ব্রাজিলের খেলায় মুগ্ধ হতে পারিনি

শামসুল আলম মঞ্জু
আমেরিকা প্রবাসী

একদা বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালী সময়ের খ্যাতিমান ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু। বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে প্রাণের বাংলার পাঠকদের জন্য প্রবাসী এই কৃতী ফুটবলার মন্তব্য প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন সুদূর আমেরিকা থেকে।

খেলায় ছন্দ, আক্রমণে ধার, সবশেষে কান্না সবই দেখলাম ব্রাজিল বাহিনীর। গোলের খাতা খুললেন নেইমার আবার বলকে মাঠে আছড়ে ফেলে হলুদ কার্ডও পেলেন, খেলা শেষে একা একা মাঠে বসে কাঁদলেনও তিনি।কিন্তু যে যাই বলুক, আমি তিতে ব্রিগেডের এই খেলা দেখে খুব বেশী মুগ্ধ হতে পারিনি। আমার মহে হচ্ছে এই দল নিয়ে সামনের পথে খুব একটা স্বস্তিকর অবস্থানে থাকবে না ব্রাজিল। সামনে তো লড়াই আরো কঠিন হয়ে উঠবে।কোস্টারিকার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের ২-০ গোলে জয় আমাকে সেই বার্তাই দিলো।

কোস্টারিকা খেলাটা শুরুই করেছিলো নিজেদের রক্ষণভাগে বুটের জঙ্গল তৈরী করে। আক্রমণ করেছে ব্রাজিল তাতে কোনো সন্দেহ নেই। গত ম্যাচের চাইতে অনেকটাই বেশী আক্রমণাত্নক ছিলো তারা। কিন্তু গোলের দেখা পায়নি তারা। এ কথা মেনে নিতে হবে ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের সেই পুরনো ছন্দে দলটা খেলার চেষ্টা করেছে। কিন্তু জয়ের হাসি হাসতে তাদের যেতে হয়েছে একেবারে অন্তিম সময় পর্যন্ত। যখন মনে হচ্ছিলো ব্রাজিল পয়েন্ট হারালো আবার ঠিক তখনই কুটিনহো গোল করে স্বস্তির বৃষ্টি নাসালেন। তারপর নেইমার জালে বল জড়ালেন। ব্রাজিল দলের ভেতরে ভালো খেলতে না-পারার যে যন্ত্রণা পাথরের মতো চেপে বসেছিলো তার প্রমাণ আমরা দেখতে পেলাম খেলা শেষে নেইমারের কান্নার মাঝে। আগে ব্রাজিলের খেলায় যে ব্যাপারটা খুব ভাল লাগত, তা হল ওদের পেনিট্রেটিভ পাস। এমন কত পাসে বিপক্ষ দলের প্রতিরোধ ছিন্নভিন্ন হয়ে গেছে।খুলে গেছে গোলমুখ।  তেমন পেনিট্রেটিভ পাস ব্রাজিলের খেলায় দেখতেই পেলাম না। উইলিয়ান, মার্সেলোরা দুটো উইং সচল রেখেছিল। কোস্টা রিকার বক্সে বল আসছিল ঠিকই, কিন্তু জেসাস, কুটিনহোরা মাঝখানে বিপজ্জনকভাবে পৌঁছতে পারছিল না। ফলে কোনও আক্রমণই ফলপ্রসু হয়নি। বরং খেলা শুরুর কিছুক্ষণ পরেই সহজ সুযোগ পেয়েছিল কোস্টা রিকার বোর্জেস। ওর গোল করা উচিত ছিল। ব্রাজিলকে লম্বা সময় আটকে দেয়ার কৃত্বিত্ব অবশ্যই দাবি করে কোস্টারিকার খেলোয়াড়রা। রক্ষণাত্নক ফুটবল খেলার অঙ্গহানী ঘটায় তাতে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু দলকে বাঁচায়ও। গতকাল সেই বাঁচার পথটাই ধরেছিলো কোস্টারিকা। কিন্তু শেষে এসে তরী ডুবলো তাদের।

বিরতির পর  অসাধারণ ফুটবল খেলতে শুরু করে ব্রাজিল। ডানদিকের উইংয়ে উইলিয়ানকে তুলে নিয়ে টিটে নামান ডগলাস কোস্তাকে। ডানদিক আরও সচল হয়। এই পরিবর্তনই ব্রাজিলকে অনেক ধারালো করে তোলে। ৪৯ মিনিটেই কোস্তার ক্রস থেকে জেসাসের হেড বারে লাগে। আক্রমণের ঝড় তুলে দেয় ব্রাজিল। যে পেনিট্রেটিভ পাস দেখা যাচ্ছিল না প্রথমার্ধে, তা দেখা গেল মুহুর্মুহু। থ্রু পাস, ক্রস পাসে বিভ্রান্ত হয়ে গেল কোস্টারিকা। প্রচুর গোলের সুযোগ তৈরি করছিল ব্রাজিল।  ব্রাজিলকে তখন ব্রাজিলের মতোই দেখাচ্ছিল। একটা রুদ্ধশ্বাস পরিস্থিতি।সেই রুদ্ধশ্বাস অবস্থা এতো আক্রমণের পরেও গোল করতে না-পারার। খেলার শেষ ১৫ মিনিট যেন ব্রাজিলের বিরুদ্ধে একাই লড়লেন কোস্টারিকার গোলকিপার নাভাস!‌

জার্মানির হার, আর্জেন্টিনার পরাজয়ের পর ব্রাজিলকে নিয়েও সংশয় তৈরি হয়েছিল। আবার অঘটন ঘটবে না তো?‌ এই ধরনের দলগুলো যদি এভাবে হারতে থাকে তাহলে তো বিশ্বকাপই হয়ে উঠবে বর্ণহীন। কিন্তু কোস্টা রিকার বিরুদ্ধে ব্রাজিলের জয় অনেকটাই স্বস্তি দিয়েছে শেষে।

ছবিঃ ফিফা‌