বয়স যখন ষোল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

হাফিজা আক্তার

মোটামুটি ক্লাস সিক্স পর্যন্ত স্কুলে চলতে আমার কোন অসুবিধা হয়নি। কিন্তু এর উপরের দিকে আমার স্কুল বান্ধবীদের সঙ্গে আমার মানসিক দূরত্ব বাড়তে লাগলো। তখনকার দৈনিক রুটিনটা ছিলো এরকম খুব ভোরে আব্বা মসজিদে ফযরের নামাজ পড়তে যাওয়ার সময় আমাদের শুধু একবার ডেকে চলে যেতেন। আব্বাকে ভীষণ ভয় পেতাম তাই এক ডাকেই উঠে ফযরের নামাজ পড়ে কোরআন শরীফ নিয়ে আব্বার জন্য অপেক্ষা করতাম। তারপর একপাতা পড়ে আর এক প্যাড়া বাংলাকে ইংরেজীতে অনুবাদ করে আব্বাকে দেখিয়ে নাস্তা সেরে সকাল সাতটায় দলবেধে স্কুলে যেতাম আবার দুপুর সাড়ে বারটার মধ্যে দলবেধে বাসায় ফিরেই কিছুক্ষণ ইত্তেফাক নিয়ে বসতাম। তারপর গোসল সেরে ভাত খেয়ে দুপুর ঘুম। আব্বা অফিস থেকে ফিরতেন আনুমানিক দুপুর আড়াইটা-তিনটায়। আব্বা ফিরেই দুপুরের খাবার খেয়ে আমাদের অংক নিয়ে বসতেন। ঘন্টাখানেক অংক করানোর পর দিবানিদ্রায় যেতেন। তখন কখনোও সখনোও খুব নীচু ভলিউমে রেডিওর অনুরোধের আসর `গানের ঢালি‘ শুনতো আপা। আপার পাশে বসে মাঝে মাঝে আমিও শুনতাম। প্রথমে অনুরোধকারীদের নাম বলে যেত তারপর অনুরোধের গান। ৯৯% গান ছিলো সিনেমার। তখনও হলে গিয়ে সিনেমা দেখা হয়নি আমার। গানের আকর্ষণ থেকে সিনেমার প্রতি আকর্ষণ বাড়লো। খুব ছোটবেলায় ব্রাক্ষণবাড়িয়া জেলা শহরে মাঝে মাঝে দেখতাম একজন বিক্সা করে মাইকে সিনেমার বিজ্ঞাপন করতো এভাবে—ভাই সাব, ভাই সাব আজ অমুক তমুক সিনেমার হলে…. তারপর গান বাজত। গানগুলোর মধ্যে `সুজন সখি’ সিনেমার–`সব সখিরে পাড় করিতে নেবো আনায় আনা‘ গানটার কথা খুব মনে পড়ে। পাড়ার গরীব বাচ্চারা রিক্সার পিছন পিছন ছুটতো। মাথামুন্ডু কিছুই বুঝতাম না মনে হতো এগুলো আমাদের দৈনন্দিন জীবনেরই অংশ। পরে গানের ঢালি অনুষ্ঠানের গানের মাঝে নাজমুল হুসাইন নামে একজন বিভিন্ন সিনেমার বিজ্ঞাপন করতে শুনতাম। অদ্ভূত ছিলো সেই বিজ্ঞাপনের কন্ঠটা। শুধুমাত্র সেই করতো। তার বদৌলতে সিনেমার বিষয়ে আগ্রহী ছিলাম কিন্তু আমার পিতা ধর্মীয় অনুশাসন কড়াকড়িভাবে পালন করায় নাচ-গান-সিনেমা বা এই ধরনের সংস্কৃতিক কোন বিষয়ে আমাদের যোগদান ছিলো না। রেডিওটা ছোট কাকা সৌদি থেকে এনে দিয়েছিলেন বলে রেডিও কাম ট্রান্জিস্টার ছিলো আমাদের একমাত্র ঘরোয়া বিনোদন। আপাকে দেখতাম ইত্তেফাক থেকে বেছে বেছে সিনেমার বিজ্ঞাপনগুলো কেটে একটি খামে জমাতো। আমার এসব ভালো লাগতো না। আমি ছিলাম খেলা অন্ত প্রাণ। কখন আসরের আযান দিবে আর আমি ঘর থেকে বের হয়ে খেলতে যাবো সেই অপেক্ষায়। আপা যখন গান শুনত আমি গিয়ে বারান্দায় দাঁড়াতাম। সমস্ত ঢাকা শহর তখন দিবা নিদ্রায়। রাস্তায় তখন লেইস ফিতা লেইস ডেকে যাচ্ছে। ইচ্ছে হতো ডেকে নিয়ে তার বাক্সটা দেখি। কখনোবা উদাসী ফাল্গুনী হাওয়া গাছগুলির ফাঁক দিয়ে বয়ে যেত। শুকনো পাতাগুলো কেমন অদ্ভূত কান্নার মত আওয়াজ করে ঝরে ঝরে পড়তো। দুই একটা কাক আর নেড়ি কুকুর দুপুরের নির্জনতাকে ফালি ফালি করতো। মাঝে মাঝে কুলফীওয়ালা বা টিংটাং শব্দে আইসক্রিমওয়ালা। তখন সেই মন কেমন করা উদাসী দুপুরে মনটা যে কি করতো তা শুধু মনই জানে। বলে রাখি সে সময়ে মাগরিবের আযানের সঙ্গে সঙ্গে ঘরে ফেরা ছিলো বাধ্যতামূলক। ফিরেই নামাজ পড়ে মোটে এক ঘন্টা পড়তে পারতাম। তারপরই খেয়ে মরার মত ঘুম। যাহোক সিক্স থেকে যতই উপরের দিকে উঠছি আমার বান্ধবীদের সঙ্গে আমার গল্প করার দূরত্ব বেড়ে যাচ্ছিলো। তাদের মানসিক বৃদ্ধি দ্রুত ছিলো বা এখন মনে হয় একই ক্লাসে হওয়া সত্ত্বেও তাদের অনেকেই আমার চাইতে বছর দুই/তিন বড়ও ছিল যা মেট্রিকের প্রবেশপত্র এবং রেজিস্ট্রেশন কার্ড তোলার সময় একটি ঘটনার তোলপাড়ে জানতে পারি। ফলে তাদের গল্প আমার মাথার উপর দিয়ে চলে যেতো। আমি ভীষণ শুকনা ছিলাম বলে আমার শারীরিক পরিবর্তনগুলো ঘটছিল ধীর লয়ে। দৈর্ঘ্য বাড়ছিলো দ্রুত কিন্তু প্রশস্তের কোন খবর নেই। যাহোক মোটামুটি বান্ধবীবিহীন হয়ে পরলাম। তখন কিশোর-কিশোরী প্রেমের বেশ জোর হাওয়া লেগেছিলো বিধায় পিতা-মাতারা কড়া নজর রাখতেন। একটু এদিক ওদিক হবার জো ছিলো না। হলেই চোখ মটকানি।কিন্তু বিধিবাম। একদিন আম্মা ভীষণ বকা দেন স্কুল থেকে ফেরার পর। কারণ কে জানি আমাকে পত্র দিয়েছে। বকা খেলাম ঠিকই কিন্তু বিষয়টা বুঝলাম না। পরদিন স্কুলে গিয়ে আমার এক বান্ধবীকে সবটা খুলে বলি। আমার কথা শুনে সেই বান্ধবী হাসতে হাসতে মাটিতে গড়িয়ে পড়ছিলো আর বলছিলো, `তোর এই চিকনা শরীর কে পছন্দ করলো।‘ সঙ্গে আরো অনেকে। পুরোপুরি বিব্রতকর অবস্থা। সেই বান্ধবীর আবার পাড়ার সেরা মাস্তানের সঙ্গে পুরাই লাইলী-মজনু অবস্থা। পরে জানলাম পত্রদাতা পাড়ার আরেক বখাটে, চেহারা অনেকটা হিরু আলমের মত। তার কোন স্কুলিং ছিলো কিনা জানা নাই। সামনা সামনি দেখা হলে আমার আত্মার পানি শুকিয়ে যেতো। কিন্তু সে একইভাবে জানালা দিয়ে চিঠি দিয়ে যেতো আর আম্মা পরম বিরক্তি নিয়ে সেগুলো বিনে ফেলতেন। একটিবারও আমার হাতে পড়েনি বা দেখার কৌতুহলও হয়নি। তাকে দেখলেই বা চিঠির বিষয়টা শুনলেই কেমন বিরক্তিবোধ হতো। আমি যেখানেই যাই সে কিছুটা দূরত্বে দাঁড়িয়ে থাকে। পুরাই অস্বস্তিকর। পরে খেলা ছেড়ে দিয়ে খেলা দেখা শুরু করলাম বিশেষ করে ক্রিকেট। কারণ তখন পাড়ার বড় আপুরা শুধু ইমরান খান ইমরান খান করতো। আর ভাইয়ারা সুনীল গাভাস্কার, ভিভিয়ান রিচার্ড এদের বিরাট ফ্যান। আমিও খেলা ছেড়ে খেলা দেখায় মনযোগী হলাম। তখন ক্রিকেটার ওয়াসিম আকরামের ক্রিকেটাঙ্গনে পদচারনা শুরু। বয়স কত জানি না ১৭/১৮/২১ কিছু একটা হবে। কিন্তু কি যে ভালো খেলে। খেলা ছেড়ে তখন আমি খেলোয়াড় দেখি। খেলোয়াড় দেখি মানে শুধু ওয়াসিম আকরাম। আমার বয়স যখন ঠিক ষোল তখন ২৪ ঘন্টা সময়ের মাঝে ২৪ ঘন্টাই আমার মথায় শুধু ওয়াসিম আকরাম চক্কর দিচ্ছে। খেলা হলে দেখতে পারি খেলা শেষ হলে তো আর পারি না। ইত্তেফাকে মাঝে মাঝে তার ছবি আসতো। প্রাণভরে দেখতাম তাও হচ্ছে না পরে চুপিচুপি কেটে বালিশের কাভারে লুকিয়ে রাখতাম তারো পরে আমার একটি ডায়েরীতে। ওয়াসিম আকরামের প্রতি আমার ষোল বছর বয়সে অনুভূতিটা ঠিক কি ছিলো বুঝতাম না। পাগলামী নাকি ভালোবাসা। কল্পনায় আমি তার সঙ্গে কত কি করতাম। ঘুরে বেড়াতাম, গল্প করতাম। গল্পের মাঝে হাসি-কান্নাও ছিলো। হঠাৎ আমি হাসিতে ভেঙ্গে পড়ছি আশেপাশের সবাই অবাক হয়ে তাকাতো। আম্মা মাঝে মাঝে বিড় বিড় করতেন “মেয়েটা পাগল হয়ে গেছে”। কান্নাও আসতো। কারণ কল্পনা করতাম ওয়াসিম আকরামের সঙ্গে আমার বিয়েতে অনেক বাঁধা। কেউ মেনে নিচ্ছে না। আমার কি হবে ইত্যাদি। তখনকার দিনে জীবন ছিলো ছকে বাধা। জীবনে অনিশ্চিয়তা তেমন ছিলো না। শীতকালে বছরে একদিন কলোনীতে ওয়াজ মাহফিল হতো। এমন শব্দে হতো যে মেয়েরা ঘরে বসে শুনতে পেতো। বয়স যখন ষোল তখন এমনি এক শীতে হুজুর বলছেন,`ভাই-বোনেরা মৃত্যুর পর আমাদের বয়সের ভেদ থাকবে না। আমাদের সবার বয়স হবে ১৬। Sweet sixteen‘। আমি অবাক হয়ে শুনলাম কিন্তু কিছুই বুঝলাম না। কয়েকজনকে জিজ্ঞাসা করলাম তেমন সুবিধার কোন উত্তর পেলাম না।

এরপর আমার জীবনের একটি একটি করে বয়স পেরিয়ে ২৩শে এসে বিয়ে হয়। এই ২৩ বছর পর্যন্ত আমার অনেকগুলো Admirer বা এখনকার ভাষায় Crash ছিলো কিন্তু আমি ছিলাম নির্বিকার আমার কল্পনার ওয়াসিম আকরামকে নিয়ে। এতটাই ছিলাম যে, আমার বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে অন্তরঙ্গ বান্ধবী বলেছিলো, `তুমি মনে হয় স্বাভাবিক না, নাইলে কেউ একজন এমনভাবে চাইলে তুমি এত নির্বিকার থাকো কি করে‘। কিন্তু আমি খুঁজছিলাম আমার Man in Dream-কে। আমার ধারনা ছিলো তার সঙ্গে আমার দেখা হবেই। পরে তাকে আমার বিষয়টা কিছুটা রেখে ঢেকে বলি। কারণ সে যদি সবটা বুঝতে না পারে। কিন্তু দুর্ভাগ্য আমার Man in Dream-এর সঙ্গে দেখা হয়নি। বরং বিয়ে হয় দৌড়ের উপর, কনে দেখার ৬ ঘন্টার মধ্যে। কারণ আমার শ্বশুড় ছিলেন Advanced Stage Cancer Patient। তিনি মৃত্যুর পূর্বে তার পুত্রবধুকে দেখতে চান। তাই তাদের এত তাড়া। আমার বিয়ের সাতদিন পর আমার শ্বশুড় মারা যান। বিয়ের পর আমার পায়ে চাকা আর পিঠে দুটো ডানা লেগে যায়। কারণ আমার স্বামী হলো আমার বাবার বিপরীত। আমি যদি বলি, “ইস্, এমনটি যদি হত খুব মজা হত তাই না!” সাথে সাথে সে বলবে, ‘এটা কোন ব্যাপার। এটা তো করাই যায়!’ আমি যে ইচ্ছাই পোষণ করি না কেন সে ইচ্ছা পুরণ করে যাচ্ছে। আমরা দুজনই দুজনের প্রেমে পড়ে গেলাম আর ওয়াসিম আকরাম মাথা থেকে Delete হয়ে গেল। আমার বরাবরই ভালো রেজাল্ট ছিলো। সে একদিন বললো তুমি পিএইচডি করতে বিদেশ যাও। আমি অবাক হয়ে বললাম, “যাবো!” বস্তুত আমার কোলে মোটামুটি দুধের শিশু। সে বললো অবশ্যই যাবে। আমার পিতা-মাতাকে অবাক করে দিয়ে সে সমস্ত জোগাড়যন্ত করে সুটকেস গুছিয়ে জাপান সরকারের মনবুকাগাশু বৃত্তিসহ পিএইচডি করতে আমাকে জাপান পাঠিয়ে দিলো। এর পাঁচ মাস পর সে আমার সন্তানদের নিয়ে যোগ দিলো। আবার আমাদের আনন্দের জীবন। জাপানে বিভিন্ন লম্বা ছুটিতে আন্তঃসংস্কৃতি অনুষ্ঠানের আয়োজন হত বিভিন্ন ইভেন্টের মাধ্যমে। এ ধরনের ইভেন্টে জাপানীজ এবং বিদেশী উভয়ই অংশগ্রহন করত। মূলত নাচ-গান-ফ্যাশন শো-রেসিপি-ফল-খেলাধূলা সর্বোপরি দেশ পরিচিত থাকত। এ ধরনের বড় আকারে ইভেন্টে এক সাথে ৫০টির মত দেশ বা জাতি অংশগ্রহণ করতো। এমনি একটি ইভেন্টে আমি আর আমার স্বামী পাশাপাশি বসে চুটিয়ে উপভোগ করছি উপস্থাপকের দেশ এবং সংস্কৃতিকে। উপস্থাপক ছিল রসিক। সে রসিয়ে রসিয়ে সমস্ত কিছুই উপস্থাপন করছে। বাদ যাচ্ছে না কিছুই। সবশেষে খেজুরের মতন দেখতে তার দেশের কি একটা ফলের বাক্স এক মাথায় ধরিয়ে দিয়ে পরের জনকে পাস করে দিতে বললো। সেই ফলের বাক্স অনেকে হাত ঘুরে আমার স্বামী হয়ে আমার হাতে এলো। এবার আমার পালা পরের জনকে দেয়ার। দিতে গিয়ে দেখি আমার কল্পনার ওয়াসিম আকরাম পাশে বসে স্মিত হাস্যে ফলের বাক্সটি নিচ্ছে। আমি তড়াক করে দাড়িঁয়ে গেলাম। আমার দম বন্ধ হয়ে আসছে।খোলা জায়গায় নিঃশ্বাস নেয়া দরকার। আমার স্বামী এবং সে অস্থির হয়ে গেলো আর আশেপাশে সবাই অবাক ঘটনার আকস্মিকতায়। বাইরে গিয়ে আমি বিমূঢ় হয়ে সারাটি দিন বসেই রইলাম শুধু নীল আকাশ আর সবুজ বনানীর দিকে চেয়ে আর অনুষ্ঠান কেন্দ্রে ঢুকলাম না। আমার স্বামী এসে কয়েকবার ডেকে গেলো কিন্তু আমি সেখানেই কাটিয়ে ঘরে ফিরে এলাম। পরে জানলাম জাপানের আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে Graduation-এর মাঝ পথে আমার বিশ্ববিদ্যালয়ে সে এসেছে Graduation-করতে। কারণ জিজ্ঞাসা করলে বললো, “এমনি, মনে হলো এটা ভালো তাই।” কিন্তু আমি জানি ছেড়ে আসা বিশ্ববিদ্যালয়টা এর চেয়েও রেংকিং-এ উপরে। আমি অনেক বিস্ময় নিয়ে আড়ালে তার আচরণ দেখতাম আর কল্পনার সঙ্গে মিলাতাম। হুবহু সে আমার সেই কিশোরী বয়সের কল্পনার ওয়াসিম আকরাম ছিলো। আমি অবাক হয়েছিলাম সৃষ্টিকর্তার প্রতি। উনি কেন অসময়ে আমার কল্পনাকে বাস্তবে নিয়ে এলেন। আমার স্বামীকে বিষয়টা বললাম। তারও পরে আমি আরণ্যক বসুর নীচের কবিতাটা পড়ি। যতবার পড়ি ততবারই ইচ্ছে হয় কবিতাটা আমার নিজের মতো করে লিখি। কিন্তু পারবো?

‘পরের জন্মে বয়স যখন ষোলোই সঠিক
আমরা তখন প্রেমে পড়বো
মনে থাকবে?
বুকের মধ্যে মস্তো বড় ছাদ থাকবে
শীতলপাটি বিছিয়ে দেব;
সন্ধ্যে হলে বসবো দু’জন।
একটা দুটো খসবে তারা
হঠাৎ তোমার চোখের পাতায় তারার চোখের জল গড়াবে,
কান্ত কবির গান গাইবে
তখন আমি চুপটি ক’রে দুচোখ

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]