ভালোবাসা…

আরিয়ান বিন জায়ান

ভালোবাসার মানুষের সামনে সাধু সাজা আসলে একটা বিরাট ভুল। এ দুনিয়াতে কেউই সাধু না সুতরাং আপনিও না। সম্পর্কের ক্ষেত্রে প্রথমেই ভালোবাসার মানুষ কে নিজের ভালো খারাপ সব কিছুই খুলে বলা উচিত
– যে এই এই আমার ভালো দিক। আর এই এই খারাপ দিক। অতীতে এই এই করেছি। তুমি যদি ভালোবাস এই সব নিয়েই আমাকে ভালোবাস।

এইবার যে আপনাকে ভালোবাসবে সে ভালো খারাপ সবকিছু নিয়েই ভালোবাসবে। প্রথমে গোপন করে সাধু সাইজা পরে গিয়ে
– তুমি আমাকে বলো নাই কেন
কথাটা শুনার চাইতে এটা ভালো

আবার কাউকে ভালোবাসলে তার ভালো খারাপ সবকিছু নিয়েই ভালোবাসা উচিত। আপনি যদি এই ইল্যুশনে ভুগেন আমার ভালোবাসার মানুষটা হিমু অথবা অনিমেষের মত হবে
তাহলে আপনার জেনে রাখা উচিত
বাস্তবের দুনিয়াতে হিমু অথবা অনিমেষদের অস্তিত্ব নাই আর আপনিও রুপা অথবা মাধবীলতা না

বাস্তবের প্রেমিকদের দোষ গুণ থাকে। বাস্তবের প্রেমিকেরা রাত দুইটা বাজে গোলাপ নিয়া জন্মদিনের উইশ করতে আপনার বাসার সামনে দাড়ায় থাকবে না। কিছু করার নাই সারাদিন অফিসের পর এমন রোমান্টিসিজম মন চাইলেও শরীর চায়না।

আবার আপনি এইটাও আশা করতে পারেন না আপনার প্রেমিকা রুপার মতো নীল শাড়ি পরে গেট ধরে দাড়িয়ে থাকবে কিংবা মাধবীলতার মতো ত্যাগই করে যাবে আর এদিকে আপনে বিপ্লব করে যাবেন। লুতুপুতু বাংলা নাটকের মত বাস্তবের প্রেমিকারা অলটাইম সাজুগুজু করে

মোবাইলটারে উপরে নিয়ে চোখের ভ্রুকে উপরের দিকে ৪৫ ডিগ্রি বাকিয়ে আর কোমড়টাকে পেছনের দিকে ১৬০ ডিগ্রি বাকিয়ে এমাজনের এনাকোন্ডার মতো সেলফিও পাঠাতে পারবেনা।

কিছু করার নাই বাস্তবের বালিকারা পড়তে পড়তে ,ঘরের কাজ করতে করতে কিংবা দশটা পাচটা চাকরি ঠেলতে ঠেলতে রোমান্টিসিজমের মূলনীতি হারিয়ে ফেলে।

আবার সম্পর্কের ক্ষেত্রে চাহিদার ব্যাপারে একে অপরের কাছে সৎ থাকা উচিত। অনেকে প্রথমে আবার ডায়লগ ছাড়ে আমি তোমার মন চাই শরীর চাইনা। কয়দিন পর দেখা যায় মন শরীর সব নিয়েই পগার পাড়। সিরিয়াসলি ম্যান! শরীর চান না। অপজিট সেক্সের প্রতি এট্রাকশনের মেডিকেল সায়েন্স প্রমাণিত কারণ কে আপনে অস্বীকার করতে চান।

আমার এক বান্ধবী যার প্রেমিক তাকে এই দেহ চাইনা মন চাই ডায়লগ দিয়েছিলো। পরে দেখা গেছে ওই ছেলে আরেকজনের সঙ্গে রামলিলা করছে। মানেটা কি দাড়ায়, আমি তোমার মন চাই কিন্তু দেহ আবার অন্য একজনের চাই ।

ভালোবাসার সঙ্গে কল্পনার সম্পর্ক কমান বাস্তবের সম্পর্ক বাড়ান। ইল্যুশন দিয়ে অনুভূতি জাগে কিন্তু সম্পর্কের ফাউন্ডেশনটা হওয়া উচিত বাস্তব দিয়ে বানানো।

রোজাকার সংগ্রামে ভালোবাসা টাকে বুক পকেটে নিয়ে বেরিয়ে যান। ভালোবাসার মানুষের সঙ্গে শুধু ভালোবাসার কথা না ,বিভিন্ন সমস্যার কথা দিয়ে পারস্পরিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপিক হোক। দিনরাত সংগ্রামে সংগ্রামে গড়ে উঠুক ভালোবাসার ডুপ্লেক্স।
ভালোবাসা লেগে থাক অফিস ফেরত যুবকের কপালের ঘামে।
ভালোবাসা বেঁচে থাক তার পথ চেয়ে বসে থাকা প্রেমিকার আমরণ অপেক্ষার নামে।

ছবি: গুগল