বয়স যখন ষোল

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

আফরোজা পারভীন রুমা

তখন সবে ঘোড়াশাল থেকে বদলি হয়ে আবাবা ডেমরা এসেছেন। আব্বা জুট মিলে চাকরি করতেন। নতুন জায়গা,নতুন মানুষ,নতুন স্কুল কেমন যেন মন খারাপ মন খারাপ ভাব। জুটমিলের কোয়াটারে যারা বড় হয়েছে তারা বুঝে যে এর জ্বালাও আছে আবার মজাও আছে। পুরোনোদের পেছনে ফেলে এসে নতুনের সঙ্গে বন্ধুত্ব একটু কষ্টই বটে। তারপরও মজাই বেশী। জুটমিলের কোয়াটারের পরিবেশ সব সময়ই পরিপাটি থাকে। মফস্বল শহরে হলেও ভিতরের পরিবেশ ছিলো ঝা চকচকে। আম্মা ছিলো কঠিন টাইপের মানুষ আর আব্বা ছিলো একদম সহজ মানুষ। আমি অলসতার কারনে হয়তো খালি চোখে টেলিভিশন দেখতাম চোখ পিট পিট করে। তখন সবে চশমাও চোখে চড়িয়েছি।আব্বা চশমা খুঁজে এনে চোখে পরিয়ে দিতো।আমিও আদেশের সুরে খুঁজে এনে দিতে বলতাম। আব্বাও খুঁজতো আর বলতো মেয়ে আব্বারে ভয় নাই ? উপদেশ ছিলো আম্মার,নতুন জায়গা সাবধান কোন কথা যেন না উঠে। তো কি করা গল্পের বই হাতে নিয়ে বাসার সামনে বসে পড়তাম ।গল্পের বইয়ের সঙ্গে সখ্যর আরো আগে থেকেই ছিলো অথবা বান্ধবীদের সঙ্গে হাঁটতাম। কোয়াটারের এমনই নিয়ম,বিকেল হলে এ মাথা থেকে ও মাথা হাঁটা যার যার বন্ধু নিয়ে। লেখাপড়ায়ও খুব একটা মন্দ ছিলামনা। যাক সে কথা। সামনের বাসার একটি ছেলে আমি সামনে থাকলে সে বাসার পেছন দিক দিয়ে যেতো আবার আমি আমার রুমে থাকলে সে সামনে দিয়ে বের হতো। আমার রুমটি ছিলো বাসার পেছনের দিকে আবার জানালা দিয়ে বেশ অনেকটুকু জায়গা দেখা যেতো। ছেলেটি যাওয়ার সময় এতো তাড়াতাড়ি মাথা নিচু করে যেতো যে মনে হতো এই বুঝি পড়ে যাবে। তাকে কখনো জিজ্ঞেস করা হয়নি কেন এমন করতো। বান্ধবী মারফত খবর এসেছে লজ্জা পায় আমাকে। মজার না ব্যাপারটা! তখন মেট্রিক পরীক্ষা চলছে। পরীক্ষা সব শেষ শুধু প্র্যাকটিকেল বাকী। তো আগের দিন ধুতি পরে আমার ক্লাসেরই একটি ছেলে আসলো খাতা নিতে। সে প্র্যাকটিকেল কিছুই করেনি তাই রাত জেগে শেষ করবে। তাকে সবাই দেবদাস ডাকে বিশেষ করে মেয়েরা।সম্ভবত ধুতি পরার কারনে। একটু দুষ্ট টাইপের ছিলো। আমিও তাই জানতাম। নতুনতো নাম জানতাম না। প্র্যাকটিকেল পরীক্ষার দিন আমি কাঁদছি আমার খাতার জন্যে। কারন দেবদাস খাতা নিয়ে তখন পর্যন্ত আসেনি। স্যার যতো বোঝাচ্ছে যে চিন্তা করিস না।নাম্বার ২৫ ই পাবি কিন্তু আমার কান্না থামেনা। আর দুজনের পর আমার সিরিয়াল। তখন সে খাতা নিয়ে হাজির। স্যার খুব বকলো ছেলেটাকে। পরীক্ষা শেষে ছেলেটা বলল আফরোজা তোমাকে টেষ্ট করলাম তুমি কেমন? আমি কোন কথা না বলে চলে এসেছি। ওমা! দেখি ঘন ঘন বাসার সামনে। ভয় এবং বিরক্ত দুটোই কাজ করছিলো কারন আম্মা যদি দেখে তাহলে আমি আর আমি নাই। এগুলো যে ভালো লাগতোনা তা বলবোনা। বয়সটাইতো এমন! তবে মজার ব্যাপার হচ্ছে ২৬ বছর পর ফেসবুকে সেই দেবদাসের সঙ্গে আমার নতুন করে পরিচয় হয়েছে এবং তার সঠিক নামটি জানলাম।

ছবি : লেখক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]