ব্রাজিলের জন্য দুঃস্বপ্নের ইতিহাস

শামসুল আলম মঞ্জু
আমেরিকা প্রবাসী

একদা বাংলাদেশের ফুটবলের সোনালী সময়ের খ্যাতিমান ফুটবলার শামসুল আলম মঞ্জু। বিশ্বকাপ ফুটবলের ম্যাচ দেখে প্রাণের বাংলার পাঠকদের জন্য প্রবাসী এই কৃতী ফুটবলার মন্তব্য প্রতিবেদন পাঠাচ্ছেন সুদূর আমেরিকা থেকে।

মন্দভাগ্য আর বেলজিয়াম দলের হিসেবী ফুটবল খেলা রাশিয়ার মাঠে থামিয়ে দিলো ব্রাজিলের স্বপ্নযাত্রাকে। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুটি গোল ব্রাজিলের জালে দুঃস্বপ্ন হয়েই রইলো ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে। আর্জেন্টিনা, জার্মানী আর পর্তুগালের পর এবার আরেক টপ ফেভারিট ব্রাজিলের পতন ঘটলো।

কালো ঘোড়া কাজান এরিনায় বেশ টগবগিয়েই দৌড় শুরু করে এদিন। নিজেদের শক্তির বিষয়ে বেশ ভালই ওয়াকিবহাল তারা। প্রতি-আক্রমণে বারবারই সুফল পাচ্ছিল মার্টিনেজের দল। এবারও সেই কৌশলকেই কাজে লাগালো তারা। লুকাকু সোলো রানে ডি ব্রুইনের কাছে বল পৌঁছে দিলেন। আর সেখান থেকেই দুর্দান্ত একটি গোল। তখনই যেন ইঙ্গিত দিচ্ছিল, ম্যাচের ভাগ্য কোন দিকে গড়াচ্ছে। বড় দলের বিরুদ্ধে যেভাবে নার্ভ ধরে রেখে খেললেন মার্টিনেজের ছেলেরা, তা দেখে অনুপ্রেরণা পাবে বাকি দলগুলিও। এসকোবারের আত্মঘাতী গোলে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে যেতে হয়েছিল কলম্বিয়াকে। ক্ষুব্ধ দেশবাসীর হাতে গুলিবিদ্ধ হতে হয়েছিল তাকে। সে ইতিহাস অন্ধকারের। কিন্তু ব্রাজিলের ফার্নান্দিনহো নিজেকে ক্ষমা করতে পারবেন তো? সাসপেনশনের ঝামেলায় পড়ে ক্যাসেমিরোকে বাদ পড়তে হয় দল থেকে। তাই ভাগ্যের শিকে ছিঁড়েছিল ফার্নান্দিনহোর। মাঠে নামার আগেই হুঙ্কার দিয়েছিলেন তিনি। ক্যাসেমিরোর অভাব পূরণ করে দেবেন। কিন্তু বাস্তবে ঘটলো তার উল্টো। অভাব পূরণের বদলে তারই আত্মঘাতী গোলে খেলার শুরুতেই অক্সিজেন পেয়ে গেলেন হ্যাজার্ডরা। আত্মবিশ্বাসী দলটি তখনই তাদের যাত্রা শুরু করলো ইতিহাস রচনার পথে।

দিনটা আসলে ব্রাজিলের ছিলো না। এতো ভুল করলে ম্যাচ হাত থেকে বের হয়ে যাবে সেটাই স্বাভাবিক। উইলিয়ান, জেসুসরা শুধু দর্শক হয়েই রয়ে গেলেন মাঠে। বক্সের কাছে বারবার স্কিল প্রদর্শন করতে গিয়ে খেলার গতিই স্লথ করে দিলেন নেইমার। আর তাতেই সুন্দরভাবে ডিফেন্স সাজানোর সময় পেয়ে গেল বেলজিয়াম। যেটুকু পরিশ্রম করলেন, একা মার্সেলোই। বেলজিয়ামের কঠিন ডিফেন্স চিরে বারবার বল বাড়িয়েও ফিনিশিংয়ের অভাবে দলকে কোথাও পৌঁছাতে পারলেন না নিজেকে উজাড় করে দেয়া এই খেলোয়াড়। দ্বিতীয়ার্ধে লাগাতার আক্রমণ শেষে খোলে গোলমুখ। কুটিনহোর পাস থেকে দারুণ হেডারে গোল করে খেলায় উত্তেজনা ফেরালেন আগুস্তো। কিন্তু তারপর বাকীটা ব্রাজিলের জন্য দুঃস্বপ্নের ইতিহাস। বেলজিয়াম দল পরিচয় দিয়েছে অসম্ভব সহ্যশক্তির। ব্রাজিলের আক্রমণ যেভাবে তারা ডিফেণ্ড করেছে লম্বা সময় ধরে তাতে সকল প্রশংসা তাদেরই প্রাপ্য।

এ বিশ্বকাপ যেমন একে একে কেড়ে নিল হেভিওয়েটদের, চিরাচরিত হট ফেভরিটদের, ঠিক তেমনই জন্ম দিল নতুন তারকাদের। খোঁজ দিল ফুটবল মানচিত্রে শক্তিশালী দেশের। তাই শুধুই যন্ত্রণা নয়, এ বিশ্বকাপ উজ্জ্বল আগামীর বার্তাও দিচ্ছে জোর গলায়।

ছবিঃ ফিফা