ভালোবাসার শহর…৫

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

শারমিন শামস্

কপাল ভালো থাকলে আমাদের ছাদ থেকে মাউন্টেন রেঞ্জ দেখা যায়। নেপালে আমাদের বাসা ললিতপুরে। কাঠমান্ডু, ললিতপুর আর ভক্তপুর- এই তিনটা জেলা মিলে কাঠমান্ডু ভ্যালি। জেলা বললে যত বড় শোনায়, বিষয়টা আসলে তা না। নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু ছোট একটা শহর। আর একে ভাগ করে নেয়া হয়েছে ছোট ছোট এই তিনটা ভাগে। ললিতপুরের ঝামসিখেলে আমাদের বাসা। আমার বরের চাকরিসূত্রে এইখানে থাকা। কিন্তু ঢাকার মায়া আমি ছাড়তে পারিনি। ঢাকার সব কাজকর্ম গুটায়ে নিয়ে একেবারে চলে আসতেও পারিনি। তাই ঢাকাতেও আমাদের বাসা। ফলে যা হবার তাই। আমরা দুইজন থাকি দুই দেশে। কিন্তু মেয়েকে বগলদাবা করে মাসে মাসে কাঠমান্ডু যাই। কাঠমান্ডুতে আমার আলো ছায়া ঘেরা একটা বাসা আছে, এটা ভেবেই শান্তি শান্তি লাগে। কাঠমান্ডু আমার প্রিয় শহর।

ললিতপুরের তিনতলা বাসার দোতলায় আমরা থাকি। বিশাল টানা বারান্দায় টবে সেজান নানা রঙের ফুলগাছ লাগিয়েছে। বাসার সামনে বাড়িওয়ালির ডুপ্লেক্স। মাঝামাঝি লন ফুল আর গাছে ভরা। বেডরুম আর স্টাডিরুমের বিরাট জানালাগুলো খুললেই গাছের সবুজ সবুজ পাতার সতেজ পরশ পাওয়া যায়।

কারুপণ্যের দোকান

নভেম্বর থেকে নেপালে হাড়কাঁপানো শীত। কাঠমান্ডুতে দিনের বেলা তাপমাত্রা ১২ থেকে ১৩ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেড হলেও বিকাল পাঁচটার পড়েই ঝুপ করে শীত নেমে আসে। তাপমাত্রা নেমে যায় চার বা পাঁচে। আর ভোরের দিকে কখনও কখনও সেটা হয় দুই বা তিন। ডিসেম্বরে দুই একবার শূণ্যতেও নেমেছিল সম্ভবত। রুম হিটার চালিয়ে লেপের নিচে নিজেকে সপে দিয়ে কান টান সব ঢেকে ঘুমিয়ে ছিলুম। হায় রে! শীত আমি বড় ভয় পাই। আমার ভালোবাসার ঋতু বসন্ত। আর গরমের দেশের মানুষ বলে গ্রীষ্মে আমার মন ভালো থাকে।

জামসিখেল শান্তশিষ্ঠ কোলাহলহীন সাজানো গোছানো এলাকা। অধিকাংশ এক্সপাটদের বাস এইদিকে। আমাদের বাড়িওয়ালা নেপালী ব্যবসায়ী। তার স্ত্রী কলকাতার বাঙালি। আমাদের পেয়ে বেশ খুশি। বাড়িওয়ালির মালি এসে সেজানের বারান্দার বাগানেরও যত্ন নেয়। ফুল হয়েছে ঝাপিয়ে। বেশ লাগে দেখতে। সেজান নিজেও খুব আয়োজন করে পানি টানি দেয়া নিজের গাছে। ঢাকায় আমার বারান্দার বাগানে মাধুরীলতা, বাগানবিলাস আর হাস্নাহেনা আছে। বাকি সব নানান জাতের পাতাবাহার আর মানিপ্ল্যান্ট। গ্রিল বেয়ে মাধুরীলতা আর বাগানবিলাস উঠেছে ঝাঁপিয়ে।

ভাড়ের চা

নেপালে আমার পরিচিত কেউ নাই। উইক ডে মানে সোম থেকে শুক্রবার সকালে ঘুম থেকে উঠে সন্ধ্যা ছয়টা অবধি সেজানের অপেক্ষায় থাকি আমি আর মেয়ে। দুইজন মিলে দিন কাটে। কাঠমান্ডুর দিনগুলো তবু বড় আরামের আর শান্তির। ঘমু থেকে উঠের কিচেনে যাই। মেয়েকে দুধ আর কনফ্লেক্স দিয়ে বসিয়ে নিজে সসপ্যানে বসাই চা। উফ সে কি চা। নেপালী চা। আমার প্রিয় চায়ের ব্র্যান্ডের নাম টোকলা। টোকলা প্রিমিয়ারটা বেশি কড়া। লাল রঙের প্যাকেটখানা। উফ সে যে কী ঘ্রাণ। আমি পাগলপারা। পাহাড়ি পানিতে সেই চা ফুটিয়ে, নামানোর আগে নেপালী চায়ের মশলা একটু ছেড়ে, তারপর নেসলে এভরিডে দুধ একটু মিশিয়ে নেয়া। সাথে একটা মেথি পরোটা ভেজে নিয়ে রোদ্দুরে বসে খাওয়া। ইস জীবন! কাঠমান্ডুর শীত শীত দিনে আমার এই অবসর অবসর খেলা। আমি তোমাকে ভালোবাসি!

ছবি: লেখক

 

 

 

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]