ভালো থাকবেন হে সুরের পিয়াসী

  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  
  •  

কনকচাঁপা

লেখার কলম আমার কখনোই তার তারল্য হারায় না।লিখতে গেলে আমি আবেগপ্রবণ হই, কখনো রাগান্বিত কিন্তু কলম আমার যমুনার জলের মত চলতেই থাকে কিন্তু আজ? কাল রাতে মৌ এর সঙ্গে ফেসবুকের ম্যাসেঞ্জারে কথা হচ্ছিলো। ফাল্গুনী নন্দী মৌ সুবীরদার একমাত্র কন্যা। শেষ চিকিৎসায় মৌ তার বাবার সঙ্গে অবস্থান করছে।ওর সঙ্গে কথা বলতে বলতে আমার আশংকা হচ্ছিলো সুবীর দা আজকের রাতটা পেরোতে পারবেন না।মৌকে শক্ত হতে বললাম। কিন্তু ওকে আমি শক্ত হতে বলে নিজেই আর ঘুমাতে পারছিলাম না।প্রায় সারারাতই জেগে আধাঘুমে পার করে সেহরি খেতে উঠে ইচ্ছে করেই ফোন বন্ধ করে দিলাম। কারণ কোন দুঃসংবাদ নেয়ার মত শক্তি পাচ্ছিলাম না।

না আমি সুবীর দার মেয়ের বয়সী, না সুবীরদা আমার বাবার বয়সী কিন্তু আমাদের পারস্পরিক শ্রদ্ধা ছিলো বাবা মেয়ের মতো।উনার কাছে হারমোনিয়াম নিয়ে বসে কখনও কিছু শিখিনি বটে কিন্তু উনাকে আমি আমার অজান্তেই শিক্ষক এর জায়গায় স্থান দিয়েছি।কত অনুষ্ঠানে এক সঙ্গে গেয়েছি তা আসলেই অগুনতি। অনুষ্ঠানে সুবীরদা থাকলে আমি যে সেই অনুষ্ঠানে গাইবো তা আমার কাছে গৌন হয়ে শ্রোতা হিসাবে গান শোনাটাই মুখ্য হয়ে উঠতো।আমি ও আমার জীবনসঙ্গী সুরকার সংগীত পরিচালক জনাব মইনুল ইসলাম খান সাহেব বলাবলি করতাম যে উনার কন্ঠে কি আছে! উনি ও বলতেন আসলেই সুবীরদার কন্ঠে যেন অটো রিভার্ব ডিলে ইকো সব দেয়া আছে।দিনদিনই যেন তাঁর কন্ঠ আরো খুলে যাচ্ছিলো ! খুব সাদামাটা পোশাকে সাদামাটা ভংগীতে মঞ্চে গাইতে উঠলেই তাঁর কন্ঠ যাদু ছড়াতো প্রতিদিন ।বিক্ষিপ্ত শ্রোতারা সারিবদ্ধ হয়ে বসে যেতো সুবীরদার গান শুনতে।

 তিনি তাঁর সুমধুর কন্ঠে প্রেমের আবেগ, অনুরাগ, কটাক্ষ, দেশপ্রেম সব একত্রিত করে যেন মাখনে মেখে পরিবেশন করতেন। আমরা শিল্পীরা মধু তুলসীপাতা খাই গলা ঠিক রাখতে কিন্তু সুবীরদার কন্ঠটাই ছিলো মধুতুলসীর যোগ! উনি যত বড় শিল্পী ছিলেন ঠিক ততটাই নমনীয় মানুষ ছিলেন। কখনো কোন উপলক্ষে নিমন্ত্রণ করলে কি খুশী হয়ে স্বপরিবারে নিমন্ত্রণ গ্রহণ করতেন! এবং খুব আনন্দিত সময় কাটাতেন যেন এই নিমন্ত্রণের জন্য উনি অপেক্ষা করছিলেন। কখনই তারকা সুলভ ভঙ্গীতে উনি বলেননি না কনক আমার অমক কাজ আছে আসতে পারবো না।

 আমি কোন পুরস্কার পেলেই ফোনে আশীর্বাদ জানাতে ভুলতেন না।আমার পুরো পরিবারকে উনি খুব ভালবাসতেন। সারা বাংলাদেশ আজ একটি সুরেলা অধ্যায়কে হারালো যা আসলে অপূরণীয়। আমরা আর তাঁকে গাইতে দেখবো না এটা ভাবলেই আমি ঘেমে যাচ্ছি।আমি আর এতো চলে যাওয়া মেনে নিতে পারছিনা। একসঙ্গে সবাই চলে গেলে বেঁচে থাকার প্রেরণা পাবো কাদের কাছ থেকে! লেখাগুলো বা কথা গুলো নাটকীয় মনে হলেও আমি এভাবেই ভাবি। একের পর এক হারাচ্ছি আর হারাচ্ছি।আমি আর হারাতে চাইনা। আমার মন বড়ই ভারাক্রান্ত।

ছবি: গুগল

প্রাণের বাংলায় প্রকাশিত সব লেখা লেখকের নিজস্ব মতামত। লেখা সংক্রান্ত কোনো ধরনের দায় প্রাণের বাংলা বহন করবে না। প্রাণের বাংলার কোনো লেখা কেউ বিনা অনুমতিতে ব্যবহার করতে পারবেন না তবে সোশ্যাল মিডিয়াতে শেয়ার করতে পারবেন । লেখা সংক্রান্ত কোনো অভিযোগ অথবা নতুন লেখা পাঠাতে যোগাযোগ করুন [email protected]