ভালোবাসা যারে কয়…

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

মিলার আর মনরোর

মাত্র ৫ বছরেই উচ্ছন্নে গিয়েছিলো তাদের ভালোবাসা, গুটিয়ে গিয়েছিলো বিবাহিত জীবনের গল্প। প্রখ্যাত নাট্যকার আর্থার মিলার আর পৃথিবী বিখ্যাত অভিনেত্রী মেরিলিন মনরোর প্রেম জুড়ে যাবার সময়ই অনেকে মন্তব্য করেছিলেন-এ বিয়ে বেশিদিন টিকবে না। ১৯৫৬ সালে বিয়ে আর ১৯৬১ সালে এসে বিবাহ বিচ্ছেদ।কিন্তু ‘অল কোয়ায়েট ইন দ্য ওয়েস্টার্ন ফ্রন্ট’ উপন্যাসের লেখক এরিখ মারিয়া রেমার্ক ১৯৩৯ সালে স্থায়ী ভাবে আমেরিকায় বসবাস শুরু করার পর প্রেমে জড়িয়েছিলেন হলিউডে সেই সময়ের দুই সুন্দরী মেরিলিন দিয়াত্রিচ এবং গ্রেটা গার্বোর সঙ্গে। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে জাহাজে প্রথম দর্শনেই প্রেমে পড়েছিলেন জার্মান অভিনেত্রী মেরিলিন দিয়াত্রিচের। দার্শনিক ও সাহিত্যিক আলবেয়ার কামুর ভালোবাসার গল্প ছিলো ফরাসী মঞ্চ ও রূপালী পর্দার বিশিষ্ট অভিনেত্রী মারিয়া কাসারেস। মাত্র ১৫ বছর বয়সে বৃটিশ কিশোরী জ্যাকি কলিন্সের প্রেমে পড়েন দুনিয়া কাঁপানো অভিনেতা মার্লোন ব্রান্ডো। তখনও তিনি ৩২টি উপন্যাসের একটিও লেখেননি।

বিগত শতাব্দীতে পাশ্চাত্যের এমন বহু সাহিত্যকের সঙ্গে চলচ্চিত্রের অভিনেত্রী অথবা অভিনেতার প্রেমকাহিনি সাড়া ফেলেছিলো, হয়েছিলো সংবাদের শিরোনাম। তারপর উঠেছে ঝড়, ভেঙেছে সম্পর্ক, মুছে গেছে গভীর ভালোবাসার গল্প। শুধু রয়ে গেছে দাগ,খবরের ভগ্নাংশ আর ইতিহাসের বিবর্ণ হয়ে যাওয়া কিছু পৃষ্ঠা।

এবার প্রাণের বাংলার প্রচ্ছদ আয়োজনে সেইসব দাগ রেখে যাওয়া গল্প নিয়ে ‘ভালোবাসা যারে কয়’।

হেমিংওয়ে ও দিয়াত্রিচ

আর্থার মিলার ১৯৪৯ সালে ‘ডেথ অফ এ সেলসম্যান’ নাটকের জন্য পুলিৎজার পুরস্কার পেয়ে গেছেন। মনরো এই প্রতিভাবান নাট্যকারের প্রেমে জড়িয়ে গিয়েছিলেন।তারা দু’জন বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন প্রথম দেখারও ৫ বছর পরে। ১৯৫৬ সালে বিয়ের পর মিলার সাংবাদিকদের বলেছিলেন, ‘এখন থেকে মেরিলিন ১৮ মাস পর পর একটা করে সিনেমায় কাজ করবে। বাকিটা সময় সে আমাকে দেবে।’ কিন্তু মেরিলিন সে কথা রাখেননি। বিয়ের পর তিনি ‘প্রিন্স অ্যান্ড দ্য শো গার্ল’ ছবির শুটিং করতে চলে যান ইংল্যান্ডে। শোনা যায়, এক জার্মান আলোকচিত্রীর সঙ্গে আবারও সম্পর্ক তৈরি হয়েছিলো মেরিলিন মনরোর। অবশ্য তাদের বিবাহ বিচ্ছেদের কারণ হিসেবে ডিভোর্স নোটিশে লেখা হয়েছিলো বনিবনার অভাব। আসলেই দু’জনের জীবনের পথটা ছিলো একেবারেই আলাদা। এলোমেলো, বিশৃংখল মেরিলিন মনরো  আর আর্থার মিলারের সম্পর্ককে অনেকেই মেলাতে পারেনি তখন। বিবাহ বিচ্ছেদের বছর খানেক আগে আর্থার মিলার তার  একটি ছোটগল্প থেকে সিনেমার চিত্রনাট্য তৈরি করেছিলেন। নাম দিয়েছিলেন ‘মিসফিট’। ছবিতে মনরো অভিনয় করেছিলেন।শোনা যায়, তখন তাদের মানসিক দূরত্ব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছিলো যে, শুটিং ফ্লোরে তারা একে অপরের সঙ্গে কথাও বলতেন না।

কামু ও মারিয়া

পৃথিবী বিখ্যাত লেখকদের এই নায়িকা প্রীতির গল্প মনরো আর মিলারে এসেই শেষ নয়। আর্নেস্ট হেমিংওয়ে আর জার্মান অভিনেত্রী ও সঙ্গিতশিল্পী মেরিলিন দিয়াত্রিচের প্রেমের গল্পও এই পৃথিবীতে বিগত শতাব্দীতে সাড়া ফেলেছিলো। মেরিলিন মনরোর সঙ্গে আর্থার মিলারের দেখা হওয়ার ১৬ বছর আগে হেমিংওয়ে এবং দিয়াত্রিচের দেখা হয় এক জাহাজে। হেমিংওয়ে পূর্ব আফ্রিকা থেকে এক শিকার অভিযান শেষে ফ্রান্স হয়ে ফিরছিলেন আমেরিকায়। আর ডিয়াট্রিচ জার্মানীতে স্বজনদের সঙ্গে দেখা করে ফিরে যাচ্ছিলেন হলিউডে। জাহাজেই চার চোখের মিলন এবং পরিণতিতে প্রেম। এই যুগল একে অপরকে নিয়ম করে প্রেমপত্র লিখতে শুরু করেন যখন হেমিংওয়ের বয়স ৫০ আর দিয়াত্রিচ ৪৭। অসংখ্য চিঠি বিনিময় করেছিলেন এই যুগল। সেসব চিঠি থেকে বেছে কয়েক বছর আগে আমেরিকার বোস্টনের কেনেডি লাইব্রেরী ৫০টি প্রেমপত্র প্রকাশ করে। প্রেমিক হেমিংওয়ের গভীর আবেগ এবং শারীরিক আকর্ষণের প্রকাশ ঘটেছে সেই চিঠিগুলোতে। অবশ্য তাদের সম্পর্ক শেষ পর্যন্ত কোনো পরিণতিতে পৌঁছায়নি।চিঠির আগুন একটা সময়ে নিভে গিয়েছিলো।

আলবেয়ার কামু ফরাসী অভিনেত্রী মারিয়া কাজারকে প্রায় ৮’শ চিঠি লিখেছিলেন। এই চিঠিরাশি পরে সম্পাদনা করে বই হিসেবে প্রকাশ করেছেন কামু’র কন্যা ক্যাথারিন কামু। ১৯৪৪ সালের ৬ জুন কামুর সঙ্গে দেখা হয় মারিয়া কাজারের। তখন আলবেয়ার কামুর বয়স ৩০ বছর। কাজার দাঁড়িয়ে ২১ বছরে। তখন ফ্রান্সের উপকূলে মিত্রবাহিনী অবত

জ্যাকি কলিন্স

রণ করেছে। কিন্তু প্যারিস দখল করে আছে হিটলার। কামু তখন ছিলেন ফরাসী প্রতিরোধ বাহিনীর মুখপত্র ‘কমবেট’-এর সম্পাদক। সেই অবরুদ্ধ শহরেই অভিনেত্রীর সঙ্গে গোপনে দেখা করতেন কামু। কিন্তু তাদের সেই গবীর প্রণয়ের মাঝে বিচ্ছেদের রাত্রি নেমে এসেছিলো। মারিয়া ব্যস্ত হয়ে পড়েন তার ক্যারিয়ার নিয়ে। তাই কামু এক চিঠিতে মারিয়া কাজারকে লিখেছেন,‘ আমি যেখানেই যাই সেখানেই অনন্ত রাত্রিকে দেখতে পাই।’ ৪৬ বছর বয়সে মারা যান আলবেয়ার কামু। ১৯৫৯ সালে ভয়ংকর এক সড়ক দূর্ঘটনায় মৃত্যুর মাত্র পাঁচ দিন আগে মারিয়া কাজারকে লেখা চিঠিতে দেখা করার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন তিনি। কিন্তু সেই দেখা তাদের আর হয়নি। মারিয়া কাজার মারা যান ১৯৯৬ সালে।

মাত্র ১৫ বছর বয়সে প্রখ্যাত সাহিত্যিক জ্যাকি কলিন্স প্রেমে পড়েন হলিউডের আরেক সম্রাট মার্লোন ব্রান্ডোর সঙ্গে। তখনও জ্যাকি কলিন্সের লেখক জীবনের সূচনাই হয়নি। এক পার্টিতে সুন্দরী জ্যাকিকে দেখে ব্রান্ডো তার কাছে দূত পাঠান। দূত এসে জ্যাকির কানে কানে বলে যায়, ব্রান্ডো জানিয়েছেন, জ্যাকি দারুণ সুন্দরী। তিনি (ব্রান্ডো) আলাদা করে দেখা করতে চান জ্যাকির সঙ্গে। ব্রান্ডো ছিলেন এক রমণীমোহন পুরুষ। তাঁর চারপাশে অসংখ্য সুন্দরী রমণী তখন ঘুরে বেড়াচ্ছে। কিন্তু সেই ভিড়ের মধ্যে ব্রান্ডোর দৃষ্টি আটকে গিয়েছিলো জ্যাকি কলিন্সের ওপর।

জ্যাকি অবশ্য পরবর্তীকালে সেই প্রণয় কাহিনিকে ব্যাখ্যা করতে গিয়ে বলেন, ব্রান্ডোর সঙ্গে খুব অল্প সময়ে ভালোবাসা গড়ে উঠেছিলো। কিন্তু তিনি ছিলেন প্রেমিক পুরুষ। ওই সময়ে তার বহু বান্ধবী ছিলো। তবুও ব্রান্ডো তাকে নিয়ে লং ড্রাইভে যেতেন। জ্যাকি কলিন্স তার দিক থেকে ভালোবাসার টানকে স্কুল পড়ুয়া বালিকার ‘হৃদয় উচাটন’ বলে উল্লেখ করেন।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য মিরর, দ্য গার্ডিয়ান, উইকিপিডিয়া
ছবিঃ গুগল


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box