ভালবাসার উপহার ভালবাসাই

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

ফারহানা নীলা

ভালবাসার উপহার বিষয়টি বস্তুগত অথবা অবস্তুগত… দুইই হতে পারে। আর ভালবাসা তো বিশালতা নিয়ে আছে আমাদের জীবনে। ছোট গণ্ডীতেই এভাবে আটকে ফেলে ভালবাসা, আমরা হয়তো ভালবাসার প্রকৃত স্বরূপ খুঁজে পাই না। ভালবাসার জন্য একটা খেদ থেকে যায়, আকুতি জমে শিশিরে চোখে।
অথচ কত ভালবাসাই তো ছুঁয়ে গেছে জীবন! স্কুলে যাবার পথে তালের শাঁস বিক্রেতা ভালবেসে বিনে পয়সায় শখের তালের শাঁস দিয়েছিলো একদিন। অথবা রিকশাওয়ালা ভাঙতি নেই বলে চল্লিশ পয়সা নেয়নি। কদবেল মাখা অথবা তেঁতুলের আচার দিয়েছিলো বন্ধু ক্লাশের ফাঁকে।
তরুণী হবার পর বন্ধুরা কেউ কেউ প্রেমপত্র এনে দিয়েছিলো অদেখা প্রেমিকের! ডাকপিওন এনে দিয়েছিলো কাঙ্ক্ষিত সেই চিঠি।
ভাই এনে দিয়েছিলো ভিউকার্ড, পূজোর গানের নতুন ক্যাসেট, অ্যালবামের জন্য ডাকটিকেট, মাসুদ রানার পরবর্তী বইটি।
বোন রেখেছিল সাজানো পুতুল, পুতুল বিয়ের দাওয়াত পত্র।
ভালবাসা চিনতে না পেরে আমরা কেবলই খুঁজে ফিরি ভালবাসা!

ক্লাশ এইটে পড়ি তখন। টাইফয়েড জ্বরে পৌনে দুমাস ভুগছি ভাইয়া আর আমি। বৃত্তি পরীক্ষা দিলাম কোনমতে। ফাইনাল পরীক্ষা দেওয়া হলো না। তখন জ্বর এলেই ভাত খাওয়া বারণ। সেই বছরই আমার প্রিয় ছোট মামা মারা গেলেন টাইফয়েড জ্বরে। ভাতের জন্য প্রাণ যায়। মিটসেফ খুলে লুকিয়ে ভাত আর তরকারি দেখি,ঘ্রাণ নেই। জ্বরের পর প্রথম একটু ভাত দিলো আম্মা সঙ্গে শিং মাছের ঝোল…. আহা অমৃত।

স্কুলে আম্মার সঙ্গে গেলাম। রেজাল্ট শুনে আম্মা ছোট্ট একটা চুমু দিয়েছিলো। লৌহ মানবী আম্মার কাছে পাওয়া আমার ভালবাসার উপহার।

১৯৯৬ সাল। জিগাতলায় থাকি। সন্ধ্যায় লেবার পেইন নিয়ে পিজি হাসপাতালে ভর্তি হলাম। সারারাতের ব্যথার পর সকালে মেয়ে এলো কোলে। আব্বা আম্মা তখন পাবনায়। ভাইয়েরা সবাই আমার সঙ্গে হাসপাতালে। ডেলিভারির পরে রাক্ষসের মতো ক্ষুধা আমার। মিনার নাস্তা কিনতে গেছে। তখন আমার বাড়ীর মালিক( আমরা ভাড়া থাকি) আমার জন্য পরোটা, ডিম ভাজি আর সব্জী নিয়ে এলেন। ভাবীর সঙ্গে কথা না বলে গোগ্রাসে খাচ্ছি আমি। এই ভালবাসা কোনোদিন ভুলি না।

মেয়ে পারমিতা তার প্রথম রোজগারের টাকা দিয়ে নিজ পছন্দে শাড়ী কিনে দিলো। ছেলে তীর্থ নিজ টাকায় অনলাইনে ঘড়ির অর্ডার দিলো। এসব আমার ভালবাসার উপহার।

একবার ঈদে মিনার দুটো আড়ংয়ের জামা কিনে দিয়েছিলো। আড়ংয়ের জামা তখন আমার কাছে স্বপ্ন ছিলো। কতদিন আড়ংয়ে গিয়ে নেড়েচেড়ে এসেছি,সাধ আর সাধ্যের দূরত্ব কমেনি।
তখন আলোহা নামে একটা দোকান ছিলো, কারুপল্লী, কুমুদিনী, পুনাক,টাঙ্গাইল শাড়ী কুটির…. সবই ছিলো উপহারের খনি।

উপহারের জন্য ভালবাসা নাকি ভালবাসার জন্য উপহার….. এই অমীমাংসিত বিষয়টা আজকাল খুব ভাবায়।
বস্তুগত নাকি অবস্তুগত…. উপহার আসলে কেমন?

আসলে এতদিনে জেনেছি… ভালবাসার উপহার ভালবাসা। ভালবাসাই কেবলমাত্র উপহারযোগ্য!

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]