দিন যিনি বলেছিলেন কে এই শিল্পী যে তাকে গান প্রতি এই পেমেন্ট করতে হবে? সেই উনিই আজ আপনাকে ডেকেছেন খুশি হয়ে এবং শুধু ডেকেছেন না, তার ছবির সব গান আপনি গাইবেন।’ সত্যি বলছি এগুলো সুযোগ সুবিধা বা সৌভাগ্যের হিসেব নিকেশ আমার কখনওই ছিলো না।আমি রোজকার হোমওয়ার্কে বিশ্বাসী। আমি জানি আজকের গান ভালো না হলে কাল আর বাকি সব গান অন্যকেউ গাইবে।অতএব আজকের গানটিই আমার জীবনের সেরা গান হওয়া চাই।
স্টুডিওতে গান গেয়ে এসে বাসায় ফিরেই হয়তো মশলা বাটি কাপড় ধুই বাচ্চাদের পড়া সামলাই।কিছু গাছগাছালির শখ আছে।আছে ছবি আঁকার অভ্যাস। আমি দিনদিনই মাকড়শা হয়ে যেতে থাকি।রাতে ঘুমাতে গেলে মগজ আমার অফ ই হয়না। দিনের বেলা যে গান গেয়েছি তার মিউজিক বাজতেই থাকে। বাজতেই থাকে। হেডফোন কানে দিয়ে বাজনা শুনে ট্র‍্যাক সিস্টেম এ গান গাই তো তাই গান এবং তার বাজনা আমার মননে শ্রুতিতে অনুরনন হতে থাকে, এক সময় তা বাজতে বাজতেই আমি ঘুমিয়ে পড়ি নতুন এক ভোরের অপেক্ষায়।

বুলবুল ভাই ডাকার পাশাপাশি আবারও অনেকেই ডাকা শুরু করলেন। আবু তাহের ভাই, আলী আকবর রুপু, সত্য সাহা দাদা, আনোয়ার পারভেজ ভাই, আলাউদ্দীন আলী ভাই এবং আলম খান ভাই। ৮৪ সালে বিটিভিতে আমার গান শুনে আলম ভাই যখন আমাকে ডেকেছিলেন আমি না বুঝেই বলেছিলাম পয়লা গান আমি ডুয়েট গাইবোনা।বাস উনি রেগে আমাকে আর ডাকেনই।আর আলী ভাই ও আমাকে প্রথম দ্বিতীয় তৃতীয় গান গাওয়ার পর একদম ডাকা বন্ধ করেছিলেন ৮৪ সালে।দশ বছর পর তারা নিজের থেকেই আবারও ডাকলেন।আমি এবং আমার হাজব্যান্ড তাতে কোন অভিমান না করে কোন রকম বিস্ময় না দেখিয়ে চাকরির কাজের মত করে সেই গান গেয়ে এসেছি এবং মনে মনে একটা ‘ইয়েস’ ও বলিনি।জানি এই জগতে আত্মতুষ্টি, আত্মতৃপ্তির কোন মূল্য নেই।বিশেষ করে প্লেব্যাক এর জগতে। এখানে কখনো বলা যাবেনা এ গান গাইবোনা, এই সুর গাইবোনা, এ কথা গাইবোনা, এ সময়ে গাইবোনা, এ স্টুডিওতে গাইবোনা, এমন কিছু বললেই স্টুডিও পাড়াতে সুরকার সংগীত পরিচালক ছবির প্রযোজক পরিচালকরা একজন আরেকজনের কাছে রটিয়ে দেবেন এই মেয়ে বেয়াদব, এর আচরণ ভালো না, এ কথা শোনেনা, এ নিয়ম মানে না, এর গান বাদ! এ এক অদ্ভুত জগৎ। আমি নিজের কাছে নিজের জন্য সৎ থেকে পানির মত তরল হয়ে খালি গান গেয়ে গেছি, গান গেয়ে গেছি গান গেয়ে গেছি।

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]