ভালবাসার উপহার!

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

পোস্টবক্স। ফেইসবুকের একটি জনপ্রিয় গ্রুপ। এবার প্রাণের বাংলার সঙ্গে তারা গাঁটছড়া বাঁধলেন। প্রাণের বাংলার নিয়মিত বিভাগের সঙ্গে এখন থাকছে  পোস্টবক্স-এর রকমারী বিভাগ। আপনারা লেখা পাঠান পোস্টবক্স-এ। ওখান থেকেই বাছাইকৃত লেখা নিয়েই হচ্ছে আমাদের এই আয়োজন। আপনারা আমাদের সঙ্গে আছেন। থাকুন পোস্টবক্স-এর সঙ্গেও।

সুরঞ্জনা মায়া

ভালবেসে কেউ কোন উপহার দিলে সেটা কি ভালবাসার উপহার নয়? নাকি বিশেষ কোন ভালবাসার জন? আমার কাছে আমার সব ভালবাসার মানুষই বিশেষ। আব্বার লেখা চিঠি, আম্মার রান্না পায়েস, সযত্নে বিশেষ করে আমার জন্যই তুলে রাখা যমুনার পাঙাসের তেলালো পেটি, স্বামীর পছন্দের শাড়ী, ভাইয়ার পছন্দের বই, বোনের পছন্দের সালোয়ার কামিজ, মেয়ের ভালবাসায় রান্না মায়ের পছন্দের হাঁসভুনা, ছেলের দেয়া ল্যাপটপ, বাড়ি থেকে বয়ে নিয়ে আসা রাধুনি মেয়েটির চালের গুড়ি বা নকশি পিঠা। অদেখা ভার্চুয়াল জগতের বন্ধুর পাঠানো উপহার এসবই আমার কাছে ভালবাসার বিশেষ উপহার। তাই আলাদা করে কিছু লেখা অনেক কষ্টকর আমার মত আনাড়ি লেখকের জন্য। স্মৃতির জালে জাল ফেল্লাম, দেখি, কিছু ওঠে কিনা!

এক. আমার ছেলের স্মৃতিতে তার মায়ের গলায় আটপৌরে একটি হার আটকে ছিলো। যা কিনা সময়ের দাবীতে তার মায়ের গলা থেকে অনেক আগেই হারিয়ে গিয়েছিলো। যখন সে রোজগার শুরু করলো তখন থেকেই সে হার তার স্বপ্নে হানা দিতে শুরু করলো। অবশেষে একদিন হুবহু সেই হারটির মত একটি হার এনে মায়ের গলায় পরিয়ে দিলো।
দুই. আমার স্বামীর ঘুমকাতুরে স্বভাবের কারনে তাকে আমি কুম্ভকর্ণ ডাকতাম। সে কারো জন্মদিন সহ কোন বিশেষ দিনই মনে রাখতে পারতোনা। তাই কোন বিশেষ দিবসে তার হাতে কোন উপহার দেখতে পেলে বুঝতাম ডাল মে কুছ কালা হ্যায়! মানে, ছেলেমেয়েরা নিশ্চয়ই তাকে লুকিয়ে মনে করিয়ে দিয়েছে। ২০১৫ এর ১২ই ফেব্রুয়ারী ভারত ভ্রমনে গেলাম। মাত্র ২০১৪তে বাইপাস সার্জারি করে তার এই বেড়ানোতে আমার সায় ছিলোনা। যথারীতি তার নাছোরবান্দা জেদের কাছে পরাস্ত হতে হয়েছে। তার বক্তব্য- ” জানো, আমার হার্ট এখন পঁচিশের যুবকের”! অগত্যা পঁচিশের যুবকের সঙ্গে বেড়িয়ে পড়লাম। প্রথম চার/ পাঁচদিন কলকাতা ঘুরে দিল্লি যাবো এমনটাই ঠিক হলো। ১৪ তারিখ সকালে নাস্তা সেরে কুম্ভকর্ণ বল্লো – চলো বেড়িয়ে আসি। হোটেল থেকে বের হয়ে সোজা কলেজ স্ট্রিট। “দেজ” পাবলিশার্স এর সামনে গিয়ে বল্লো, -” তোমার ইচ্ছেমতো বই কিনো”! আমি তো অবাক! সব সময় আমার এই বই কেনা নিয়েই হুজ্জোত হতো। এতো বই কেন? এতো ওজন কেন? আর এবার না চাইতেই…..! বল্লাম, – ফেরার সময় কিনলে হতোনা? এখন এই গন্ধমাদন বোঝা নিয়ে ঘুরবো কি করে? বল্লো – আরে, চিন্তার কিছু নেই। হোটেলের ম্যানেজারের জিম্মায় রেখে যাবো। অনেক বই কিনেছিলাম। তপন রায়চৌধুরীর বাঙালনামা, অতীন বন্দ্যোপাধ্যায়ের নীলকন্ঠ পাখীর খোঁজে সিরিজের জনগন, মানুষের ঘরবাড়ি আরো অনেক…নাম মনে নেই।
২০১৬তে কুম্ভকর্ণ চিরকালের জন্য ঘুমিয়ে না পড়লে হয়তো এই উপহারের কথা তেমন করে মনে থাকতোনা। নাকি থাকতো? কে জানে!

ছবি: গুগল

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]