ভুলে যাওয়ার অসুখ থেকে মুক্তির উপায়…

অনেক সময়ই আমরা অনেক কিছু ভুলে যাই। ক’দিন আগেই হয়ত কারো সঙ্গে দেখা হয়েছিল কথাও হয়েছিল৷ কিন্তু হঠাৎ কিছুতেই তার নাম, এমনকি তাকেই মনে করতে পারি  না৷  খুব যত্ন করে কোন কিছু তুলে রেখেছি কিন্তু কাজের সময় সেটাই খুঁজে পাওয়া যায় না কোথাও৷কখনও কারো সঙ্গে দেখা হলেও নাম মনে করতে অনেক সময় লেগে যায়। এরকম হলে ভয় পেয়ে বসে তবে কি এটাই অ্যালঝাইমার্সের পূর্বলক্ষণ৷ নাকি ছোটখাটো অবহেলার কারণেই এই অবস্থা? ভুলে যাওয়ার রোগ মানেই বড় অসুখ নয়৷ বরং ছোটখাট কিছু জিনিস খেয়াল রাখলেই এর প্রতিকার মেলে।

শব্দ নিয়ে খেলা

শব্দ নিয়ে খেলা করলেও ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা কম হয়৷  ।অনেকে মোবাইল,মেইল, ফেইসবুকে একই পাসওয়ার্ড ব্যবহার করে।আবার অনেকে  এক একটি শব্দের আদ্যাক্ষর দিয়ে পাসওয়ার্ড দেয় যে গুলো মিলিয়ে খুব প্রিয় কিছুর নাম হয় তাই যেন সহজেই মনে আসে। এরকম পাসওয়ার্ড থাকলে ভুলে যাওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই-ই৷ এটিএম পিনের ক্ষেত্রেও জীবনের এমনি গুরুত্বপূর্ণ কোনও সংখ্যা ব্যবহার করা যেতে পারে৷

লিখে ফেলাage19_2017_jan-3

লেখার অভ্যেস ভুলে যাওয়ার হাত থেকে আমাদেরকে বাঁচায়।ঠিক তাই পড়ার পর ছাত্রদের  যে কারণে লিখতে বলা হয় এখানেও সেই একই যুক্তি কাজ করে৷ কোনও দরকারি জিনিস মনে রাখার চেষ্টা না করে কোথাও লিখে রাখুন৷ পরে যদি হাতের কাছে লেখা কাগজটি নাও পান, তবু কী লিখেছেন মনে করতে গিয়ে  দেখবেন ঠিকই মনে পড়ে গেছে।

স্মৃতিকে চ্যালেঞ্জ করুন

ক্রসওয়ার্ড পাজল খেললে এরকম মস্তিষ্কের ব্যায়াম হয়। তাতে চ্যালেঞ্জ গ্রহণ করা যায় মস্তিষ্ককে৷  এতে অনেক ভুলে যাওয়া জিনিসও মনে পড়ে যায়৷

বারবার এক জিনিস বলা

এক কথা বারবার বললেও তা মনে থেকে যেতে বাধ্য৷তাই নতুন  কোনও নাম বা ঠিকানা  মনে রাখতে হলে বার বার সেই শব্দটি মনে মনে আউড়াতে থাকুন৷

লাইফস্টাইল

  কোলেস্টেরল, ব্লাড প্রেসার ও ব্লাড সুগারের মতো রোগ থাকলে রক্ত সঞ্চালনে সমস্যা হয়৷ এবং স্মৃতিশক্তিও কমে যায়৷সে ক্ষেত্র  চর্বি ও স্নেহপদার্থ জাতীয় খাবার এড়িয়ে যেতে হবে। স্মৃতিভ্রংশের জন্য অনেকাংশেই দায়ী লাইফস্টাইল৷ সুতরাং জীবযাপনের ধরন বদলালে কিন্তু সুরাহা মিলতে পারে৷

ধূমপান মদ্যপান

ধূমপানে নিকোটিন জমা হওয়ার ফলে রক্ত সঞ্চালন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়৷ এতে প্রভাব পড়ে স্মৃতিশক্তিতে৷ অন্যদিকে, যাঁরা মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপান করেন তাঁদের ক্ষেত্রেও স্মৃতিভ্রংশ রোগ দেখা দেয়৷ ফলে এ দুটো বিষয় যত এড়ানো যায় ততই মঙ্গল৷ এছাড়া পর্যাপ্ত ঘুম না হলেও ভুলে যাওয়ার রোগ দেখা যায়৷

ছবি: অনিরুদ্ধ দাস