ভালোবাসার বৃষ্টি…

মাসুদুল হাসান রনি

ফেইসবুক এর গরম আড্ডা চালাতে পারেন প্রাণের বাংলার পাতায়। আমারা তো চাই আপনারা সকাল সন্ধ্যা তুমুল তর্কে ভরিয়ে তুলুন আমাদের ফেইসবুক বিভাগ । আমারা এই বিভাগে ফেইসবুক এ প্রকাশিত বিভিন্ন আলোচিত পোস্ট শেয়ার করবো । আপানারাও সরাসরি লিখতে পারেন এই বিভাগে। প্রকাশ করতে পারেন আপনাদের তীব্র প্রতিক্রিয়া।

ঘুম ভাঙলো লোকাল সময় সকাল ১১টায়।ভারী পর্দা সরিয়ে দেখি বাহিরে তুমুল বৃষ্টি। আমার জানালা থেকে দেখা যায় ডাউন টাউন। সেখানকার গগণচুম্বি দালানগুলো কাকতাড়ুয়ার মতন ঠায় দাঁড়িয়ে একা একা বৃষ্টিতে ভিজচ্ছে। এ বৃষ্টির সঙ্গে আমার দেশের বৃষ্টির কোন মিল খুজে পাই না। এ ঝরছেতো ঝরছেই, আবার নাই।আবার হুট করে এসে ভিজিয়ে দিচ্ছে। জানালা ছেড়ে বারান্দায় এসে দাড়াতে মন নিমিষেই দেশে চলে যায়।
আমার দেশের বৃষ্টি পড়ার একটা ছন্দ আছে।সঙ্গে মাটির সোদা গন্ধ ভেসে আসে। আহা কি অপরূপ সেই টাপুর টুপুর শব্দতুলে বৃষ্টিপড়া ! সেই ছন্দ আমি পৃথিবীর অন্যকোথাও খুজে পাইনি।প্যারিস,বার্লিন,ব্রাসেলস,তুলুজ, মাদ্রিদ,ওয়ারশ,পোজনান,মোয়াবা,ফ্রাংকফ্রুট, ভিজভাডেন, বন,আমাস্টারডাম,এন্টারপ্রেন, এন্ডোরা,লুক্সেমবার্গ, ইস্তাম্বুল, নিউইয়র্ক, ভার্জিনিয়া, টরন্টো কিংবা মন্ট্রিয়েল সবখানে দেখেছি ছিচকাদুনে বৃস্টি। বাংলাদেশের বৃষ্টির সঙ্গে কোন তুলনাই চলে না।আমার ধারনা বাংলাদেশের বৃষ্টি বেস্ট।
ছেলেবেলায় বৃষ্টিতে ভিজে প্যাক-কাদায় ঘন্টার পর ঘন্টা ফুটবল খেলার আনন্দ যে কি রকম ছিলো, তা এ বয়সে এসে রোমন্থন করে পুলকিত হই।একটু বড়বেলায় ক্যাম্পাসে বৃষ্টিতে কত যে ভিজেছি, রিক্সায় ঘুরেছি, দলবেধে খিচুড়ি খেতে গিয়েছি, এগুলো ভাবতেই মনটা কেমন কেমন করে ওঠে।
আমাদের কাছে বৃষ্টি মানে ছিল খিচুড়ি,মাংস,বেগুন ভাজা খাবারের উৎসব। সকালের দিকে বৃষ্টি হলে বাসায় কখনো বলতে হয়নি খিচুড়ি রান্নার কথা।মা-ই রেঁধে ফেলতেন। কাজের সুত্রে বাহিরে থাকলে নিউমেট্রো হলের পাশে মুজিবের খিচুড়ি, মতিঝিলের ঘরোয়ার ভুনি খিচুড়ি কিংবা কারওয়ান বাজারের কুকারস সেভেনের খিচুড়ির স্বাদ নিতে কখনোই ভুলতাম না। প্যারিসে বৃষ্টির দিন সকালে ঘুম ভাংগতো আমার ডাক্তার বোনের খিচুড়ি রান্নার মউ মউ ঘ্রানে।
বৃষ্টির দিন হলে খুব মনে পড়ে আমার এক সহপাঠিনী কানিজের কথা (পরবর্তীতে তার সঙ্গে হয়েছিল জীবনে প্রথম প্রেমের পাঠ নেয়া। )।
ঝিরিঝিরি বৃষ্টি নয়, তুমুল বৃষ্টি ছিল তার প্রিয়। আর আচার, গরুর মাংস দিয়ে খিচুড়ি ছিল তার একনম্বর পছন্দের খাবার। তার কারনেই আমার বৃষ্টির প্রতি প্রেম, ভালবাসা বেড়ে ওঠা।
প্রেমের সেই উত্তাল দিনগুলোতে বৃষ্টি এলেই হুড নামিয়ে রিক্সায় আমরা দু’জন ভিজতাম ক্যাম্পাসে। ভেজা কাপড় নিয়ে যেতাম ঘরোয়ায়। মানুষজন অবাক হয়ে তাকিয়ে দেখতো। কেউ কেউ আমাদের ভাবত পাগল !
সেই সহপাঠিনীর সঙ্গে নানান কারনে প্রেমটা টিকেনি।কিন্তু বৃষ্টির প্রতি ভালবাসা আজো রয়ে গেছে। আমরা দু’জন এখন একই দেশের দুই প্রভিন্সের দুই শহরে থাকি ।নিশ্চয় আমার মতন কানিজেরও এখানকার ছন্দহীন ছিচকাদুনে বৃষ্টি ভাল লাগার কথা না।

ছবি: মানজারে হাসিন মুরাদ, লেখক