ভালোবেসে সখি…

‘কাসাব্ল্যাংকা’ ছবিটাকে ভোটের দিনের অমোচনীয় কালির দাগের মতো বললে ভুল বলা হবে না বোধ হয়। সহজে দাগটা যেমন ওঠেনা তেমনি কাসাব্ল্যাংকাও দর্শকের মন থেকে যায় না। ১৯৪২ সালে নির্মিত সিনেমা আশি বছর বয়সেও সোল্লাসে জন্মদিন পালন করছে। ভোলা যায়নি, দর্শকরা আজও ভুলতে পারেননি এই অপূর্ব প্রেমের গল্প, ভোলা যায়নি উদ্বাস্তু মানুষের সম্পর্কের টানাপোড়েন।

এত বছর ধরে ‘কাসাব্যালংকা’কেন জনপ্রিয়? কেউ বলেন, এ এক অবিস্মরণীয প্রেমের গল্প;পর্দায় এমন ভালোবাসার কাহিনি আজও তৈরি হয়নি। হামফ্রে বোগার্ট আর ইনগ্রিড বার্গম্যানের অসাধারণ অভিনয় এই সিনেমাটিকে নিয়ে গেছে ভিন্ন উচ্চতায়। আবার কেউ বলেন, যুদ্ধে, সংঘাতে উদ্বাস্তু মানুষের গল্প এই ‘কাসাব্ল্যাংকা’। সেখানে জড়িয়ে আছে প্রেম, হতাশা, ফিরে না-পাওয়া আর ভয়ানক বিশ্বযুদ্ধ।

১৯৪২ সালে নির্মিত ছবিটি ৮০ বছরে পা রাখলো। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ চলাকালে আমেরিকায় সেট সাজিয়ে এই ছবির শ্যুটিং হয়। ১৯৪৩ সালে ছবিটি মুক্তি পায়। আর তখন থেকেই ছবিটি রয়ে গেছে ভিন্ন উচ্চতায়। চলচিত্রের কোনো কোনো সমালোচক এমনও মন্তব্য করেছেন, শুধু মাত্র চুম্বন দৃশ্যই এই সিনেমাটিকে অমরত্ব এনে দিয়েছে। খাতা কলমে এই সিনেমা পৃথিবীর সব চাইতে রোমান্টিক ছবির তালিকায় এক নম্বরে স্থান করে নিয়েছে। মজার বিষয় হচ্ছে ইনগ্রিড বার্গম্যান আর হামফ্রে বোগার্টের সেই বিখ্যাত চুম্বন দৃশটি চিত্রায়িত করা হয় বোগার্টকে একটি ছোট প্যাকিং বাক্সের উপর তুলে দিয়ে। কারণ তিনি উচ্চতায় বার্গম্যানের চাইতে ছোট ছিলেন।

এই ছবির শেষ দৃশ্যটিও দর্শকদের কাঁদাবে বহুদিন। দু’জন মানুষের ভালোবাসা কোথাও আর পরিণতি খুঁজে পায় না। রিক-কে বিদায় জানিয়ে স্বামীর হাত ধরে প্লেনে চড়ে বসে এলসা। আর হয়তো দেখা হবে না, কোনোদিন না। এই বিচ্ছেদই কিন্তু এই ছবির প্রাণ ভোমরা হয়ে রয়ে গেলো। কিন্তু সেই বিচ্ছেদ পর্বেও মিলনের ছোট্ট একটু গল্প লেখা হলো। রিক আর সেই ফরাসি পুলিশ প্রধানের মাঝে সূচিত হলো বন্ধুত্বের এক নতুন অধ্যায়। যে প্লেনটিতে চড়ে ইনগ্রিড বার্গম্যান ওরফে এলসা উড়ে গিয়েছিলেন সেটি কিন্তু তৈরি হয়েছিলো কাঠ দিয়ে। অন্ধকারে কয়েকজন মানুষ দড়ি বেঁধে সেই কাঠামোটিকে টেনে নিয়ে গিয়েছিলেন।

‘কাসাব্ল্যাংকা’ অসমাপ্ত প্রণয়ের গল্প, বিচ্ছেদেরও। তবুও দর্শকরা ৮০ বছর ধরে মনে রাখলো এই ছবিকে।

প্রাণের বাংলা ডেস্ক
তথ্যসূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
ছবিঃ গুগল  


প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না, তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]


https://www.facebook.com/aquagadget
Facebook Comments Box