ভাঙা নাকের রহস্য

মিশর মানেই তো রহস্যময় পিরামিড আর মমিদের ঘরবাড়ি। আদিগন্ত মরুভূমির বুক জুড়ে রহস্যের ইশারা। মিশরিয় সভ্যতার সুলুক সন্ধান করতে আজো বিজ্ঞানীদের রাতের ঘুম হারাম। সুপ্রাচীন এই সভ্যতার বড় একটি অংশ জুড়ে আছে মূর্তি। এসব মূর্তির মধ্যে ফ্যারাওদের মূর্তি আছে প্রথম সারিতে। পাশাপাশি রয়েছে প্রাচীন মিশরীয়দের বহু দেব-দেবী এবং পশু-পাখির মূর্তি। বিজ্ঞানীরা এসব মূর্তি নিয়ে গবেষণা করতে করতে আবিষ্কার করেছেন এই মূর্তিগুলোর বেশিরভাগেরই নাক ভাঙা।

খনন কাজ চালিয়ে যেসব মূর্তি উদ্ধার করা হয়েছে সেগুলো সংরক্ষণ করা হয়েছে বিভিন্ন সংগ্রহশালায়। আর সেখানেই গবেষণা চালাতে গিয়ে বিজ্ঞানীরা আবিষ্কার করেছেন এই বিষয়টি। আর তাতেই ঘনিয়েছে রহস্য। দু-একটি মূর্তির নাক ভাঙা থাকলে ধরে নেয়া যেতো নিছক দূর্ঘটনা বলে। কিন্তু সব মূর্তির নাক ভাঙা থাকার বিষয়টা তো রহস্যময়।উত্তর খুঁজতে শুরু করলেন বিজ্ঞানীরা।আর অনুসন্ধানে বের হয়ে এলো অনুমান নির্ভর বেশ কিছু তথ্য।

প্রাচীন মিশরীয়রা পাথর, ধাতু বা কাঠ দিয়ে তৈরি মূর্তিগুলোকে কেবল জড়বস্তু মনে করতো না। তারা ভাবতো এই জড় পদার্থের মধ্যে আছে জীবন। আর এই জীবন যদি অশুভ মায়ার শক্তির দখলে চলে যায় তবে তারা বেঁচে থাকা মানুষের জন্য ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু মূর্তিকে তো আর হত্যা করা যায় না! তাই তারা খুঁজে বের করে এক অদ্ভুত পন্থা।মূর্তিগুলোর নিঃশ্বাস নেয়ার পথ বন্ধ করার জন্যই তারা এই নাক ভাঙার প্রথা চালু করে।অবশ্য এই ধারণা বিজ্ঞানীদের কাছে এখনো শুধুই অনুমান।

এই ধারার প্রচলন হতেই শুরু হয় মূর্তির নাক ভাঙা। মূর্তিগুলোকে বিকলাঙ্গ করে দিতে মিশরীয়রা এদের হাত-পা ভেঙে দিতে শুরু করে। তবে ইতিহাসবিদরা বলেন, মিশরীয় মূর্তির নাক ভাঙার সঙ্গে খানিকটা ধর্মীয় কারণও জড়িত রয়েছে। মিশরে খ্রিষ্ট ও মুসলিম ধর্মের প্রচলন ঘটলে এই মূর্তি বানানো এবং পূজার বিষযটা বাঁধাপ্রাপ্ত হয়। তখন মূর্তি যারা বানাতো তারাও আক্রান্ত হয় নানাভাবে। ফলে মূর্তি বানানোর ধারাটাই ক্ষীণ হয়ে আসতে থাকে। তখন বহু মূর্তি ভেঙেও ফেলা হয়। বিজ্ঞানীরা বলছেন, শুধু ধর্মীয় কারণে মূর্তি ভেঙে ফেলা হলে সেগুলো আর মাটির তলায় খুঁজে পাওয়া যেতো না। সমস্ত মূর্তি একেবারে বিনষ্ট করা হতো। তাই এই অপদেবতা বা অপশক্তির বিষয়য়ে তাদের ধারণাটা হয়তো সঠিক।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক

তথ্যসূত্র ও ছবিঃ বিবিসি নিউজ