ভলগা নদীর উপাখ্যান

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

জেনেট হার্টলি

জেনেট হার্টলির লেখা প্রথম বই ছিলো সাইবেরিয়ার ওপর-সাইবেরিয়া-দ্য হিস্ট্রি অফ দ্য পিপল। এবার তিনি লিখেছেন রাশিয়ার বিখ্যাত নদী ভলগা‘র উপাখ্যান-দ্য ভলগাঃ এ হিস্ট্রি অফ রাশিয়াজ গ্রেটেস্ট রিভার।

ভলগা নদী আর রাশিয়া প্রকৃতপক্ষে অবিচ্ছেদ্য বলাই ভালো। শুধু যে ভৌগালিক ভাবে এই নদীটি রাশিয়াকে জড়িয়ে আছে তা নয়। এই নদী দেশটির আর্থ, সামাজিক, রাজনৈতিক এবং সাংস্কৃতিক ইতিহাসকেও বেষ্টন করে আছে। কোথায় নেই ভোলগা নদী। রুশ সাহিত্য, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ এই নদীটির নাম ঘুরেফিরে উচ্চারিত হয়েছে।রুশ দেশে এখনও এই নদীকে ডাকা হয় ‘মাদার ভলগা’ নামে।

জেনেট হার্টলি আন্তর্জাতিক ইতিহাস নিয়ে গবেষণা করেন। অধ্যাপনা করেন ইংল্যান্ডের লন্ডন স্কুল অফ ইকনমিকসে। হার্টলি ভলগা নদীর জন্ম থেকে শুরু করে নদীর সঙ্গে জড়ানো আরও অনেক অধ্যায় তুলে এনেছেন তার এই গবেষণা গ্রন্থে। একেবারে সপ্তম শতকে এই নদীর আবিষ্কারের পর থেকে ওই ভূখন্ডের তার্কিক নামে সম্প্রদায়ের লোকেরা উত্তর থেকে দক্ষিণে বয়ে যাওয়া এই নদীকে বাণিজ্য পথ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেছিলো। এই নদীকে সেই প্রাচীনকালে ব্যবহার করেছে ভাইকিংরাও। পশুর চামড়া, মধু, আর হাতির দাঁতের সন্ধানে তারা এই নদীবক্ষে ভেসে এসেছে।

জেনেট হার্টলি‘র বই জানাচ্ছে, ভলগা নদী সতেরো ও আঠারো শতকে রাশিয়ার বাণিজ্য বিকাশের ক্ষেত্রে বিশাল ভূমিকা রেখেছে বিভিন্ন পণ্য পরিবহণের ক্ষেত্রে। এই নদীর তীরেই গড়ে উঠেছে শিল্পনগরী।হার্টলি তারা ভলগা নদীর ওপর এই গবেষনায় দেখিয়েছেন কীভাবে একটি নদী রাশিয়াকে নানা জাতি ও শ্রেণীতে বিভক্ত করেছে।

রুশ সাহিত্যিকরা এই নদীকে তাদের লেখায় রুশ সংস্কৃতির একটি অংশ হিসেবে তুলে ধরেছেন গোটা উনিশ এবং বিশ শতক ধরে। রুশ কবিতা আর গানেরও সঙ্গী হয়েছে এই নদী বহু বছর ধরে।

জেনেট হার্টলির এই নদী উপাখ্যানে এসেছে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ইতিহাসও।স্ট্যালিনগ্রাদের সেই ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সময়ে এই নদীর তীরেই লাল ফৌজ রুখে দিয়েছিলো হিটলারের বাহিনীর যাত্রা।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য মস্কো টাইমস
ছবিঃ গুগল

 


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box