ঝড়ের দোলাচলে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচ

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

আহসান শামীম

বাংলাদেশ এবং ভারতের মধ্যকার সিরিজের দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে ঘূর্ণিঝড় ‘মাহা’। খবরটা ছিলো পুরানো, তারপরও সব শঙ্কা দূর করেছিল দিন কয়েকের ঝলমলে রোদ। কিন্তু রাজকোটের দুয়ারে এসে হানা দিয়েছে ঝড়। আর সে ঝড়ের প্রভাবে  রাজকোটে ভারী বৃষ্টি শুরু হয়েছে। অনুমিত হচ্ছে এই বৃষ্টি মাঠে ম্যাচ গড়ানোর পথে বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারে।গতকাল মধ্যরাতে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত রাজকোটে ৮০ থেকে ১২০ কিলোমিটার বেগে ঝড় বয়ে যাচ্ছে। তবে আজ রাতে ম্যাচ অনুষ্ঠিত হওয়ার আশা ছাড়েননি আয়োজকরা।

পরিকল্পনা ছিলো রাজকোটের উইকেট শুষ্ক হলে একজন পেসারকে বিশ্রামে রেখে একাদশে একজন স্পিনার সংযুক্ত করতে পারে বাংলাদেশ।মাঠে  নামতে পারেন আরাফাত সানি বা তাইজুল ইসলাম।যদিও অধিনায়ক  মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ বা প্রধান কোচ ডামিঙ্গো কেউই উইনিং কম্বিনেশন ভাঙ্গার পক্ষে নন, শুধুমাত্র উইকেট ড্রাই থাকলেই তিন পেসারের পরিবর্তে দুই পেসার খেলানোর ভাবনা আছে টিম ম্যানেজমেন্টের মাথায়। তবে এখন ঝড়বৃষ্টির কারণে পরিকল্পনা পাল্টে যাবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে।

দিল্লীতে ভারতের বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি ম্যাচ জেতায় এখন দারুণ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ দল। সিরিজ জয়ের দিকেই মূল নজর অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের। অপরদিকে রোহিত শর্মার ভারতও সিরিজে ফিরতে মরিয়া। ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে জিততে হলে ম্যাচের প্রথম বল থেকেই ভালো ক্রিকেট খেলতে হবে বলে মনে করেন বাংলাদেশের অধিনায়ক।

দ্বিতীয় ম্যাচের আগে রাজকোটে এসে ভারতীয় লেগ স্পিনার চেহেল জানালেন, যেভাবে কথাবার্তা হচ্ছে সেরকম চাপ নেই ভারতের উপর।চেহেল বলেন, ‘এটা দ্বিপাক্ষিক সিরিজ, নক আউট আসর নয় যে আপনি ছিটকে গেলেন। অবশ্যই এক দল জিতবে, আরেকদল হারবে। বাংলাদেশ  সেদিন ভালো খেলে জিতেছে।’ ঘুরে দাঁড়ানোর প্রত্যয় চেহেলের কথাবার্তায়।

বৃহস্পতিবার ফয়সালা হয়ে যাবে চেহেলের কথা মতো ভারত ঘুরে দাঁড়াতে পারে কিনা।দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে ভারতীয় দলে থাকছে পরিবর্তন। এমনটাই ইঙ্গিত দিলেন ভারতীয় অধিনায়ক রোহিত শর্মা।

দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টির ভেন্যু সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের মাঠ। মাঠ থেকে আরব সাগরের দূরত্ব ১৯০ কিলোমিটার। প্রায়ই সাইক্লোনের কবলে পড়তে হয় গুজরাটের এই অঞ্চলকে। তবে বৃষ্টি হলেও স্টেডিয়ামের অত্যাধুনিক সুযোগ সুবিধার কারণে রাতের ম্যাচ শেষতকপণ্ড হবে না এমন আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

২০০৯ সালে রাজকোটের শহরতলীতে বানানো হয় আধুনিক এক ক্রিকেট স্টেডিয়াম। ২০১৩ সালে ভারত-ইংল্যান্ডের ওয়ানডে ম্যাচ দিয়ে মাঠের আন্তর্জাতিক ক্রিকেটেরও যাত্রা শুরু ।এক ওয়ানডে, দুই টি-টোয়েন্টি আর দুই টেস্ট হয়েছে এখানে। খেলে গেছে ইংল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আফ্রিকা, নিউজিল্যান্ড দল। এই মাঠে ভারতের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টুয়েন্টি ম্যাচে মুখোমুখী হবে বাংলাদেশ। সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক হিমাংশু শাহ জানালেন রঞ্জী ট্রফি, বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, মেয়েদের খেলা এসব নিয়েইেএই মাঠ ব্যাস্ত  থাকে বছরের ২০০ দিনই।

ইংল্যান্ডের বিখ্যাত লর্ডসের স্থাপত্যের আদল অনুকরণে বানানো এই মাঠে একসঙ্গে খেলা দেখতে পারেন ২৯ হাজার মানুষ। প্রেসবক্স অবিকল লর্ডসেরই মতো। তিন তলা বিশিষ্ট গ্যালারিতেও আছে লর্ডসের ছাপ। সবচেয়ে যা নজরকাড়া তা হলো ক্রিকেটারদের জন্য সুযোগ সুবিধা যা বাংলাদেশের কোন ক্রিকেট ভেন্যূতেই নাই।

সৌরাষ্ট্র ক্রিকেট স্টেডিয়ামের মূল করিডোরে  অনুশীলনের জন্যই একসঙ্গে তৈরি করা আছে ২৮টি নেট।নেটগুলোর উইকেটেও রাখা হয়েছে বৈচিত্র্য। কোন উইকেটে আছে ঘাস, কোনটা আবার ন্যাড়া। পরিস্থিতি বুঝে এক সাথে ২৮ জন ব্যাটসম্যান ও বোলার নিজেকে প্রস্তুত করার অনুশীলন চালাতে পারেন এখানে। বৈরী আবহাওয়াতেও অনুশীলন চালিয়ে যাওয়ার জন্য আছে  অত্যাধুনিক ইনডোর সুবিধা। মূল মাঠে বানানো আছে ১২টা উইকেট, আছে আধুনিক ড্রেনেজ সুবিধা। পরিচ্ছনতার দিক থেকেও দারুন ভাবে এগিয়ে।

ভারতে বিপক্ষে  ম্যাচের উইকেট ব্যাটিং সহায়ক হবে বলেই অনুমান করছেন বাংলাদেশ দলের প্রধান কোচ ডোমিঙ্গ। বাউন্সিং উইকেটে অনুশীলনে মিঠুনের থুথনিতে বলের আঘাতে একটা সেলাই দিতে হয়েছে।তারপরেও ফুরফুরে মেজাজেই মঙ্গল ও বুধবার  অনুশীলনে সময় কাটিয়েছে বাংলাদেশ। এখন বৃষ্টি আর ঝড় বাধ না সাধলেই হলো।

 ছবিঃ রাজকোট থেকে গোলাম ফারুক ফটিক

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]